মাঝরাতে বাড়িতে ঢুকে তল্লাশি চালানোর ঘটনায় এ বার ফলতা থানায় অভিযোগ দায়ের হল। বেআইনি ভাবে প্রবেশ, মারধর, শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলে থানায় গেলেন এক মহিলা। তাঁর অভিযোগ, রবিবার মাঝরাতে বাড়িতে ঢুকে পড়েন কয়েক জন। তাঁরা নিজেদের সিআরপিএফ জওয়ান বলে পরিচয় দেন। সেই বিষয় নিয়ে ফলতা থানায় অভিযোগ করেন ওই মহিলা। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ পর্যবেক্ষক ‘সিংহম’ অজয়পাল শর্মার তত্ত্বাবধানে এই ঘটনা ঘটেছে। সে দিন রাতের ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আর্জি জানানো হয়েছে।
রবিবার মধ্যরাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় অভিযান চালিয়েছিল পুলিশ। সেই অভিযানের প্রসঙ্গ টেনেই থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগকারিণীর দাবি, আদালতের কোনও আদেশ বা ওয়ারেন্ট ছাড়াই রাতে তাঁর বাড়িতে ঢুকেছিলেন সিআরপিএফ পরিচয়ধারী কয়েক জন। তাঁর স্বামীকে আটক করার উদ্দেশেই ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয় বলে অভিযোগ মহিলার। তাঁর আরও দাবি, যাঁরা এসেছিলেন, তাঁরা না কি বিজেপি-কে ভোট দেওয়ার জন্য জোর করেছেন। অন্যথায় ৪ মে-র পর এসে ক্ষতি করবেন বলেও হুমকি দিয়েছেন বলে থানায় জানিয়েছেন ওই মহিলা।
অভিযোগকারিণীর মতে, সে দিন রাতে যা ঘটেছিল, তা সম্পূর্ণ বেআইনি। সিআরপিএফ পরিচয়ধারীরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে শ্লীলতাহানি, শারীরিক নির্যাতন করেছেন বলেও অভিযোগ ওই মহিলার। অভিযোগপত্রে তিনি জানিয়েছেন, ওই ঘটনায় অজয়পালের সক্রিয় ভূমিকা ছিল। ওই ঘটনার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ওই মহিলা। তাঁর অভিযোগের প্রেক্ষিতে এফআইআর দায়েরের অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার থেকেই আলোচনায় অজয়পাল। উত্তরপ্রদেশের ‘সিংহম’ অজয়পালকে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে পুলিশ পর্যবেক্ষক করেছে নির্বাচন কমিশন। সোমবার তাঁর একটি ভিডিয়ো (যদিও ওই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম) প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে সামনে উপস্থিত মানুষদের উদ্দেশে ‘হুঁশিয়ারি’র সুরে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে অজয়পালকে। দাবি করা হচ্ছে, ভিডিয়োটি ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের বাড়ির কাছেই। সেখানে তৃণমূল প্রার্থীর পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশেও ‘বার্তা’ দিতে দেখা গিয়েছে। প্রকাশ্যে আসা ওই ভিডিয়োকে ঘিরেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে তৃণমূল। এ বার থানায় অজয়পাল এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হল।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত