Advertisement

নবান্ন অভিযান

‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদার, আমি এত উদার নই’! তারিখ দিয়ে ‘অত্যাচারের হিসাব’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি অভিষেকের

হরিজনপল্লি এলাকার বাসিন্দা জনৈকা সাথী ঘড়াই কুইলার দু’বছরের মেয়ে বিজেপির একটি পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেছিল বলে অভিযোগ ওঠে। কিন্তু একটি শিশুর ওই কাজের জন্য বিজেপির কয়েক জন কর্মী তার মায়ের উপর চড়াও হন বলে অভিযোগ। ওই ঘটনার নিন্দা করেন অভিষেক।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ২০:৩১
Abhishek Banerjee

সবংয়ের জনসভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।

তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদার। কিন্তু তাঁর মতো অতটা উদার তিনি নন। পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং থেকে এ ভাবেই বিজেপি-কে তোপ দাগলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এ-ও বলেন, সমস্ত অত্যাচারের হিসাব হবে আগামী ৪ মে ভোটের ফল ঘোষণার পরে।

গত বৃহস্পতিবার সবং বিধানসভা এলাকার হরিজনপল্লি এলাকার বাসিন্দা জনৈকা সাথী ঘড়াই কুইলার দু’বছরের মেয়ে বিজেপির একটি পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেছিল বলে অভিযোগ ওঠে। কিন্তু একটি শিশুর ওই কাজের জন্য বিজেপির কয়েক জন কর্মী তার মায়ের উপর চড়াও হন। মেয়ের সামনে মাকে হুমকি দেন, এমনকি, গায়েও হাত তোলেন বলেও অভিযোগ। ওই ঘটনায় সবং থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হয়। শুক্রবার সবংয়ের তৃণমূল প্রার্থী মানস ভুইঁয়ার সমর্থনে তেমাথানি পল্লিশ্রী মাঠের সভায় ওই প্রসঙ্গ টেনে আনেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘‘এই ঘটনায় আমরা অভিযোগ দায়ের করেছি। আট জন অভিযুক্তের মধ্যে এক জন গ্রেফতার হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উপরে আমার আস্থা আছে।’’ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘‘আমার কাছে সবার নাম রয়েছে। এখন প্রশাসন নির্বাচন কমিশনের অধীনে, প্রশাসন ঘটনার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ৪ তারিখের পরে এঁদের সবাইকে ওই মহিলা ও তার দু’বছরের ছোট্ট মেয়ের সামনে ক্ষমা চাইতে হবে।’’

অভিষেকের অভিযোগ, সিপিএম আশ্রিত ‘দুষ্কৃতীরা’ জার্সি পাল্টে এখন বিজেপি করছে। এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা নষ্টের জন্য দায়ী তারাই। তৃণমূল নেতা বলেন, ‘‘আমি সব অভিযুক্তের নাম রেখে দিয়েছি। আমি বিজেপির নেতাদের অনুরোধ করব, যদি ভাবেন লম্ফঝম্প করে এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করবেন, তা হলে ৪ তারিখের পরে রবীন্দ্র সঙ্গীতের সঙ্গে ডিজেও বাজবে।’’ তিনি এ-ও বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদার, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় উদার নয়। আমি অত উদার নই। যারা আমাদের উপর অত্যাচার করেছে, বাংলার ক্ষমতা কী, ৪ তারিখের পর তাদের বোঝাব।’’ তার পর অভিযুক্তদের নাম পড়ে পড়ে অভিষেক বলেন, ‘‘৪ মে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার গঠন হবে। এদের যদি ঘাড় ধরে সাথী আর তাঁর দু’বছরের মেয়ের পায়ের কাছে এনে ক্ষমা না-চাওয়াতে পারি, তা হলে আমি এক বাপের বেটা নই। আমার নাম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নয়।”

সবংয়ের তৃণমূল প্রার্থীর ভূয়সী প্রশংসা করে অভিষেক জানান, সবং এবং মানস ভুঁইয়া এখন সমার্থক। তিনি ৪৩ বছর ধরে জনসেবা করছেন। ছ’বারের বিধায়ক। এখনও বিনামূল্যে গরিব মানুষের চিকিৎসা করেন। অন্য দিকে, একদা মানসের ‘ছায়াসঙ্গী’ অমল পণ্ডা এ বার বিজেপির প্রার্থী। তাঁকে নিশানা করে অভিষেক বলেন, ‘‘বিজেপি প্রার্থী নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করতে নেমেছেন। তিনি কখনও কংগ্রেস, কখনও তৃণমূল তো কখনও বিজেপি।’’ তার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘‘অমিত শাহের যদি বুকের পাটা থেকে তা হলে ৪ তারিখ দুপুর ১২টার পর কলকাতায় থাকুন। খেলা শুরু করেছে বিজেপি, শেষ করব আমরা।’’

অন্য দিকে, অভিষেক তথা তৃণমূলের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে বিজেপি। তাদের দাবি, ভুয়ো অভিযোগ করা হচ্ছে। মানসের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অমল বলেন, ‘‘একটা ফেক (ভুয়ো) ভিডিয়ো ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে তৃণমূল। ভোটের আগে বিজেপির কিছু লোকের নামে মিথ্যা কেস দিতেই এই ভিডিয়ো ছড়িয়েছে ওরা।’’

পশ্চিম মেদিনীপুরের পর উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জের দলীয় প্রার্থী আনন্দ সরকারের সমর্থনে জনসভা করেন অভিষেক। সেখানে সন্দেশখালিকাণ্ড নিয়ে বিজেপি প্রার্থী রেখা পাত্রকে নিশানা করেন তিনি। তাঁর কথায়, “সন্দেশখালি, হিঙ্গলগঞ্জ, হাসনাবাদকে যারা গোটা দেশের সামনে ছোট করেছে, এই রেখা পাত্র ছিলেন তাঁদের নেত্রী। এ বার ভোটে তাঁকে উপযুক্ত জবাব দিতে হবে।”

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Abhishek Banerjee TMC BJP
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy