পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণ বুধবার। এই পর্যায়ে সাত জেলার মোট ১৪২টি বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ হবে। ২০২১ সালে এই আসনগুলিতে সম্মিলিত ভোটারের সংখ্যা ছিল ৩ কোটি ৫৫ লক্ষ ৯৯ হাজার ৪৫৮। সে বার ওই ১৪২টি কেন্দ্রে ৮১.১ শতাংশ ভোট পড়েছিল। ভোট দিয়েছিলেন ২ কোটি ৮৮ লক্ষ ৬৪ হাজার ৬৯২ জন ভোটার। তবে ২০২৬ সালে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর পর দ্বিতীয় দফার এই ১৪২টি আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ২১ লক্ষ ৭৫ হাজার ২৯৯। তার মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১ কোটি ৬৪ লক্ষ ৭৪ হাজার ৩০৬ এবং মহিলা ভোটার রয়েছেন ১ কোটি ৫৭ লক্ষ ৪০ হাজার ২১৬২ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৭৯২ জন।
এসআইআরে প্রথমে বিবেচনাধীন এবং পরে নাম বাদ পড়া জনতার একাংশ ভোটাধিকার ফেরানোর জন্য ট্রাইবুনালে আবেদন করেছিলেন। সেখান থেকে ‘যোগ্য’ হিসাবে ছাড় পেয়েছেন আরও ১,৪৬৮ জন ভোটার। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে এই ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন।
দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে চলছে চূড়ান্ত প্রস্তুতি। ছবি: পিটিআই
দ্বিতীয় দফার ১৪২টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে তফসিলি জাতি (এসসি)-র জন্য সংরক্ষিত রয়েছে ৩৪টি আসন এবং তফসিলি জনজাতি (এসটি)-র জন্য সংরক্ষিত রয়েছে একটি আসন। আয়তনে সবচেয়ে ছোট কেন্দ্র জোড়াসাঁকো, সবচেয়ে বড় কল্যাণী। তবে ভোটারের সংখ্যার ভিত্তিতে সবচেয়ে বড় কেন্দ্র হুগলি জেলার চুঁচুড়া। সেখানে ২.৭৫ লক্ষ ভোটার রয়েছেন। ভোটারের সংখ্যার নিরিখে সবচেয়ে ছোট কেন্দ্র উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়া। এই কেন্দ্রে ১.১৭ লক্ষ ভোটার রয়েছেন। প্রথম দফায় প্রবাসী ভোটার রয়েছেন ১৪৬ জন।
পরিসংখ্যান বলছে, দ্বিতীয় দফায় প্রতিবন্ধী ভোটারের সংখ্যা ৫৭ হাজার ৭৮৩। ৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সি ভোটার রয়েছেন ১.৯৬ লক্ষ। ১০০ বছর ও তার বেশি বয়সি ভোটারের সংখ্যা ৩,২৪৩। ১৮ থেকে ১৯ বছর বয়সি ৪.১২ লক্ষ ভোটার দ্বিতীয় দফায় প্রথম বার ভোট দেবেন।
মোট ৪১ হাজার একটি বুথে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ হবে। তার মধ্যে প্রধান বুথের সংখ্যা ৩৯ হাজার ৩০১। অতিরিক্ত বুথ রয়েছে এক হাজার ৭০০টি। কমিশন জানিয়েছে, প্রত্যেক বুথেই ভোটগ্রহণের সময় ওয়েব কাস্টিং চলবে। দ্বিতীয় দফায় আদর্শ বা মডেল বুথের সংখ্যা ২৫৮। মহিলা পরিচালিত বুথ থাকছে ৮,৮৪৫টি।
১৪২টি কেন্দ্রে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ১৪৪৮। তাঁদের মধ্যে মহিলা প্রার্থী ২২০ জন। কমিশনের তথ্য বলছে, ২০২১ সালের ভোটে এই ১৪২টি আসনের মধ্যে ১২৩টি আসনে তৃণমূল জিতেছিল। ১৮টি আসনে জিতেছিল বিজেপি। কেবল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় আসনে জিতেছিলেন আইএসএফ প্রার্থী নওশাদ সিদ্দিকি।
দ্বিতীয় দফার ভোটে ২,৩২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায়— ৫০৭ কোম্পানি। এর মধ্যে বারাসত পুলিশ জেলায় মোতায়েন করা হয়েছে ১১২ কোম্পানি বাহিনী। বনগাঁ পুলিশ জেলায় মোতায়েন করা হয়েছে ৬২ কোম্পানি বাহিনী। বসিরহাটে ১২৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকছে ভোটের দিন। বিধাননগরে ৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ব্যারাকপুরে থাকছে ১৬০ কোম্পানি। কলকাতায় বুথের সংখ্যা ৫,১৭২। ২৭৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকছে রাজ্যের রাজধানীতে।
প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রতিটি কোম্পানিতে অন্তত ৭২ জন করে জওয়ান থাকেন। আগেই এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করেছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। প্রত্যেক বাহিনীকে পাঠানো বার্তায় বলা হয়েছিল, কোনও কোম্পানিতেই যেন কর্মীসংখ্যা ৭২-এর কম না-হয়। প্রথম দফার ভোটে মোট ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করেছিল নির্বাচন কমিশন।
কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পুলিশ মিলে প্রায় ৫ লক্ষ কর্মী দ্বিতীয় দফার ভোটের কাজে নিযুক্ত হয়েছেন। ভোর সাড়ে ৫টা থেকে শুরু হয়ে যাবে মকপোল। ভোটগ্রহণ শুরু হবে সকাল ৭টায়, শেষ হবে সন্ধ্যা ৬টায়।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত