ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী হিসাবে বৃহস্পতিবার মনোনয়ন দাখিল করবেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই পর্বে তাঁর সঙ্গী হবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বুধবারই কলকাতায় চলে আসছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘খাসতালুক’ তথা ভবানীপুরে রোড শো করে মনোনয়ন দাখিল করবেন শুভেন্দু। সঙ্গে থাকবেন শাহ। আনন্দবাজার ডট কম আগেই এ কথা জানিয়েছিল। এ বার আনুষ্ঠানিক ভাবে তা জানিয়ে দিল বিজেপি। ভবানীপুরে আগামী দিনে কর্মসূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীরও।
বিজেপি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার হাজরা মোড় থেকে ১২টা নাগাদ রোড শো শুরু হবে শাহ এবং শুভেন্দুর। রোড শো শেষে সার্ভে বিল্ডিংয়ে মনোনয়ন জমা দেবেন বিরোধী দলনেতা। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, সার্ভে বিল্ডিংয়ের ২০০ মিটার আগে থেমে যাবে গাড়ি। তার পরে পায়ে হেঁটে শাহের সঙ্গে মনোনয়ন জমা দিতে যাবেন শুভেন্দু।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন, শুভেন্দু নিজেই মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামতে চেয়ে ভবানীপুরে প্রার্থী হওয়ার আর্জি জানিয়েছিলেন। রাজ্যের বিরোধী দলনেতার সেই সিদ্ধান্তে ভবানীপুর এমনিই সরগরম। এ বার ভবানীপুরের জন্য শুভেন্দুর মনোনয়ন জমা দেওয়ার মিছিলে শাহের উপস্থিতির কারণে লড়াই শুধু মমতা বনাম শুভেন্দু থাকবে, না কি শাহও পরোক্ষে সে লড়াইয়ের অংশীদার হয়ে যাবেন, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে।
শুধু শাহের কর্মসূচি নয়, ভবানীপুরে প্রধানমন্ত্রী মোদীর কর্মসূচিও আগেই নির্ধারিত হয়েছে। প্রচারের শেষ লগ্নে মোদী কলকাতায় রোড শো করবেন বলে বিজেপি সূত্রে আগেই জানানো হয়েছিল। সে রোড শো যে ভবানীপুর ছুঁয়েই যাবে, তা-ও জানানো হয়েছিল। এ বার সেখানে উপস্থিত থাকছেন শাহও।
আরও পড়ুন:
-
ঘরোয়া এলপিজির পরে এ বার কলকাতায় দাম বাড়ল বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের! ২১৮ টাকা বৃদ্ধি প্রতি সিলিন্ডারে, দিতে হবে কত?
-
‘ডবল ইঞ্জিনের বাস্তবতা বালুরঘাটের মানুষ সবচেয়ে ভাল জানেন’! সভায় স্থানীয় সাংসদ সুকান্তকে কটাক্ষ অভিষেকের
-
কাঠগড়ায় সিপি অজয়! অনাস্থা প্রকাশ শুভেন্দুর, সিইও দফতর ঘিরে অশান্তির ঘটনায় হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন খোদ মনোজও
ভবানীপুর আসনে মমতা বনাম শুভেন্দুর লড়াইকে বিজেপি যে এ বারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় ‘রাজনৈতিক ঘটনা’ হিসাবে তুলে ধরতে চাইছে, তা নিয়ে সংশয় নেই। সংশয়ের অবসান অবশ্য গত ২৮ মার্চই ঘটে গিয়েছিল। সে বার্তা দিয়েছিলেন শাহ। মমতার ১৫ বছরের শাসনকালের বিরুদ্ধে ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করতে সে দিন কলকাতায় ছিলেন তিনি। সেই মঞ্চে শাহের বক্তব্যে তিন বার শুভেন্দুর নাম উচ্চারণ করেন। তিন বারই হয় রাজ্যে বিজেপি-কে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রশ্নে, নয়তো তৃণমূলের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার প্রসঙ্গে। রাজ্য বিজেপির আর কোনও নেতার নাম সে দিন শাহের মুখে শোনা যায়নি। মুখ্যমন্ত্রী মুখ হিসাবে কারও নাম ঘোষণা না-করলেও শুভেন্দু যে সবচেয়ে ‘গুরুত্বপূর্ণ মুখ’, তা স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন শাহ।
শুভেন্দুর পাশে থাকতে ইতিমধ্যে বিজেপি ময়দানে নামিয়েছে শমীক এবং প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে। সোমবার হলদিয়ায় গিয়ে শুভেন্দু নন্দীগ্রাম আসনের বিজেপি প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দাখিল করেছেন। শুভেন্দুর মনোনয়ন পেশ পর্ব যে একটি ‘বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা’, সে কথা প্রমাণ করতে বিজেপি চেষ্টার ত্রুটি রাখেনি। রবিবার থেকেই সে চেষ্টা শুরু হয়েছিল। কলকাতায় ৬ নম্বর মুরলীধর সেন লেনে বিজেপির রাজ্য দফতরে সাংবাদিক বৈঠক ডেকে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক দলের প্রতীক সংক্রান্ত নথি তুলে দেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দুর হাতে। সোমবার শুভেন্দু যখন রথের আদলে তৈরি ট্রাকে চেপে মনোনয়ন জমা দিতে যাচ্ছিলেন, পাশে ছিলেন দিলীপ। ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানও। ভবানীপুরে এ বার শুভেন্দুর সঙ্গী হবেন খোদ শাহ।