Advertisement

নবান্ন অভিযান

ভবানীপুরে শুভেন্দুর মনোনয়ন পেশের সঙ্গী হবেন অমিত শাহ! আনুষ্ঠানিক ভাবে জানাল বিজেপি, হবে রোড শো

বিজেপি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার হাজরা মোড় থেকে ১২টা নাগাদ রোড শো শুরু হবে শাহ এবং শুভেন্দুর। রোড শো শেষে সার্ভে বিল্ডিংয়ে মনোনয়ন জমা দেবেন শুভেন্দু।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২৬ ২৩:৪৫
(বাঁ দিকে) অমিত শাহ। শুভেন্দু অধিকারী (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) অমিত শাহ। শুভেন্দু অধিকারী (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী হিসাবে বৃহস্পতিবার মনোনয়ন দাখিল করবেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই পর্বে তাঁর সঙ্গী হবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বুধবারই কলকাতায় চলে আসছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘খাসতালুক’ তথা ভবানীপুরে রোড শো করে মনোনয়ন দাখিল করবেন শুভেন্দু। সঙ্গে থাকবেন শাহ। আনন্দবাজার ডট কম আগেই এ কথা জানিয়েছিল। এ বার আনুষ্ঠানিক ভাবে তা জানিয়ে দিল বিজেপি। ভবানীপুরে আগামী দিনে কর্মসূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীরও।

বিজেপি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার হাজরা মোড় থেকে ১২টা নাগাদ রোড শো শুরু হবে শাহ এবং শুভেন্দুর। রোড শো শেষে সার্ভে বিল্ডিংয়ে মনোনয়ন জমা দেবেন বিরোধী দলনেতা। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, সার্ভে বিল্ডিংয়ের ২০০ মিটার আগে থেমে যাবে গাড়ি। তার পরে পায়ে হেঁটে শাহের সঙ্গে মনোনয়ন জমা দিতে যাবেন শুভেন্দু।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন, শুভেন্দু নিজেই মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামতে চেয়ে ভবানীপুরে প্রার্থী হওয়ার আর্জি জানিয়েছিলেন। রাজ্যের বিরোধী দলনেতার সেই সিদ্ধান্তে ভবানীপুর এমনিই সরগরম। এ বার ভবানীপুরের জন্য শুভেন্দুর মনোনয়ন জমা দেওয়ার মিছিলে শাহের উপস্থিতির কারণে লড়াই শুধু মমতা বনাম শুভেন্দু থাকবে, না কি শাহও পরোক্ষে সে লড়াইয়ের অংশীদার হয়ে যাবেন, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে।

শুধু শাহের কর্মসূচি নয়, ভবানীপুরে প্রধানমন্ত্রী মোদীর কর্মসূচিও আগেই নির্ধারিত হয়েছে। প্রচারের শেষ লগ্নে মোদী কলকাতায় রোড শো করবেন বলে বিজেপি সূত্রে আগেই জানানো হয়েছিল। সে রোড শো যে ভবানীপুর ছুঁয়েই যাবে, তা-ও জানানো হয়েছিল। এ বার সেখানে উপস্থিত থাকছেন শাহও।

ভবানীপুর আসনে মমতা বনাম শুভেন্দুর লড়াইকে বিজেপি যে এ বারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় ‘রাজনৈতিক ঘটনা’ হিসাবে তুলে ধরতে চাইছে, তা নিয়ে সংশয় নেই। সংশয়ের অবসান অবশ্য গত ২৮ মার্চই ঘটে গিয়েছিল। সে বার্তা দিয়েছিলেন শাহ। মমতার ১৫ বছরের শাসনকালের বিরুদ্ধে ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করতে সে দিন কলকাতায় ছিলেন তিনি। সেই মঞ্চে শাহের বক্তব্যে তিন বার শুভেন্দুর নাম উচ্চারণ করেন। তিন বারই হয় রাজ্যে বিজেপি-কে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রশ্নে, নয়তো তৃণমূলের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার প্রসঙ্গে। রাজ্য বিজেপির আর কোনও নেতার নাম সে দিন শাহের মুখে শোনা যায়নি। মুখ্যমন্ত্রী মুখ হিসাবে কারও নাম ঘোষণা না-করলেও শুভেন্দু যে সবচেয়ে ‘গুরুত্বপূর্ণ মুখ’, তা স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন শাহ।

শুভেন্দুর পাশে থাকতে ইতিমধ্যে বিজেপি ময়দানে নামিয়েছে শমীক এবং প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে। সোমবার হলদিয়ায় গিয়ে শুভেন্দু নন্দীগ্রাম আসনের বিজেপি প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দাখিল করেছেন। শুভেন্দুর মনোনয়ন পেশ পর্ব যে একটি ‘বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা’, সে কথা প্রমাণ করতে বিজেপি চেষ্টার ত্রুটি রাখেনি। রবিবার থেকেই সে চেষ্টা শুরু হয়েছিল। কলকাতায় ৬ নম্বর মুরলীধর সেন লেনে বিজেপির রাজ্য দফতরে সাংবাদিক বৈঠক ডেকে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক দলের প্রতীক সংক্রান্ত নথি তুলে দেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দুর হাতে। সোমবার শুভেন্দু যখন রথের আদলে তৈরি ট্রাকে চেপে মনোনয়ন জমা দিতে যাচ্ছিলেন, পাশে ছিলেন দিলীপ। ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানও। ভবানীপুরে এ বার শুভেন্দুর সঙ্গী হবেন খোদ শাহ।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy