‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের বাস্তবতা সবচেয়ে ভাল বোঝেন বালুরঘাটের মানুষ জনই। সেখানে মঙ্গলবার প্রচারে গিয়ে এ ভাবেই বালুরঘাটের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারকে কটাক্ষ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দাবি করলেন, স্থানীয় মানুষজনের জন্য কিছুই করেননি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। এর পরে মুদ্রাস্ফীতি, রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি থেকে এসআইআর— বিভিন্ন বিষয়ে বিজেপির দিকে আঙুল তোলেন তিনি। সেই সঙ্গে তুলে ধরেন রাজ্য সরকারের কাজের খতিয়ান।
মঙ্গলবার বালুরঘাটে তৃণমূলের প্রার্থী অর্পিতা ঘোষের হয়ে প্রচার করেন অভিষেক। সেই প্রচারসভায় তিনি কটাক্ষ করেন বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্তকে। তাঁর কথায়, ‘‘তারা ডবল ইঞ্জিন সরকারের কথা বলে, কিন্তু এই ডবল ইঞ্জিনের বাস্তবতা বালুরঘাটের মানুষের সবচেয়ে ভাল জানা রয়েছে। গত সাত বছর ধরে বালুরঘাটে বিজেপির সাংসদ রয়েছেন যিনি, তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও। তা সত্ত্বেও তিনি বালুরঘাটের মানুষের জন্য কোনও অতিরিক্ত উন্নয়নমূলক প্রকল্প আনতে পারেননি— না তিনি, না অন্য কোনও বিজেপি নেতা।’’
এর পরেই অভিষেক জানান, তিনি নিজের রিপোর্ট কার্ড নিয়ে এসেছেন। বিজেপি-ও তা-ই করুক। তাঁর কথায়, ‘‘যখন তারা প্রচারে আসবে, তাদের কাছে রিপোর্ট কার্ড চাইবেন। সুকান্ত মজুমদার এবং অন্যান্য বিজেপি নেতাদের বলুন, তাদের রিপোর্ট কার্ড আনতে। আর আমরা আমাদেরটা আনব। কে মানুষের জন্য কী করেছে, তা আমরা দেখিয়ে দেব।’’ অভিষেক আরও বলেন, ‘‘আমাদের অধীনে মানুষ অনেক প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন, বিজেপি গত ১২ বছর ধরে ক্ষমতায় রয়েছে এবং মুদ্রাস্ফীতি ঘটানো ছাড়া মানুষের জন্য কিছুই করেনি।’’
আরও পড়ুন:
এর পরে একে একে তৃণমূল সরকারের কাজের খতিয়ান তুলে ধরেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘‘দীর্ঘ দিন ধরে এখানকার মানুষ একটি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি জানিয়ে আসছেন, কিন্তু বিজেপি সেই দাবি পূরণ করেনি। জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণ-সহ মানুষের দাবির বিষয়ে সুকান্ত মজুমদার সংসদে এক বারও সোচ্চার হননি। এই কারণেই আমরা তাদের বাংলা বিরোধী, দিল্লির চাকর বলি।’’ তিনি আরও জানান, রাজ্যে বিজেপি জিতলে প্রতিটি সিদ্ধান্তের জন্য তাদের দিল্লির নেতাদের অনুমতি নিতে হবে। লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রসঙ্গেও বিজেপি-কে আক্রমণ করেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘‘সুকান্ত মজুমদার দাবি করেন, তাঁরা ক্ষমতায় এলে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা বাড়িয়ে দেবেন। অসম, ত্রিপুরা, গুজরাত, রাজস্থান এবং মধ্যপ্রদেশ-সহ ১৫টি রাজ্যে বিজেপি শাসন করছে। আমি তাদের চ্যালেঞ্জ করছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো অন্তত একটি বিজেপি-শাসিত রাজ্যে সকল মহিলার জন্য একই ধরনের প্রকল্প চালু করে দেখাক। তারা যদি পারে, আমি আর কখনও এখানে ভোট চাইতে আসব না।’’
অভিষেক কটাক্ষ করেন, বিজেপি আদতে পশ্চিমবঙ্গে বিহার এবং উত্তরপ্রদেশ থেকে ভোটার প্রবেশ করাচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্য ‘সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধ্বংস’ করা। রাজ্যের ২ লক্ষ কোটি টাকা ‘পাওনা’ মিটিয়ে দেওয়ার দাবিও তোলেন তিনি। অভিষেক মনে করিয়ে দেন, ধূপগুড়িকে মহকুমা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তৃণমূল সরকার। তা পূরণ করা হয়েছে। তার পরেই তিনি বলেন, ‘‘বালুরঘাট থেকে অর্পিতা ঘোষ জিতলে আমরা স্থানীয় হাসপাতালটিকে মেডিক্যাল কলেজে উন্নীত করার বিষয়ে অগ্রাধিকার দেব।’’ পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, ‘‘এখানে একটি হিমঘরের চাহিদা রয়েছে। রাজ্য বাজেটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন যে, রাজ্য জুড়ে ৫০টি হিমঘর স্থাপন করা হবে। আমরা চতুর্থ বার ক্ষমতায় ফিরলে নিশ্চিত করব, এই জেলায় অন্তত দু’টি হিমঘর যাতে তৈরি হয়।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
২০:২৯
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল টিএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার? -
১৯:১৭
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা -
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত