বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক পর্যাপ্ত না থাকা সত্ত্বেও কি প্রভাব খাটিয়ে কোনও শিক্ষক বদলি হয়েছেন? বদলির পরে কি আদৌ ওই শূন্যপদ পূরণ হয়েছে?
বিগত বছরগুলিতে কোন স্কুলে কী ভাবে ‘সিঙ্গল সাবজেক্ট টিচার’ বদলি হয়েছেন, তার তথ্য চেয়ে পাঠাল স্কুলশিক্ষা দফতর। ইতিমধ্যে স্কুল সার্ভিস কমিশনের তরফ থেকে প্রতিটি জেলাস্কুল পরিদর্শককে সব তথ্য সংগ্রহ করে রিপোর্ট পাঠাতে বলা হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন শিক্ষকদের একাংশ।
প্রায় চার বছর বন্ধ থাকার পরে, বুধবার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী বদলির উৎসশ্রী পোর্টাল চালু করেছে রাজ্য সরকার। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ওই পোর্টাল বন্ধ হয়। পরে ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদন নেওয়া হলেও, পরবর্তীতে তা-ও বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর পরে আপস বদলির আবেদন নেওয়া হলেও কোনও বদলি হয়নি বলেই জানাচ্ছেন শিক্ষকেরা। তার মধ্যেই গত বুধবার ফের ওই পোর্টাল চালু করে সরকার। কিন্তু দফতর সূত্রের খবর, অতীতে কোন কোন ‘সিঙ্গল সাবজেক্ট টিচার’ বদলি হয়েছেন সেই তথ্য সংগ্রহ করার কাজ শুরু হয়েছে।
কোন শিক্ষকেরা ‘সিঙ্গল সাবজেক্ট টিচার’? তাঁদের বদলি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ কেনই বা গুরুত্বপূর্ণ?
বিকাশ ভবনের এক কর্তা জানান, কোনও স্কুলে একটি বিষয়ের যদি একজন শিক্ষক থাকেন, সেক্ষেত্রে ওই শিক্ষকই হন ‘সিঙ্গল সাবজেক্ট টিচার’। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে ওই শিক্ষকই একমাত্র ভরসা। এই সব শিক্ষকদের বদলির ক্ষেত্রে পৃথক নিয়ম চালু রয়েছে। প্রথমত এই ধরনের শিক্ষকদের বদলির প্রক্রিয়াটি একটু জটিল, কারণ ওই শিক্ষক বদলি হয়ে গেলে তার প্রভাব পড়ে সরাসরি ছাত্রছাত্রীদের উপরে। তাই নিয়ম অনুযায়ী ওই শিক্ষক তখনই বদলির অনুমতি পাবেন, যদি জেলা স্কুল পরিদর্শক ওই শিক্ষকের জায়গায় অন্য কোনও শিক্ষককে দায়িত্ব দিতে পারেন। না হলে বদলির কোনও সম্ভাবনা নেই।
কিন্তু শিক্ষকমহলের একাংশের অভিযোগ, প্রভাব খাটিয়ে নিয়মকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ‘সিঙ্গল সাবজেক্ট টিচার’-দের একাংশ বদলি হয়েছেন। নতুন সরকারের স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন বিকাশ ভবনে দফতরের দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই জানিয়েছিলেন যে, ছাত্র ও শিক্ষকের অনুপাতের যে অসামঞ্জস্য আছে, সেটা আগে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে। সম্প্রতি জাতীয় গ্রন্থাগারে বিজেপি শিক্ষক সেলের এক অনুষ্ঠানেও এই অসামঞ্জস্য অনুপাতের কথা উল্লেখ করেন তিনি। শিক্ষকেরা মনে করছেন, এই অসামঞ্জস্যের একটা বড় কারণ এই ধরনের বদলি। তার উপরে রয়েছে স্পেশ্যাল বদলিও। তাই শিক্ষকদের অভিমত, সব কিছুই তদন্তের আওতায় আসুক। যদিও ‘সিঙ্গল সাবজেক্ট টিচার’দের এই বদলির নিয়ম আদৌ চালু থাকবে কি না, সেটা নিয়েই আলোচনা শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন:
বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানাই। ছাত্র-শিক্ষক অনুপাতের ক্ষেত্রে সামঞ্জস্য ফেরাতে হলে অবশ্যই অতীতের এই অবস্থা খতিয়ে দেখা উচিত।’’
বিজেপি শিক্ষক সেলের সহ-আহ্বায়ক পিন্টু পাড়ুই বলেন, ‘‘সরকারের এই পদক্ষেপের সঙ্গে আমরা সহমত। এই সব বিষয় খতিয়ে দেখা উচিত। এমন অনেকে রয়েছেন, যাঁদের বদলির প্রয়োজন ছিল, কিন্তু তাঁরা পাননি। অনেকে আবার প্রভাব খাটিয়ে বদলি হয়েছেন। এই সবই তদন্তের আওতায় আসা উচিত।’’