দল তাঁকে ‘গুরুত্ব’ দেয়নি। ‘খারাপ ব্যবহার’ করেছে। তৃণমূল ছেড়ে আইএসএফ (ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট)-এ যোগ দিয়ে বৃহস্পতিবার বললেন ভাঙড়ের ‘তাজা নেতা’ আরাবুল ইসলাম। তিনি এ-ও দাবি করেছেন, তাঁর দলত্যাগের প্রভাব ভাঙড়-ক্যানিংয়ে পড়বে। বৃহস্পতিবার ফুরফুরা শরিফে গিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে আইএসএফে যোগ দেন আরাবুল। হাতে তুলে নেন দলীয় পতাকা। তার আগে ক্ষোভ উগরে দেন ভাঙড়ের তৃণমূল প্রার্থী শওকত মোল্লার বিরুদ্ধে। আরাবুলের যোগদানের পরে আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকি জানান, আরাবুলকে মূলস্রোতে ফিরতে একটি মঞ্চ দিচ্ছে তাঁর দল।
বৃহস্পতিবার সকালে দক্ষিণ গাজীপুরে নিজের বাড়ি থেকে ফুরফুরা শরিফের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন আরাবুল। সেখানে নিজের পুরনো দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘যে দল দীর্ঘ দিন করে এসেছি, সেই দল আমাকে গুরুত্ব দেয়নি। ভাল ব্যবহার করেনি। অনেক গল্প আছে। পরে বলব।’’ তার পরেই তিনি জানিয়ে দেন, নতুন দলে গিয়ে আইএসএফ নেতা আব্বাস সিদ্দিকি এবং নওশাদের কথা মেনে চলবেন তিনি। তবে তাঁর দলত্যাগে তৃণমূলে প্রভাব পড়তে চলেছে বলেই দাবি করেন আরাবুল। তিনি বলেন, ‘‘দল নড়েচড়ে বসেছে যে, আরাবুলের মতো লোক বেরিয়ে যাচ্ছে। ভাঙড়-ক্যানিংয়ে প্রচুর প্রভাব পড়বে। আমার লোকজন আইএসএফের দিকে থাকবে।’’
আরাবুলের ঘনিষ্ঠদের একাংশ দাবি করেছিলেন, তৃণমূল বিধায়ক শওকতের প্রভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন আরাবুল। দলের কাছে দরবার করেও গুরুত্ব না-পেয়ে এমন সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছেন। আরাবুল নিজেও সেই ইঙ্গিতই দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘যিনি (শওকত) মানুষকে ভুল পথে চালিত করছেন, তিনি বুঝতে পারবেন আগামী দিনে।’’ তার পরেই চালতাবেড়িয়ায় বোমা ফাটার ঘটনায় পাল্টা আঙুল তুলেছেন শওকতের দিকে। তাঁর কথায়, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলব, কারা বোম বাঁধছে? পুলিশ কী করছে? তরুণ তাজা ছেলেদের জীবন যাচ্ছে। ভাঙড়ের কত মানুষের রক্ত নিলে শওকত শান্তি পাবে। ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না!’’ এখানেই থামেননি তিনি। আরও বলেন, ‘‘যত ভোট এগোবে, তত শওকত এ সব ঘটাবে, তত মানুষের প্রাণ যাবে।’’
এর পরে ফুরফুরা শরিফে গিয়ে আইএসএফে যোগ দিয়ে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, এই দল ছেড়ে অন্য কোনও দলে তিনি যাবে না। বিশেষত তৃণমূলে ফিরছেন না। তিনি বলেন, ‘‘আরাবুল যে থুতু ফেলে আর গেলে না। ওকে লোভ দেখাবে, ও চলে যাবে— তা আরাবুল নয়।’’ এ বার থেকে আইএসএফ নেতৃত্ব যেমন বলবেন, তেমনই করবেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘‘নতুন দলে ঢুকেছি। দলের নেতৃত্ব যে ভাবে বলবে, চলব। যদি মনে করে, টিকিট দেবে।’’
নওশাদ বলেন, ‘‘আরাবুলের যোগদানে আইএসএফ কতটা শক্তিশালী হবে, সেটা আমরা ভাবছি না। একজন অনুতপ্ত, সে মূলস্রোতে ফিরতে চাইছে। দায়িত্বশীল নাগরিক হতে চাইছে, তাই সেই প্ল্যাটফর্মটা আমরা দিচ্ছি।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত