লোক ভবন (সাবেক রাজভবন)-এ গিয়ে বৃহস্পতিবার রাজ্যপাল আরএন রবির সঙ্গে দেখা করলেন রাজ্যের নতুন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়াল এবং স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় আধ ঘণ্টা সেখানে ছিলেন তাঁরা। দায়িত্ব নেওয়ার পরে এই প্রথম বার রাজ্যপাল রবি কোনও প্রশাসনিক আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করলেন বলে খবর। লোক ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিশদ খোঁজখবর নিয়েছেন তিনি।
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রায় আধ ঘণ্টা লোক ভবনে ছিলেন রাজ্যের নতুন মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিব। বৈঠক হয়েছে বলে খবর। নবান্নের একটি সূত্রের দাবি, ১২ মার্চ শপথ নেওয়ার পরে এই প্রথম রাজ্যের কোনও প্রশাসনিক আধিকারিকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন রবি। প্রসঙ্গত, রাজ্যে আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হওয়ার দিন, রবিবার মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিব পদে রদবদল করেছিল কমিশন। ওই দুই পদে যথাক্রমে দুষ্মন্ত এবং সংঘমিত্রাকে নিয়োগ করেছে। এ বার তাঁদের সঙ্গে কথা বললেন রাজ্যপাল রবি। লোক ভবন সূত্রে খবর, রাজ্যে আদর্শ আচরণবিধি জারি হওয়ার পরে কী পরিস্থিতি রয়েছে, তা দুই সচিবের কাছে বিস্তারিত ভাবে জানতে চেয়েছেন রবি।
লোক ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও রাজ্যপালের দফতর সাজানো হয়নি। তিনি সচিব চেয়ে পাঠিয়েছেন। সচিব নিযুক্ত হলে রাজ্যপালের গুছিয়ে কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে খবর। তবে লোক ভবনের ওই সূত্রের দাবি, দফতর সাজানোর আগেই সক্রিয় হয়ে উঠেছেন রাজ্যপাল। বিধানসভা নির্বাচনের আবহে রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে খবরাখবর নেওয়া শুরু করে দিয়েছেন।
আরও পড়ুন:
রবিবার রাজ্যে ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করা হয়েছে। ভোট ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নবান্নের শীর্ষ প্রশাসনিক স্তরে বদল আনে কমিশন। মুখ্যসচিবের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় নন্দিনী চক্রবর্তীকে। স্বরাষ্ট্রসচিবের দায়িত্ব থেকে সরানো হয় জগদীশপ্রসাদ মীনাকেও। জানিয়ে দেওয়া হয়, ভোট শেষ না-হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজ করতে পারবেন না তাঁরা। তার পরেই মীনাকে ভিন্রাজ্যে ভোটের পর্যবেক্ষক করে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হলে কমিশনের হাতে বিশেষ ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে। রাজ্য সরকারের আমলা, আধিকারিক, পুলিশকর্তাদের বদলির নির্দেশ দিতে পারে কমিশন। অন্য দিকে, ভোট ঘোষণা হওয়ার আগে রাজ্যপাল পদ থেকে ইস্তফা দেন সিভি আনন্দ বোস। তাঁর জায়গায় স্থায়ী রাজ্যপালের দায়িত্ব পান আর এন রবি। সেই রদবদলের পরে এই প্রথম বার নতুন মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে কথা বললেন রাজ্যপাল।