এ বারের নির্বাচনের আগে কল্পতরু হয়েছেন এক এক জন প্রার্থী। ভোটপ্রচারে বেরিয়ে কেউ পুরুষ ভোটারের দাড়ি কেটে দিচ্ছেন, কেউ ঘরের পাঁচিলে ঘুঁটে দিয়ে হালকা করে দিচ্ছেন মহিলা ভোটারের কাজ। কাউকে কাউকে মশলা বেটে রান্না করতেও দেখা গিয়েছে। বাকি ছিল বাড়ি তৈরি। এ বার সেটাও দেখা গেল পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষে। প্রচারে বেরিয়ে রাজমিস্ত্রির কাজ করলেন বিজেপি প্রার্থী গৌতম ধাড়া। যা দেখে খোঁচা দিল তৃণমূল।
ভোটের প্রচারে প্রার্থীদের নানা রকম চমকপ্রদ উদ্যোগ নতুন কিছু নয়। কখনও রান্না করা, কখনও ঘুঁটে তৈরি, কখনও জমির কাজে অংশ নেওয়ার মতো দৃশ্য দেখা গিয়েছে। খণ্ডঘোষের বিজেপি প্রার্থী আরও ‘এগিয়ে।’ রবিবার সগড়াই অঞ্চলের বিভিন্ন বুথে প্রচার করতে বেরিয়ে থেমে গেলেন একটি নির্মীয়মাণ বাড়ির কাছে। রাজমিস্ত্রির হাত থেকে তাঁর সরঞ্জাম নিয়ে শুরু করলেন গাঁথুনির কাজ। সেই সঙ্গে চলল প্রচার। প্রচারের ফাঁকে খণ্ডঘোষের বিজেপি প্রার্থী বলেন, “আমি এসসি সম্প্রদায়ের, গরিব পরিবারের ছেলে। ছোটবেলা থেকেই খেটে খাওয়াই অভ্যাস। কোদাল চালানো থেকে নানা রকম কাজ করতে পারি। সর্বদা কাজের মধ্যে থাকতে ভালবাসি।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তো লক্ষ্য। মানুষের সুখে-দুঃখে সবসময় পাশে থাকব। এ ভাবেই।’’
আরও পড়ুন:
বাঁকুড়ার ইন্দাসের বাসিন্দা গৌতমকে খণ্ডঘোষ থেকে টিকিট দেওয়ায় তাঁর দলের একাংশই বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন। তৃণমূল তাঁকে ‘বহিরাগত’ বলে দেগে দিয়েছে। সে সব গায়ে না মেখে বালি-সিমেন্টে পরিমাণ মতো জল মিশিয়ে ইটের উপর ইট বসালেন গৌতম।
তিনি জানান, কখনও পায়ে হেঁটে, কখনও গাড়ি চড়ে ঘুরে ঘুরে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করছেন। পুরো বিধানসভা এলাকাই তিনি প্রচার করবেন। তৃণমূলের কটাক্ষ, তাদের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তো বলেই দিয়েছেন, এই ক’টা দিন বিজেপি প্রার্থীদের দিয়ে বাড়ির যাবতীয় কাজ করিয়ে নিতে পরে হবে। পরে তো এঁদের দেখাই মিলবে না।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত