Advertisement
E-Paper

প্রার্থীর প্রচারে নীলবাতি গাড়িতে চেপে হাজির তৃণমূল সাংসদ শত্রুঘ্ন! খুলে নিলেন প্রশ্নের মুখে পড়তেই

দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে কর্মিসভায় গিয়েছিলেন শত্রুঘ্ন। কিন্তু সেখানে নিজের নীলবাতি গাড়িতে চেপে হাজির হন সাংসদ। ভোট ঘোষণার পরে এমন ঘটনায় আদর্শ আচরণবিধি ভাঙা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলছে বিজেপি।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৩ মার্চ ২০২৬ ১০:১৭
আসানসোলের তৃণমূল সাংসদ শত্রুঘ্ন সিন্‌হা।

আসানসোলের তৃণমূল সাংসদ শত্রুঘ্ন সিন্‌হা। — নিজস্ব চিত্র।

নীলবাতি লাগানো গাড়ি ঘিরে এ বার বিতর্কে জড়ালেন আসানসোলের তৃণমূল সাংসদ শত্রুঘ্ন সিন্হা। ওই গাড়িতে চেপে দলীয় প্রার্থীর প্রচার কর্মসূচিতে হাজির হয়েছিলেন তিনি। তা নিয়েই বিতর্ক দানা বেঁধেছে পশ্চিম বর্ধমানে। প্রশ্নের মুখে পড়তেই গাড়ি থেকে সেই নীলবাতি খুলিয়েও নেন সাংসদ।

রবিবার পশ্চিম বর্ধমানের জামুরিয়ার তৃণমূল প্রার্থী হরেরাম সিংহের হয়ে প্রচারে বেরিয়েছিলেন শত্রুঘ্ন। হরেরামের সমর্থনে একটি কর্মিসভা ছিল। সেখানে নীলবাতি লাগানো গাড়িতে চেপে হাজির হন সাংসদ। গাড়ির সামনে লেখা ‘মেম্বার অফ পার্লামেন্ট, আসানসোল’। সঙ্গে অশোক স্তম্ভের ছবিও ব্যবহার করা হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচন ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পর কি দলীয় প্রার্থীর প্রচারে এ ভাবে নীলবাতি লাগানো গাড়ি নিয়ে যাওয়া যায়? তা নিয়েই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিজেপি। শত্রুঘ্নের বিরুদ্ধে আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন জামুরিয়ার বিজেপি প্রার্থী বিজন মুখোপাধ্যায়।

যদিও এই অভিযোগকে খুব গুরুতর কিছু বলে দেখতে চাইছেন না শত্রুঘ্ন। নীলবাতি লাগানো গাড়িতে চেপে কেন প্রচার কর্মসূচিতে গিয়েছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সাংসদ বলেন, “কোনও বাতি লাগানো হয়নি। আগে থেকেই ছিল। আমি কিছু লাগাইনি। (আলো) জ্বালানোও নেই। আমি এমন কোনও কাজ করি না। আমি কোনও মরসুমি বা পেশাদার রাজনীতিক নই। আমি ভদ্রলোক। আইন মেনে চলি। কারও মনে আঘাত লাগবে এমন কোনও কাজ আমি করিনি, করবও না।”

প্রচার কর্মসূচি সেরে সাংসদ যখন ফের গাড়িতে ওঠেন, তখন সেই গাড়িতে আর নীলবাতি লাগানো ছিল না। জানা যাচ্ছে, বিতর্ক দানা বাঁধতেই তিনি নিজের আপ্তসহায়ককে বলে গাড়ি থেকে নীলবাতিটি খুলিয়ে নেন। তবে গাড়ির সামনে অশোকস্তম্ভের ছবি-সহ ‘মেম্বার অফ পার্লামেন্ট’ লেখা বোর্ডটি তখনও রাখাই ছিল।

সাংসদের নীলবাতি গাড়ি ঘিরে এই বিতর্কে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানানোর প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে বিজেপি। জামুরিয়ার বিজেপি প্রার্থী জানান, তাঁরা এই বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনে যাবেন। প্রয়োজনে আদালতেও যাবেন। বিজনের কথায়, “নিত্যনতুন আইন সৃষ্টি করা টিএমসি সরকারের কাজ। আমি যতটুকু আইন জানি, নির্বাচনবিধি চালু হয়ে যাওয়ার পর কোনও নীলবাতি বা অশোকস্তম্ভ লাগানো গাড়িতে কেউ আসতে পারেন না। তৃণমূল সরকার নিয়মকানুনের তোয়াক্কা করে না, এটা তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ।”

গাড়িতে নীলবাতি লাগিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিজেপি। এটিকে কোনও ‘ছোট ঘটনা’ বলে দেখতে রাজি নন বিজন। তিনি বলেন, “ঘটনা ঘটনাই হয়। আজ ছোট্ট ঘটনার জন্য ছেড়ে দিলাম, কাল বড় ঘটনার জন্য আমি ওয়েট করব, এমনটা হয় না। তিনি সাংসদ হয়ে এমন করতে থাকলে অন্যেরা তাঁর কাছ থেকে কী শিখবেন। উনি শিক্ষিত লোক। উনি জেনেবুঝে এই ভুল করেছেন।”

Shatrughan Sinha TMC West Bengal Politics BJP
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy