অযথা কাউকে গ্রেফতার করা যাবে না। যে কোনও পদক্ষেপের আগে ব্যক্তিস্বাধীনতার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। তৃণমূলের মামলায় মঙ্গলবার এমনটাই জানাল কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, কমিশনকে নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করতে হবে। ভোট যাতে শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ হয়, নির্ভয়ে যাতে সকলে ভোট দিতে পারেন, তা কমিশনকে নিশ্চিত করতে হবে। ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোট করানোর জন্য কমিশনকে পদক্ষেপ করতে বলেছে হাই কোর্ট।
দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে সমস্যা সৃষ্টিকারী (ট্রাবল মেকার)-দের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের পরিকল্পনা করেছে কমিশন— এই মর্মে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল। অভিযোগ, তালিকা প্রকাশ করে প্রায় সাড়ে তিন হাজার জনের বিরুদ্ধে কমিশন পদক্ষেপ করতে চলেছে। শাসকদলের তরফে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্রুত শুনানির আবেদন করেছিলেন। তৃণমূলের আর্জি ছিল, গ্রেফতারিতে লাগাম টানা হোক। তবে সেই দাবি আদালত মানেনি। প্রয়োজনে কমিশন গ্রেফতার করতে পারবে। সঙ্গে ব্যক্তিস্বাধীনতাকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
আরও পড়ুন:
ভোটের শেষ দফার আগে ধরপাকড় চলছে। কমিশনের তরফে মঙ্গলবার বিকেলে জানানো হয়েছে, গত ৬০ ঘণ্টায় রাজ্যের ভোটমুখী সাত জেলায় ২,৪৭৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অর্থাৎ, গড়ে ৪১ জন করে প্রতি ঘণ্টায় গ্রেফতার হয়েছেন। আদালত জানাল, অযথা কাউকে গ্রেফতার করতে পারবে না কমিশন। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসাবেও আটক করা যাবে না কোনও কারণ ছাড়া। ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ব্যক্তিস্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আইন মেনেই পদক্ষেপ করতে হবে।
প্রথম দফা ভোটের আগে এই সংক্রান্ত মামলায় হাই কোর্ট জানিয়েছিল গোলমাল সৃষ্টি করতে পারে (ট্রাবল মেকার) বলে দাগিয়ে দিয়ে ঢালাও গ্রেফতারি চলবে না। সতর্কতামূলক ভাবে কাউকে আটক করতে গেলেও তা আইনের নির্দিষ্ট বিধি মেনেই করতে হবে। একই সঙ্গে জানিয়েছিল, কমিশন যদি ঢালাও গ্রেফতারি সংক্রান্ত এমন কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে, তার উপরেও স্থগিতাদেশ জারি হচ্ছে। কারণ, সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদের ক্ষমতা সীমাহীন নয়। আদালতের এই নির্দেশের পরেও কমিশন সাড়ে তিন হাজার জনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে চলেছে বলে তৃণমূল দাবি করেছিল। সেই মামলায় কমিশনকে নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হল।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
- পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
-
২১:০৮
‘ভোটারদের আস্থা বৃদ্ধি করতেই মন্তব্য অজয়ের’! ‘সিংহম’ বিতর্কে বললেন সিইও মনোজ, মঙ্গলবারও রাতভর দফতরে -
২০:৪৫
ফলতা-সহ ছ’টি বিধানসভা এলাকায় অশান্তির আশঙ্কা, বাড়তি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত কমিশনের -
২০:৩০
তৃণমূলের ‘নিউক্লিয়াসে’ নির্বাচন দ্বিতীয় দফায়, সাত জেলার মধ্যে চারটিতেই বিজেপি ছিল ‘শূন্য’! নতুন জমি তৈরির লক্ষ্যে পদ্মফুল -
১৭:৫০
গত ৬০ ঘণ্টায় নানা অভিযোগে গ্রেফতার ২,৪৭৩ জন! জানাল কমিশন, দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে দিকে দিকে তৎপরতা -
১৬:০৮
ফলতায় বিক্ষোভ নিয়ে চাইলে কমিশনকে রিপোর্ট দিতে পারেন ‘সিংহম’ অজয়পাল, নিজে থেকে সিইও দফতর চাইবে না: মনোজ