Advertisement

নবান্ন অভিযান

সব আধাসেনা বাহিনীর প্রধান একসঙ্গে বসে কথা বললেন কলকাতায়! ভোটের নিরাপত্তা নিয়ে ‘নজিরবিহীন’ বৈঠক

আগামী বৃহস্পতিবার রাজ্যে প্রথম দফার ভোট রয়েছে। ঠিক তার মুখেই নির্বাচনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সারলেন সব কেন্দ্রীয় বাহিনীর সর্বোচ্চ কর্তারা।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ২০:৩৭
কেন্দ্রীয় বাহিনীর আধিকারিকদের বৈঠক।

কেন্দ্রীয় বাহিনীর আধিকারিকদের বৈঠক। ছবি: সংগৃহীত।

ভোটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কলকাতায় বৈঠকে বসলেন দেশের সকল আধাসেনা বাহিনীর প্রধান। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিআরপিএফ, বিএসএফ, সিআইএসএফ, আইটিবিপি এবং এসএসবি-র ডিরেক্টর জেনারেলেরা। রাজ্যে নির্বাচনের নিরাপত্তা নিয়ে এমন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সাম্প্রতিক অতীতে ‘নজিরবিহীন’ বলেই ব্যাখ্যা করছেন অনেকে। শেষ কবে ভোট প্রস্তুতি নিয়ে আধাসেনা বাহিনীর ডিজি স্তরে এমন বৈঠক হয়েছিল, তা মনে করতে পারছেন না কেউই।

শনিবার এই বৈঠকের পরেই সল্টলেকে সিআরপিএফ-এর দফতরে একটি যৌথ নেতৃত্ব সম্মেলন (জয়েন্ট লিডারশিপ সামিট)-ও হয়। আধিকারিক সূত্রে পিটিআই জানাচ্ছে, আধাসেনা বাহিনীর প্রধানদের পাশাপাশি সেখানে রাজ্য পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকেরাও উপস্থিত ছিলেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য কী কী পদক্ষেপ করা হচ্ছে, তা নিয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা হয়।

আগামী বৃহস্পতিবার রাজ্যে প্রথম দফার ভোট রয়েছে। এই দফায় রাজ্যে মোট ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন হচ্ছে। প্রথম দফার ভোটের ঠিক মুখেই নির্বাচনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সারলেন সব কেন্দ্রীয় বাহিনীর সর্বোচ্চ কর্তারা। কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক সিনিয়র আধিকারিকও জানান পিটিআই-কে জানান, “ভোটমুখী কোনও রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রধানদের এমন বৈঠক নজিরবিহীন।” তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক অতীতে কোনও বিধানসভা ভোটের সময়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ডিজিরা এমন যৌথ বৈঠকে বসেননি। গত কয়েক দিন ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ভোটের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউনিটগুলি পরিদর্শন করেছেন বাহিনীর কর্তারা।

Advertisement

আগামী বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি তামিলনাড়ুতেও ভোট রয়েছে। সেখানে এক দফাতেও নির্বাচন হচ্ছে। তবে কেন্দ্রীয় আধাসেনা বাহিনীর ওই আধিকারিক জানান, সেখানে এখনও পর্যন্ত সব আধাসেনা বাহিনীর প্রধানদের এমন কোনও বৈঠক হয়নি।

সব আধাসেনা বাহিনীর প্রধানদের ওই বৈঠকের বিষয়ে রবিবার একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে সিআইএসএফ। তাতে বলা হয়েছে, উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকটির মূল লক্ষ্য ছিল পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটের জন্য একটি প্রযুক্তিনির্ভর এবং পোক্ত নিরাপত্তা পরিকাঠামো নিশ্চিত করা। সেখানে আরও জানানো হয়, ওই বৈঠকের পর পরই আরও একটি বৈঠক হয়েছে। তাতে আধাসেনা বাহিনীর প্রধানদের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ, কমিশন থেকে দায়িত্ব দেওয়া সমন্বয়ক এবং পর্যবেক্ষকেরাও উপস্থিত ছিলেন। রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিশেষ করে প্রথম দফার ১৫২টি আসনের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হয় ওই বৈঠকে।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, ‘কুইক রেসপন্স টিম’ মোতায়েন এবং নাশকতা রুখতে তল্লাশির ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বৈঠকে। সেখানে বলা হয়, অবাধ, সুষ্ঠু এবং স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করাই প্রতিটি বাহিনীর লক্ষ্য। ভোটারেরা যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই বাহিনীর লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে। সিআইএসএফ-এর ডিজি প্রবীর রঞ্জনের কথায়, ভোটের পবিত্রতা রক্ষা করাই বাহিনীর লক্ষ্য। বিবৃতিতে তিনি বলেন, “মোতায়েন থাকা জওয়ানদের উদ্দেশে আমার বার্তা খুবই স্পষ্ট। আপনারা হলেন গণতন্ত্রের প্রহরী। পৃথক পৃথক ইউনিট হিসাবে নয়, একক নির্বাচন-বাহিনী হিসেবে আপনাদের কাজ করতে হবে, যা হবে সুসংহত, শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং প্রযুক্তিগত দিক থেকে পারদর্শী।”

সংক্ষেপে
  • রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
  • পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
সর্বশেষ
১ ঘণ্টা আগে
central forces
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy