ভোটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কলকাতায় বৈঠকে বসলেন দেশের সকল আধাসেনা বাহিনীর প্রধান। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিআরপিএফ, বিএসএফ, সিআইএসএফ, আইটিবিপি এবং এসএসবি-র ডিরেক্টর জেনারেলেরা। রাজ্যে নির্বাচনের নিরাপত্তা নিয়ে এমন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সাম্প্রতিক অতীতে ‘নজিরবিহীন’ বলেই ব্যাখ্যা করছেন অনেকে। শেষ কবে ভোট প্রস্তুতি নিয়ে আধাসেনা বাহিনীর ডিজি স্তরে এমন বৈঠক হয়েছিল, তা মনে করতে পারছেন না কেউই।
শনিবার এই বৈঠকের পরেই সল্টলেকে সিআরপিএফ-এর দফতরে একটি যৌথ নেতৃত্ব সম্মেলন (জয়েন্ট লিডারশিপ সামিট)-ও হয়। আধিকারিক সূত্রে পিটিআই জানাচ্ছে, আধাসেনা বাহিনীর প্রধানদের পাশাপাশি সেখানে রাজ্য পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকেরাও উপস্থিত ছিলেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য কী কী পদক্ষেপ করা হচ্ছে, তা নিয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা হয়।
আগামী বৃহস্পতিবার রাজ্যে প্রথম দফার ভোট রয়েছে। এই দফায় রাজ্যে মোট ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন হচ্ছে। প্রথম দফার ভোটের ঠিক মুখেই নির্বাচনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সারলেন সব কেন্দ্রীয় বাহিনীর সর্বোচ্চ কর্তারা। কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক সিনিয়র আধিকারিকও জানান পিটিআই-কে জানান, “ভোটমুখী কোনও রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রধানদের এমন বৈঠক নজিরবিহীন।” তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক অতীতে কোনও বিধানসভা ভোটের সময়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ডিজিরা এমন যৌথ বৈঠকে বসেননি। গত কয়েক দিন ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ভোটের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউনিটগুলি পরিদর্শন করেছেন বাহিনীর কর্তারা।
আরও পড়ুন:
আগামী বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি তামিলনাড়ুতেও ভোট রয়েছে। সেখানে এক দফাতেও নির্বাচন হচ্ছে। তবে কেন্দ্রীয় আধাসেনা বাহিনীর ওই আধিকারিক জানান, সেখানে এখনও পর্যন্ত সব আধাসেনা বাহিনীর প্রধানদের এমন কোনও বৈঠক হয়নি।
সব আধাসেনা বাহিনীর প্রধানদের ওই বৈঠকের বিষয়ে রবিবার একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে সিআইএসএফ। তাতে বলা হয়েছে, উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকটির মূল লক্ষ্য ছিল পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটের জন্য একটি প্রযুক্তিনির্ভর এবং পোক্ত নিরাপত্তা পরিকাঠামো নিশ্চিত করা। সেখানে আরও জানানো হয়, ওই বৈঠকের পর পরই আরও একটি বৈঠক হয়েছে। তাতে আধাসেনা বাহিনীর প্রধানদের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ, কমিশন থেকে দায়িত্ব দেওয়া সমন্বয়ক এবং পর্যবেক্ষকেরাও উপস্থিত ছিলেন। রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিশেষ করে প্রথম দফার ১৫২টি আসনের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হয় ওই বৈঠকে।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, ‘কুইক রেসপন্স টিম’ মোতায়েন এবং নাশকতা রুখতে তল্লাশির ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বৈঠকে। সেখানে বলা হয়, অবাধ, সুষ্ঠু এবং স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করাই প্রতিটি বাহিনীর লক্ষ্য। ভোটারেরা যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই বাহিনীর লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে। সিআইএসএফ-এর ডিজি প্রবীর রঞ্জনের কথায়, ভোটের পবিত্রতা রক্ষা করাই বাহিনীর লক্ষ্য। বিবৃতিতে তিনি বলেন, “মোতায়েন থাকা জওয়ানদের উদ্দেশে আমার বার্তা খুবই স্পষ্ট। আপনারা হলেন গণতন্ত্রের প্রহরী। পৃথক পৃথক ইউনিট হিসাবে নয়, একক নির্বাচন-বাহিনী হিসেবে আপনাদের কাজ করতে হবে, যা হবে সুসংহত, শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং প্রযুক্তিগত দিক থেকে পারদর্শী।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত