Advertisement

নবান্ন অভিযান

প্রথম দফায় ২ হাজারের বেশি ‘কুইক রেসপন্স টিম’ মোতায়েন করছে নির্বাচন কমিশন! ঘুরবে ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রেই

প্রথম দফার ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য মোট ২,১৯৩টি ‘কুইক রেসপন্স টিম’ কাজ করবে। সবচেয়ে বেশি ‘কুইক রেসপন্স টিম’ থাকবে মুর্শিদাবাদ জেলায়। তার পরেই রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:৩২
Election Commission deploys over 2,000 Quick Response Team in first phase of West Bengal assembly election

‘কুইক রেসপন্স টিম’-এ থাকবেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরাও। ছবি: পিটিআই।

বিধানসভা নির্বাচনে কোনও অশান্তি বা অভিযোগ পেলে দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে। বার বার এমনই জানাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। সেই অভিযোগ বা অশান্তি মোকাবিলায় কাজ করবে ‘কুইক রেসপন্স টিম’। প্রথম দফার নির্বাচনে এ ধরনের কত দল ঘুরবে, কোন জেলায় কত দল থাকবে— তার হিসাব দিল কমিশন। জানা গিয়েছে, প্রথম দফার ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য মোট ২,১৯৩টি ‘কুইক রেসপন্স টিম’ কাজ করবে। সবচেয়ে বেশি ‘কুইক রেসপন্স টিম’ থাকবে মুর্শিদাবাদ জেলায়। তার পরেই রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর।

ভোটে কোথাও কোনও অশান্তি হলে তা মোকাবিলার জন্য প্রথমে কিউআরটি পাঠানো হয়। ‘কুইক রেসপন্স টিম’-এর নির্দিষ্ট গাড়ি থাকে। কমিশন জানিয়েছে, প্রতি দলে অন্তত এক জন করে রাজ্য পুলিশের এসআই বা এএসআই পদমর্যাদার পুলিশকর্মী থাকবেন। তাঁদের সঙ্গে থাকবেন কমপক্ষে চার থেকে ছ’জন করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। কোনও কোনও ক্ষেত্রে জওয়ানের সংখ্যা বেশি থাকতে পারে।

‘কুইক রেসপন্স টিম’-এর গাড়িতে অবশ্যই ক্যামেরা থাকবে বলে জানিয়েছে কমিশন। এ ছাড়াও, দলের নেতৃত্বের কাছে সংশ্লিষ্ট বুথের নকশা থাকবে। কোথাও বুথ দখল বা কোনও অশান্তির অভিযোগ পেলেই নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছে যাবে ‘কুইক রেসপন্স টিম’। নিয়মিত সেক্টর অফিস এবং কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে তারা।

Advertisement

কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, প্রথম দফায় সমগ্র উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির ভোটগ্রহণ হয়ে যাবে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, উত্তর এবং দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহ। পাশাপাশি জঙ্গলমহলেও প্রথম দফায় নির্বাচন রয়েছে। ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়ার পাশাপাশি বীরভূম, মুর্শিদাবাদে এই দফাতেই ভোট হবে। অন্য দিকে, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং পশ্চিম বর্ধমানেও এই দফায় ভোটগ্রহণ হবে। এই ১৬টি জেলায় ভোটের দিন কোথায় কতগুলি ‘কুইক রেসপন্স টিম’ থাকবে, তা জানাল কমিশন।

কমিশন জানিয়েছে, ২৩ এপ্রিল মুর্শিদাবাদ জেলায় মোট ২৮৮টি ‘কুইক রেসপন্স টিম’ থাকবে। তবে মুর্শিদাবাদকে দুই ভাগে ভাগ করে এই দল নিয়োগ করা হবে। প্রথমত, মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলা— সেখানে থাকবে ২১৯টি দল। আর জঙ্গিপুর পুলিশ জেলয় থাকবে ৬৯টি। তার পরেই রয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর জেলা পূর্ব মেদিনীপুর। সেখানে ২৫৩টি ‘কুইক রেসপন্স টিম’ থাকবে। আর পশ্চিম মেদিনীপুরে থাকবে ২৪৮টি।

কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘কুইক রেসপন্স টিম’ বাঁকুড়ায় থাকবে ১৮০টি, বীরভূমে ১৬১টি, মালদহে ১৫৭টি, পুরুলিয়ায় ১৩৯টি, কোচবিহারে ১৩৩টি, আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেটে ১১৩টি। বাকি জেলাগুলিতে ‘কুইক রেসপন্স টিম’-এর সংখ্যা ১০০-র নীচে।

জলপাইগুড়িতে ৮৩টি ‘কুইক রেসপন্স টিম’ থাকবে বলে জানিয়েছে কমিশন। এ ছাড়াও, দক্ষিণ দিনাজপুরে ৭৫টি, আলিপুরদুয়ারে ৭০টি, ঝাড়গ্রামে ৬৬টি, দার্জিলিঙে ৫২টি, শিলিগুড়িতে ৩৯টি এবং কালিম্পঙে ১৭টি ‘কুইক রেসপন্স টিম’ দায়িত্বে থাকবে। উত্তর দিনাজপুর জেলাকেও মুর্শিদাবাদের মতো দুই পুলিশ জেলায় ভাগ করে ‘কুইক রেসপন্স টিম’ মোতায়েনের কথা জানিয়েছে কমিশন। এক, ইসলামপুর ও দুই, রায়গঞ্জ পুলিশ জেলা। এই দুই জায়গায় যথাক্রমে ৫৪ এবং ৭৫টি করে ‘কুইক রেসপন্স টিম’ থাকছে ভোটের দিনে।

শুধু ‘কুইক রেসপন্স টিম’ নয়, ভোটের জন্য কোথায় কত সেক্টর অফিস তৈরি করছে কমিশন, তার হিসাবও দিয়েছে। সাধারণত ৮ থেকে ১০টি ভোটকেন্দ্র নিয়ে একটি সেক্টর অফিস তৈরি হয়। সেই হিসাবে দার্জিলিঙে অফিস হচ্ছে ১২৯টি, শিলিগুড়িতে ৯৫টি, কালিম্পঙে ৫৫টি, জলপাইগুড়িতে ১৮৯টি, আলিপুরদুয়ারে ১৩৫টি, কোচবিহারে ২৪৩টি, ইসলামপুর পুলিশ জেলায় ৯৪টি, রায়গঞ্জ পুলিশ জেলায় ১১০টি, দক্ষিণ দিনাজপুরে ১৪৬টি, মালদহে ২৬১টি, জঙ্গিপুর পুলিশ জেলায় ১৪৩টি, মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলায় ৩৯৩টি, পূর্ব মেদিনীপুরে ৪৩০টি, পশ্চিম মেদিনীপুরে ৩৮০টি, ঝাড়গ্রামে ১২৯টি, বাঁকুড়ায় ৩৮০টি, পুরুলিয়া ২৯৭টি, বীরভূমে ২৮৩টি এবং আসানসোল-দূর্গাপুর কমিশনারেটে ২১৫টি।

সংক্ষেপে
  • রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
  • পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
Quick Response Team Election Commission
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy