বিধানসভা ভোটের মুখে আবার পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য পুলিশে রদবদল। নির্বাচন কমিশনের কোপে পূর্ব মেদিনীপুরের দুই এসডিপিও। কমিশন তাঁদের সরিয়ে নতুন আধিকারিক নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে। উল্লেখ্য, পূর্ব মেদিনীপুর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর জেলা বলে পরিচিত।
কমিশন রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালকে চিঠি দিয়ে বদলির নির্দেশ কার্যকর করতে বলা হয়েছে। সেই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া এবং কাঁথির এসডিপিও বদলের বিষয়টি। কাঁথিতে অতনু ঘোষালকে এসডিপিও করে পাঠানো হচ্ছে। তিনি রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের সঙ্গে যুক্ত। কাঁথি ছাড়াও হলদিয়ার এসডিপিও-কেও বদলে দেওয়ার নির্দেশ দিল কমিশন। ওই পদে পাঠানো হচ্ছে অলোক কুমারকে। তিনি ২০২৩ ব্যাচের আইপিএস।
অতীতেও একাধিক এসডিপিও-কেও বদলি করেছে কমিশন। এর আগে বেলডাঙার এসডিপিও পদে থাকা উত্তম গড়াইকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর জায়গায় বেলডাঙার নতুন এসডিপিও করা হয় আনন্দজিৎ হোড়কে। এ বার রাজ্যের আরও দুই এসডিপিও-কে বদল করা হল। মুখ্যসচিব ছাড়াও রদবদলের নির্দেশিকার প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে রাজ্যের সিইও মনোজ অগ্রবাল, রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত, কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ, স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ, রাজ্য পুলিশের নোডাল অফিসারকে। রবিবারই বিকেল ৫টার মধ্যে নবনিযুক্ত এসডিপিওদের দায়িত্ব নিতে বলেছে কমিশন।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, পূর্ব মেদিনীপুরে প্রথম দফাতেই ভোটগ্রহণ হবে আগামী বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল। তার দিন তিনেক আগে দুই এসডিপিও-র বদলির নির্দেশ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে।
নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে আমলা এবং আইপিএস পদে বদল করছে কমিশন। ভোট ঘোষণার দিন মধ্যরাত থেকে এই পর্ব শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করেছিল কমিশন। এখনও তা অব্যাহত রয়েছে। কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত