Advertisement

নবান্ন অভিযান

ভোটের মুখে ফের রাজ্য পুলিশে রদবদল! শুভেন্দুর জেলার দুই এসডিপিও-কে এ বার সরিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন

অতীতেও একাধিক এসডিপিও-কেও বদলি করেছে কমিশন। এর আগে বেলডাঙার এসডিপিও পদে থাকা উত্তম গড়াইকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এ বার রাজ্যের আরও দুই এসডিপিও-কে বদল করা হল।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:৪০
Election Commission transfers SDPOs of Haldia and Contai

রাজ্যের দুই এসডিপিও-কে সরিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বিধানসভা ভোটের মুখে আবার পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য পুলিশে রদবদল। নির্বাচন কমিশনের কোপে পূর্ব মেদিনীপুরের দুই এসডিপিও। কমিশন তাঁদের সরিয়ে নতুন আধিকারিক নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে। উল্লেখ্য, পূর্ব মেদিনীপুর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর জেলা বলে পরিচিত।

কমিশন রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালকে চিঠি দিয়ে বদলির নির্দেশ কার্যকর করতে বলা হয়েছে। সেই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া এবং কাঁথির এসডিপিও বদলের বিষয়টি। কাঁথিতে অতনু ঘোষালকে এসডিপিও করে পাঠানো হচ্ছে। তিনি রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের সঙ্গে যুক্ত। কাঁথি ছাড়াও হলদিয়ার এসডিপিও-কেও বদলে দেওয়ার নির্দেশ দিল কমিশন। ওই পদে পাঠানো হচ্ছে অলোক কুমারকে। তিনি ২০২৩ ব্যাচের আইপিএস।

অতীতেও একাধিক এসডিপিও-কেও বদলি করেছে কমিশন। এর আগে বেলডাঙার এসডিপিও পদে থাকা উত্তম গড়াইকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর জায়গায় বেলডাঙার নতুন এসডিপিও করা হয় আনন্দজিৎ হোড়কে। এ বার রাজ্যের আরও দুই এসডিপিও-কে বদল করা হল। মুখ্যসচিব ছাড়াও রদবদলের নির্দেশিকার প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে রাজ্যের সিইও মনোজ অগ্রবাল, রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত, কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ, স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ, রাজ্য পুলিশের নোডাল অফিসারকে। রবিবারই বিকেল ৫টার মধ্যে নবনিযুক্ত এসডিপিওদের দায়িত্ব নিতে বলেছে কমিশন।

Advertisement

উল্লেখ্য, পূর্ব মেদিনীপুরে প্রথম দফাতেই ভোটগ্রহণ হবে আগামী বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল। তার দিন তিনেক আগে দুই এসডিপিও-র বদলির নির্দেশ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে।

নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে আমলা এবং আইপিএস পদে বদল করছে কমিশন। ভোট ঘোষণার দিন মধ্যরাত থেকে এই পর্ব শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করেছিল কমিশন। এখনও তা অব্যাহত রয়েছে। কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না।

সংক্ষেপে
  • রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
  • পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
sdpo Election Commission
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy