Advertisement

নবান্ন অভিযান

পশ্চিমবঙ্গে আই-প্যাকের কাজ স্থগিত রাখার খবর ‘ভিত্তিহীন’, বিবৃতি দিয়ে দাবি করল তৃণমূল! জরুরি বৈঠকে পরামর্শদাতা সংস্থা

রবিবার সকালে আই-প্যাকের ইমেলের খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পরেই তৃণমূল একটি বিবৃতি দিয়েছে। তাতে দাবি করা হয়েছে, বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এই ধরনের খবর ছড়ানো হচ্ছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৪৪
(বাঁ দিক থেকে) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আই-প্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈন।

(বাঁ দিক থেকে) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আই-প্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈন। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

পশ্চিমবঙ্গে আই-প্যাকের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার খবরকে ‘ভিত্তিহীন’ বলল তৃণমূল। দলের তরফে বিবৃতি দিয়ে দাবি করা হয়েছে, ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি বা আই-প্যাক এখনও তৃণমূলের সঙ্গেই কাজ করছে। যদিও শনিবার মধ্যরাতে আই-প্যাক কর্তৃপক্ষ কর্মীদের যে ইমেল পাঠিয়েছেন, তাতে পশ্চিমবঙ্গে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২০ দিনের জন্য কর্মীদের ছুটিতে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। আনন্দবাজার ডট কম-এর হাতে সেই ইমেলের কপি রয়েছে। আই-প্যাক সূত্রে খবর, রবিবার বেলা ১২টা থেকে কর্তৃপক্ষ ভার্চুয়াল মাধ্যমে বিভিন্ন বিভাগের সঙ্গে বৈঠক করছেন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তাঁদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

রবিবার সকালে আই-প্যাকের ইমেলের খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পরেই তৃণমূল একটি বিবৃতি দিয়েছে। তাতে দাবি করা হয়েছে, ‘বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে’ এই ধরনের খবর ছড়ানো হচ্ছে। তৃণমূল বলেছে, ‘‘আমরা সংবাদমাধ্যমের একটি রিপোর্ট দেখেছি যেখানে বলা হচ্ছে, আই-প্যাক পশ্চিমবঙ্গে ২০ দিনের জন্য তাদের কাজ স্থগিত রেখেছে। এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টির ইচ্ছাকৃত প্রচেষ্টা বলে মনে হচ্ছে। আই-প্যাকের পশ্চিমবঙ্গের দল তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। রাজ্য জুড়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রচারের কাজ চলছে। ময়দান থেকে মনোযোগ সরানোর জন্য ইচ্ছা করা এই বয়ান ছড়ানো হচ্ছে।’’ তৃণমূলের আরও বক্তব্য, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের মানুষ সব দেখছে। গণতান্ত্রিক ভাবে এর জবাব দেওয়া হবে। অপপ্রচার বা ভীতিপ্রদর্শনের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গকে দমানো যাবে না। ২৩ এবং ২৯ তারিখ মানুষ জবাব দেবে। ৪ মে-র রায়ে তা প্রতিফলিত হবে।’’ আই-প্যাকের তরফে কোনও বিবৃতি এখনও পাওয়া যায়নি।

আই-প্যাক নিয়ে তৃণমূলের বিবৃতি।

আই-প্যাক নিয়ে তৃণমূলের বিবৃতি।

আই-প্যাকের তরফে পশ্চিমবঙ্গের কর্মীদের ২০ দিন ছুটিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ‘আইনি বাধ্যবাধকতা’র কারণ দেখিয়ে অবিলম্বে এ রাজ্যের কাজ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থা। ইমেলে বলা হয়েছে, আগামী ১১ মে-র পর আবার কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ স্থির করা হবে। তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থার বক্তব্য, ‘‘আইনকে আমরা শ্রদ্ধা করি এবং গোটা প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করছি। নির্দিষ্ট সময়ে বিচার মিলবে, আমরা নিশ্চিত।’’ উল্লেখ্য, ১১ মে-র মধ্যে এ রাজ্যের ভোটপর্ব মিটে যাবে। নতুন সরকারও গঠন হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে এখন থেকে ভোট পর্যন্ত তৃণমূলের সহায়ক সংস্থা যদি সত্যিই পশ্চিমবঙ্গে কাজ বন্ধ করে দেয়, দল বিপাকে পড়তে পারে। তৃণমূলের একটি সূত্রের অবশ্য দাবি, বাড়ি থেকে বা অন্য কোনও ভাবে আই-প্যাকের একটি অংশ কাজ করে যাবে।

কয়লা কেলেঙ্কারিতে আই-প্যাকের কলকাতার দফতর এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে হানা দিয়েছিল ইডি। তল্লাশি চলাকালীন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে পৌঁছে যান। অভিযোগ, বেশ কিছু নথি তিনি তল্লাশির মাঝপথে তুলে নিয়ে বেরিয়ে যান। মমতার অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করছে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি। প্রতীকের বাড়ি এবং আই-প্যাকের দফতর থেকে তাঁর দলের নির্বাচন সংক্রান্ত পরিকল্পনা, গুরুত্বপূর্ণ এবং গোপন নথি ‘চুরি’ করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলেও দাবি করেন তিনি। এই মামলার জল গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। আপাতত মামলাটি শীর্ষ আদালতে বিচারাধীন। তার মধ্যেই কিছু দিন আগে নয়াদিল্লি থেকে গ্রেফতার করা হয় আই-প্যাকের অন্যতম পরিচালক ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ চান্দেলকে। তিনি এখন ইডি হেফাজতে রয়েছেন। তাঁর গ্রেফতারির নিন্দায় সরব হয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সমাজমাধ্যমে লিখেছিলেন, ‘‘এটা গণতন্ত্র নয়, ভীতি প্রদর্শন।’’ এ বার সেই আই-প্যাকই তৃণমূলকে অস্বস্তিতে ফেলে পশ্চিমবঙ্গে ভোট না-মেটা পর্যন্ত কাজ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিল। যে খবরের বিরুদ্ধে বিবৃতি জারি করল তৃণমূল।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
I-Pac TMC Mamata Banerjee Abhishek Banerjee Pratik Jain
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy