Advertisement

নবান্ন অভিযান

কালীঘাটে তৃণমূল নেতার বাড়িতেও আয়কর হানা! সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলল তল্লাশি অভিযান

শুক্রবার সকাল থেকে কালীঘাটের গ্রিক চার্চের কাছে কুমার সাহার বাড়িতে তল্লাশি চালান আয়কর দফতরের আধিকারিকেরা। পেশায় ব্যবসায়ী কুমার তৃণমূলের ‘প্রভাবশালী’ নেতা হিসাবেও পরিচিত।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৪৪
কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযানের সময়ে মোতায়েন কেন্দ্রীয় বাহিনী।

কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযানের সময়ে মোতায়েন কেন্দ্রীয় বাহিনী। —প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

কালীঘাটের এক তৃণমূল নেতার বাড়িতে দীর্ঘক্ষণ ধরে তল্লাশি চালায় আয়কর দফতর। শুক্রবার সকালে কালীঘাটের গ্রিক চার্চের কাছে কুমার সাহার বাড়িতে হানা দেন আয়কর আধিকারিকেরা। দীর্ঘ তল্লাশির পরে দুপুরে কুমারের বাড়ি থেকে একে একে বেরিয়ে যান তাঁরা।

পেশায় ব্যবসায়ী কুমার তৃণমূলের ‘প্রভাবশালী’ নেতা হিসাবেও পরিচিত এলাকায়। কী কারণে তাঁর বাড়িতে আয়কর দফতর হানা দিয়েছে, তা প্রাথমিক ভাবে স্পষ্ট নয়। শুক্রবারভোরে রাসবিহারীর বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারের বাড়িতেও হানা দেয় আয়কর দফতর। সূত্রের খবর, দেবাশিসের সঙ্গে ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক’ রয়েছে কুমারেরও।

দক্ষিণ কলকাতায় তৃণমূলের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসাবে পরিচিত কুমার এক সময়ে কংগ্রেস করতেন। ছিলেন সোমেন মিত্রের অনুগামী। তাঁর সঙ্গেই তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন কুমার। পরে মতপার্থক্যের কারণে কংগ্রেসে ফিরে যান। তার পর আবার তৃণমূলে আসেন। সূত্রের খবর, ২০১৪ সালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের যুব সংগঠনের দায়িত্ব নেওয়ার পরবর্তী সময়ে তৃণমূলে গুরুত্ব বাড়তে শুরু করে কুমারের।

বর্তমানে দক্ষিণ কলকাতার হাজরা এবং রাসবিহারী অঞ্চলে শাসকদলের সভা-সমিতিতে লোক ভরানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা থাকে তাঁর। দেবাশিস, তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী-সহ দক্ষিণ কলকাতায় তৃণমূলের বিভিন্ন ‘মাথাদের’ সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা রয়েছে কুমারের। ৬৪ পল্লির দুর্গাপুজো তাঁরই পুজো বলে পরিচিত। কালীঘাট মন্দিরেও তাঁর ‘প্রভাব’ রয়েছে বলে সূত্রের খবর। এ অবস্থায় বিধায়ক দেবাশিসের মনোহরপুকুর রোডের বাড়িতে তল্লাশির দিনেই কালীঘাটের তৃণমূল নেতা কুমারের বাড়িতেও হানা দেয় আয়কর আধিকারিকেরা।

দেবাশিসের নির্বাচনী কার্যালয়েও অভিযান চলে শুক্রবার। ওই এলাকার অদূরেই মতিলাল নেহরু রোডে তৃণমূল একটি পার্টি অফিসও রয়েছে। সেখানেও হানা দিয়েছিলেন আয়কর আধিকারিকেরা।

রাসবিহারীর বিধায়কের বাড়ি এবং কালীঘাটের তৃণমূল নেতার বাড়িতে অভিযানের মধ্যে কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা প্রাথমিক ভাবে স্পষ্ট নয়। সম্প্রতি জমি সংক্রান্ত মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একাধিক বার দেবাশিসকে তলব করেছিল অপর এক কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তার পরেই শুক্রবার সকালে আয়কর দফকরের এই অভিযান শুরু হয় দেবাশিসের বাড়িতে।


সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
IT Raid
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy