Advertisement
E-Paper

প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতিপূরণ, মানহানির মামলা দায়ের করছেন শতদ্রু

লিয়োনেল মেসিকে নিয়ে বিশৃঙ্খলার জেরে ইতিমধ্যেই প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। ক্রীড়া সংগঠক শতদ্রু দত্ত জানিয়েছেন, অরূপের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ, আর্থিক ক্ষতি ও মানহানির মামলা দায়ের করা হবে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ জুন ২০২৬ ২০:৫৭
football

ঘটনার দিন মেসির পাশে শতদ্রু। ছবি: পিটিআই।

লিয়োনেল মেসিকে যুবভারতীতে আনা নিয়ে বিশৃঙ্খলার জেরে ইতিমধ্যেই প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এ বার ক্রীড়া সংগঠক শতদ্রু দত্ত জানিয়েছেন, অরূপের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ, আর্থিক ক্ষতি ও মানহানির মামলা দায়ের করা হবে। আগামী ৩ জুন ওই মামলা দায়ের করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার সমাজমাধ্যমের একটি পোস্টে শতদ্রু জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত বিবাদীদের মধ্যে রয়েছেন জুঁই বিশ্বাস এবং কয়েকজন সাংবাদিক, যাঁদের কর্মকাণ্ডের ফলে তাঁর ও অনুষ্ঠানের সুনাম, আর্থিক স্বার্থ এবং ব্যক্তিগত জীবনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শতদ্রুর দাবি, ইতিমধ্যেই দায়ের হওয়া এফআইআর-এ ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২০বি (ফৌজদারি ষড়যন্ত্র) ধারা-সহ প্রতারণা, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক ধারায় আরও কয়েক জনের নাম যুক্ত করার আবেদন করা হবে। এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে নথিপত্র, ভিডিও ফুটেজ এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে।

শতদ্রু জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত তাঁরা মোট ১৯ জন ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছেন, যাঁদের ভূমিকা ও সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিশদে মূল্যায়ন করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী এবং উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ ও আদালতের সামনে উপস্থাপনযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী সমস্ত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। শতদ্রুর দাবি, যে সকল ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থেকে অনুষ্ঠান, আয়োজক, অংশীদার এবং হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমীর ক্ষতির কারণ হয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এই আইনি লড়াইয়ের উদ্দেশ্য।

এ দিকে, বাটা ক্লাবের প্রতিনিধি অভিজিৎ দত্তের বিরুদ্ধেও অনৈতিক ভাবে মাঠে ঢোকার অভিযোগ এনেছেন শতদ্রু। তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক ক্ষতিপূরণের মামলা করা হতে চলেছে।

উল্লেখ্য, অরূপের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি ধারায় এফআইআর রুজু করা হয়েছে— অভিন্ন উদ্দেশ্য ৩(৫), তোলাবাজি ৩০৮(২), প্রতারণা ৩১৮(৪), অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন ৩৫১(২) এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ৬১(২)।

অভিযোগ, গত ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতীতে মেসির অনুষ্ঠানের আগে শতদ্রুর কাছে প্রচুর টিকিট দাবি করেছিলেন অরূপ। তাঁর কথার অমান্য করলে অনুষ্ঠান বাতিল করে দেওয়ার হুমকিও দেন তিনি। শতদ্রুর থেকে ২২ হাজার ‘কমপ্লিমেন্টারি’ টিকিট নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে অরূপের বিরুদ্ধে। সেই টিকিটগুলি পরে কালোবাজারি করা হয় বলে অভিযোগ। মেসির অনুষ্ঠানকে ঘিরে যে ভিড় তৈরি হয়েছিল, সেখানে ছিলেন মূলত উদ্যোক্তা, ছবিশিকারি, নেতা, মন্ত্রী এবং তাঁদের ঘনিষ্ঠজনেরা। অভিযোগ, মেসির গায়ে কার্যত লেপ্টে ছিলেন অরূপ।

এর আগে গত ১৯ মে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অরূপ, জুঁই বিশ্বাস, আইএএস আধিকারিক শান্তনু বসু, রাজ্য পুলিশের তৎকালীন ডিজি রাজীব কুমার-সহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন শতদ্রু। তাঁর দাবি, অরূপ-সহ কয়েক জন ব্যক্তির ভুলের জন্য পুরো অনুষ্ঠানটি ‘পণ্ড’ হয়েছে। অনেকেই অনুমতি ছাড়াই মাঠে প্রবেশ করেছিলেন। যার জেরে তৈরি হয় বিশৃঙ্খলা।

গত ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতীর ঘটনার তদন্ত শুরু হওয়ার পরে প্রবল সমালোচনার মুখে তিনি ক্রীড়ামন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে ‘অব্যাহতি’ নেন। প্রভাবশালীদের ভিড়ে একসময় মাঠে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়ে গিয়েছিল। মেসির সতীর্থ লুইস সুয়ারেজ়ের পেটে কারও কনুইয়ের গুঁতো লাগে। কারও নখের ঘায়ে ছড়ে যায় রদ্রিগো ডি’পলের হাত। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে মেসির নিরাপত্তারক্ষীরাই তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যান। তার পরে শুরু হয় স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে তাণ্ডব। ক্রুদ্ধ দর্শকেরা মাঠে ঢুকে পড়েন। বিধাননগর দক্ষিণ থানায় ওই ঘটনা নিয়ে দু’টি পৃথক মামলা হয়েছিল। প্রথম মামলায় একমাত্র গ্রেফতার শতদ্রু। দ্বিতীয় মামলায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের অভিযোগে আরও কয়েক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। আদালতে শতদ্রুর জামিনের বিরোধিতা করে পুলিশ জানিয়েছিল, প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক মেসিকে দেখবেন বলে টিকিট কেটেছিলেন। ১৯ কোটি টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছিল।

Aroop Biswas Satadru Dutta Lionel Messi
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy