বিজেপির ভোটপ্রচারে আবার পশ্চিমবঙ্গ সফরে আদিত্যনাথ। তৃণমূলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্লোগান ‘খেলা হবে’কে কটাক্ষ করে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী বললেন, ‘‘এ বার খেলা শেষ।’’ তাঁর হুঁশিয়ারি, ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে ৪ মে ফলপ্রকাশের পর তৃণমূলের কর্মীরা জল দেওয়ার জন্যও কাউকে পাশে পাবেন না। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে শনিবারও আদিত্যনাথের প্রচারে ছিল বুলডোজ়ার।
শনিবার বিকেলে বাঁকুড়ার বিজেপি প্রার্থী নীলাদ্রিশেখর দানার সমর্থনে শহরে হুডখোলা গাড়িতে চড়ে ‘রোড শো’ করেন আদিত্যনাথ। মিছিলে ছিল ফুল, বিজেপির দলীয় পতাকা ও ফ্লেক্স দিয়ে সজ্জিত একটি বুলডোজ়ার। তাতে ছিলেন বিজেপির বেশ কয়েক জন মহিলাকর্মী। রোড শো শেষে নাতিদীর্ঘ বক্তব্যে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘এ বার বাংলায় খেলা শেষ, উন্নয়ন শুরু।’’
বাঁকুড়া শহরের লালবাজার মোড় থেকে মাচানতলা পর্যন্ত বিজেপির ‘রোড শো’ দেখতে জনসমাগম হয়েছিল ভালই। ভ্যাপসা গরমের মধ্যেও কর্মী-সমর্থকদের ভিড় উপচে পড়েছিল। হুডখোলা গাড়িতে প্রার্থী নিলাদ্রী এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুভাষ সরকারকে নিয়ে ‘রোড শো’ করেন আদিত্যনাথ। তাঁদের গাড়ির দেড়শো মিটার আগে গড়াচ্ছিল সুসজ্জিত বুলডোজ়ার। মাচানতলায় ‘রোড শো’ শেষ হওয়ার সময় মাইক তুলে নেন আদিত্যনাথ। তাঁর কথায়, ‘‘৪ মে বাংলায় তৃণমূলের জন্য অন্ধকারের মেঘ নেমে আসবে। ওই দিন বিজেপির সূর্যোদয় হবে। নতুন করে পদ্মফুল ফুটে উঠবে। এ বার বাংলায় তৃণমূলের খেলা শেষ, উন্নয়ন শুরু।’’
আরও পড়ুন:
তার আগে মাথাভাঙা বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিক এবং শীতলকুচি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সবিতা বর্মণের সমর্থনে মাথাভাঙা কলেজ মোড় সংলগ্ন ইটভাটার মাঠে জনসভা করেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, ‘‘তৃণমূল কর্মীরা হুমকি দিলে ৪ মে-র পর থেকে তাদের জল দেওয়ার লোক থাকবে না।’’ সেখান থেকে অভিযোগের সুরে তিনি বলেন, মহিলা সংরক্ষণ বিলের বিরোধিতা করেছে বাম, কংগ্রেস এবং তৃণমূল মহিলাদের অধিকার দিতে অস্বীকার করেছে। তৃণমূল অনুপ্রবেশকারীদের প্রশ্রয় দেয়। তা ছাড়া পশ্চিমবঙ্গে ধর্মীয় কার্যকলাপে বাধা দেওয়া হয়। তাঁর রাজ্যের তুলনা টেনে আদিত্যনাথ বলেন, ‘‘কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি বা তৃণমূল কংগ্রেস কেউ উত্তরপ্রদেশে রামমন্দির নির্মাণ আটকাতে পারেনি। পশ্চিমবঙ্গের শিল্প পরিস্থিতি নিয়েও সমালোচনা করেন তাঁর দাবি, তৃণমূল সরকারের ১৫ বছরে প্রায় সাত হাজার কারখানা বন্ধ হয়েছে। প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ বেকার হয়েছেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত