কলকাতায় ভোটের মুখে ফের সক্রিয় ইডি। শহরের একটি রিয়্যাল এস্টেট সংস্থার একাধিক দফতরে বুধবার সকালে হানা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। আর্থিক তছরুপের মামলায় অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যে এই হানা বলে খবর। দীর্ঘ ক্ষণ তল্লাশি চলেছে। কোনও জায়গা থেকে কিছু পাওয়া গিয়েছে কি না, কেন্দ্রীয় সংস্থা কিছু বাজেয়াপ্ত করেছে কি না, এখনও স্পষ্ট নয়।
আরও পড়ুন:
বুধবার সকালে ইডির একাধিক দল সিজিও কমপ্লেক্স থেকে রওনা দেয়। সঙ্গে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। তারা শহর এবং শহরতলির ছয় থেকে সাতটি জায়গায় হানা দিয়েছে বলে খবর। কেষ্টপুরের একটি ফ্ল্যাট, প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডেও গিয়েছিল ইডি। মূলত নির্দিষ্ট ওই নির্মাণসংস্থার সঙ্গে যুক্ত বাড়ি, ফ্ল্যাট এবং দফতরে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে। ইডি সূত্রে খবর, ভোটের আগে বেআইনি আর্থিক লেনদেন ঠেকাতেই এই অভিযান। জমি সংক্রান্ত কিছু বিষয়ে লেনদেনের তথ্য সন্ধান করছেন গোয়েন্দারা।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই শহরে ইডি সক্রিয়। বেশ কিছু জায়গায় তল্লাশির পাশাপাশি দফতরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছিল রাসবিহারী বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারকে। তিনি দু’বার হাজিরা দিয়েছেন। বালিগঞ্জের আলোচিত চরিত্র সোনা পাপ্পুর বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়েছে। সেখান থেকে অস্ত্রশস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। এ ছাড়া, পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিস পাঠানো হয়েছে দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু এবং খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষকে। তাঁরা কেন্দ্রীয় সংস্থার কাছে সময় চেয়েছেন।
কয়েক সপ্তাহ আগে কলকাতায় রাজ্য সরকার এবং তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের দফতর এবং ওই সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি হানা দিয়েছিল। তল্লাশির মাঝেই সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একাধিক নথিপত্র তুলে নিয়ে বেরিয়ে যান তিনি। সেই সংক্রান্ত মামলা সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। মমতা অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর দলের ভোট সংক্রান্ত নথি ‘ছিনতাই’ করে নিচ্ছিল ইডি। আবার ইডির পাল্টা অভিযোগ, সাংবিধানিক ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করে মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের কাজে বাধা দিয়েছেন। এ বার শহরের নির্মাণকারী সংস্থাও ইডির নজরে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত