পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে উস্কানিমূলক মন্তব্য করছেন। সোমবার রাজ্যের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে শুনানিতে এমনই অভিযোগ জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তারা জানিয়েছে, এই সংক্রান্ত মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। এই মন্তব্যের জেরে পরিবেশ আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কমিশনের আইনজীবী। সু্প্রিম কোর্ট জানায়, প্রয়োজনে হস্তক্ষেপ করা হবে। এর আগে এই নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে রিপোর্ট চেয়েছিল কমিশন।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির বেঞ্চে এসআইআর মামলার শুনানি হয়। সেখানে কমিশনের তরফে বলা হয়, ‘‘গতকাল একটি বক্তৃতায় বলা হয়েছে (মুখ্যমন্ত্রীর), উত্তরপ্রদেশ থেকে সিআরপিএফ জওয়ানেরা এসে আপনাদের মারবে, তাই প্রস্তুত থাকুন।’’ কমিশন আরও জানায়, এই ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য পরিবেশকে আরও খারাপ করে দেবে। কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের রেকর্ডিং আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে কমিশন। এর পরেই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি কান্ত বলেন, ‘‘যদি রাজ্যের প্রশাসন ব্যর্থ হয়, তবে কী করতে হবে তা বিবেচনা করব।’’
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, গত ২৫ মার্চ দার্জিলিং জেলার নকশালবাড়ির নন্দপ্রসাদ গার্লস’ হাই স্কুলের মাঠে একটি জনসভায় মু্খ্যমন্ত্রীর মমতা বলেছিলেন, ‘‘মা-বোনেদের একটা দায়িত্ব দিয়ে গেলাম। ছাত্র-যুবরা পাহারা দেবে ভোট মেশিন আর নির্বাচনী বুথ। মা-বোনেরা নির্বাচনের দিন সকাল থেকে ভোটকেন্দ্র পাহারা দেবেন।’’ তার প্রেক্ষিতে কমিশন জানায়, মুখ্যমন্ত্রীর ওই মন্তব্যকে তারা গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়।
এ বার রবিবারের জনসভায় মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে করা একটি মন্তব্যের রেকর্ডিং তারা সুপ্রিম কোর্টে জমা দিয়েছে বলে জানাল। শীর্ষ আদালতও জানিয়েছে, প্রয়োজনে হস্তক্ষেপ করা হবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত