পোষ্যের মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েন মঞ্জরী ফডণীস। একটি ভিডিয়োবার্তার মাধ্যমে জানান, তাঁদের পোষ্য সারমেয়কে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার বিবরণ দিতে দিতে কান্না ধরে রাখতে পারছিলেন না মঞ্জরী। শিউরে উঠেছেন নেটাগরিকও। বলিউডের অন্য অভিনেতারাও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। আইন ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
মঞ্জরী জানান, তিনি মুম্বইয়ের যে আবাসনে থাকেন, সেখানেই ‘মাইকি’ নামের সারমেয়টি থাকত। সারমেয়টিকে আগে একটি পরিবার দত্তক নিয়েছিল। কিন্তু তারা এই আবাসনে ‘মাইকি’কে ছেড়ে চলে যায়। তার পর থেকে আবাসনের বাসিন্দারাই দেখভাল করে ‘মাইকি’র। কিন্তু কয়েক দিন ধরে নিখোঁজ ছিল সে। সেই সারমেয়র পরিণতি পরে এক প্রতিবেশীর থেকে জানতে পারেন মঞ্জরী। অভিনেত্রী জানান, পোষ্যকে মারধর করে ব্যাগে করে ফেলে আসা হয়। তখনও তার দেহে প্রাণ ছিল।
ঘটনা শুনে অভিনেত্রী ভূমি পেডনেকরের প্রতিক্রিয়া, “আমি দুঃখিত। সত্যিই মন ভেঙে গিয়েছে। মাইকির জন্য বিচার চাই।” ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন করিশ্মা তন্নাও। তিনি মন্তব্য করেছেন, “আমার মন ভেঙে গিয়েছে। মঞ্জরী, আমি জানি এই যন্ত্রণা। ভারতের আইন ও আমাদের বিবেক সব আজ ব্যর্থ।”
আরও পড়ুন:
সন্ধ্যা মৃদুলও সমাজমাধ্যমে লেখেন, “ভয়ঙ্কর রকমের নৃশংসা ঘটনা। তুমি লড়াই জারি রাখো। তোমাকে অনেক শক্তি দিক ঈশ্বর।” ধনশ্রী বর্মা ঘটনা শুনে ক্ষুব্ধ। পোষ্যের উপর যারা অত্যাচার করেছে, তাদের সম্বন্ধে বিশদে জানতে চেয়েছেন তিনি। তাঁর প্রতিক্রিয়া, “ভয়ঙ্কর ঘটনা। ওই লোকগুলো কোথায় আছে, জানাও। ওদের ছেড়ে দেওয়া যাবে না।” নেটাগরিকেরাও গর্জে উঠেছেন বিষয়টি দেখে।
উল্লেখ্য, অভিনেত্রী ভিডিয়োয় জানান, ‘মাইকি’ নাকি শান্ত ভাবে ঘুমোচ্ছিল। তখন তাকে লাঠি বা লোহার রড জাতীয় কিছু দিয়ে মারা হয়। এখানেই শেষ নয়। সিঁড়ি দিয়ে নাকি তাকে টানতে টানতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ফের লাঠি দিয়ে মারা হয়। ঘটনার বিবরণ দিতে দিতে কান্না ধরে রাখতে পারেননি মঞ্জরী। কোনও রকমে নিজেকে সামলে নৃশংসতার বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, “ওকে এত মারা হয়েছে যে ওর মুখ দিয়ে রক্ত বেরোচ্ছিল। ও ভয়ে প্রস্রাব করে ফেলেছিল বলে ওকে আরও মারধর করা হয়।”
এর পরে কুকুরটিকে মৃতপ্রায় অবস্থায় ব্যাগে ভরে ফেলে আসা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন অভিনেত্রী। কাঁদতে কাঁদতে মঞ্জরী বলেন, “আমরা জানি না মাইকি এখনও বেঁচে আছে কি না। ওকে যখন ফেলে আসা হয়, ওর দেহে তখনও প্রাণ ছিল। ওর দেহটা খোঁজার চেষ্টা করছি আমরা।”