Advertisement

নবান্ন অভিযান

কমিশনের ব্যাখ্যার পর ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র থেকে ধর্না তুলে নিলেন কুণাল, শশী! স্ট্রংরুম দেখতে মমতা শাখাওয়াত স্কুলে

কমিশনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রংরুমে উত্তর কলকাতায় সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের ইভিএম রয়েছে। সেই সঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রের পোস্টাল ব্যালটের জন্য পৃথক একটি স্ট্রংরুমও রয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ২২:৪১
কুণাল ঘোষ এবং শশী পাঁজা।

কুণাল ঘোষ এবং শশী পাঁজা। ফাইল চিত্র।

ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রংরুমের ভিতরে ‘সন্দেহজনক গতিবিধির’ অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের গেটের বাইরে অবস্থানে বসেন তৃণমূলের দুই প্রার্থী, কুণাল ঘোষ এবং শশী পাঁজা। তারই মধ্যে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পৌঁছে যান শাখাওয়াত মেমোরিয়াল গণনাকেন্দ্রের স্ট্রংরুমে। গিয়েছিলেন বন্দর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী ফিরহাদ (ববি) হাকিমও! স্ট্রংরুম পর্যবেক্ষণের পরে মমতা তৃণমূল প্রার্থীদের রাত জেগে পাহারা দেওয়ার বার্তা দেন। সূত্রের খবর, উত্তর কলকাতার এক তৃণমূল প্রার্থীকে মমতা সর্ব ক্ষণ নজরদারি করার নির্দেশ দেন। শৌচকর্মের জন্য বাইরে গেলে তাঁদের বদলে যেন অন্য লোক মোতায়েন থাকেন, তাও বলেন। জল ও খাবারের ব্যবস্থা করে রাখতেও বলেছেন তিনি।

ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল এবং শ্যামপুকুরের তৃণমূল প্রার্থী শশীর অবস্থান চলাকালীন দুই বিজেপি প্রার্থী, চৌরঙ্গির সন্তোষ পাঠক এবং মাণিকতলার তাপস রায় সেখানে পৌঁছন। তাঁরা স্ট্রংরুমের সামনে তৃণমূলের জমায়েত নিয়ে আপত্তি তোলেন। শেষ পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টা অবস্থান চালানোর পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে অবস্থান তুলে নেন তৃণমূল প্রার্থীরা। তবে স্ট্রংরুমে সন্দেহজনক গতিবিধির পাশাপাশি নিয়ম না মেনে পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত কাজের অভিযোগও তোলা হয়েছে তৃণমূলের তরফে। যদিও কমিশনের তরফে অভিযোগ অস্বীকার করে জানানো হয়েছে, আগেই ইমেলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিধানসভাগুলির প্রার্থীদের পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত কাজের বিষয়ে অবহিত করা হয়েছিল।

কমিশনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রংরুমে উত্তর কলকাতার সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের ইভিএম রয়েছে। বুধবার ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রার্থী/নির্বাচনী এজেন্ট এবং পর্যবেক্ষকের উপস্থিতিতে সবক’টি কক্ষ যথাযথ ভাবে বন্ধ করে সিল করা হয়েছে। শেষ স্ট্রংরুমটি বৃহস্পতিবার সকাল সওয়া ৫টায় বন্ধ করা হয়। কমিশনের দাবি, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রেই পোস্টাল ব্যালটের জন্য আরেকটি স্ট্রংরুম রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন কেন্দ্রের পোস্টাল ব্যালটগুলি রাখা হয়েছে। সেগুলি কেন্দ্রওয়াড়ি বাছাই করার কাজ করা হয়েছে।

কমিশনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘⁠আমরা পর্যবেক্ষক এবং রিটার্নিং অফিসারদের বিষয়টি জানিয়েছিলাম। রিটার্নিং অফিসারদের এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী ও এজেন্টদের এ বিষয়ে অবহিত করতে অনুরোধ করেছিলাম। রিটার্নিং অফিসারেরা রাজনৈতিক দলগুলিকে ইমেলের মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়েছেন। ব্যালটের পৃথকীকরণ বিকেল ৪টে থেকে ভোটগ্রহণকৃত কক্ষগুলির করিডরে চলছিল।’’ সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের স্ট্রংরুম নিরাপদ, সুরক্ষিত এবং তালাবদ্ধ রয়েছে। তৃণমূল এবং বিজেপির প্রতিনিধিদের সমস্ত কিছু দেখানো হয়েছে বলেও জানিয়েছে সিইও দফতর।

প্রার্থী বা তাঁদের প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিতে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের ভেতরে কে বা কারা ঢুকেছেন এবং কী করে ঢুকেছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কুণাল বলেন, “সাড়ে ৩টে পর্যন্ত স্ট্রংরুমে সামনে দলীয় কর্মী-সমর্থকেরা ছিলেন। তাঁদের বিকেলের দিকে সরিয়ে দেওয়া হয়। মাঝে আচমকা ইমেল পাঠিয়ে জানানো হয়, বিকেল ৪টের সময় ফের খোলা হবে স্ট্রংরুম। আমরা তখন দলীয় কর্মীদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করি। জিজ্ঞেস করি, তোমরা আছ? তাঁরা জানান, চলে গিয়েছেন। তখন আমরা দু’জনে (তিনি ও শশী) দৌড়ে এসেছি।’’ অবস্থান তোলার সময় কুণাল চার দফা দাবিও জানিয়েছেন— ১. পোস্টাল ব্যালট যেখানে আছে, সেখানে সিসি ক্যামেরা লাগাতে হবে। ২. সেই সিসি ক্যামেরার ভিডিয়ো বাইরের স্ক্রিনে দেখানোর বন্দোবস্ত করতে হবে। ৩. বাইরে রাখা স্ক্রিনের সামনে প্রার্থীর প্রতিনিধিকে থাকতে দিতে হবে। ৪. পুলিশের তরফে কোনও বাধাদান করা হবে না। কুণাল বলেন, ‘‘ডিইও-র কাছ থেকে এই নিশ্চয়তা পাওয়ার পরে আমরা অবস্থান তুলেছি। তিনি নিশ্চিত করেছেন, আমাদের না জানিয়ে স্ট্রংরুম খালো হবে না। আমাদের লোকজন ওখানে পাহারা দেবেন।’’

সংক্ষেপে
  • রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
  • পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
সর্বশেষ
১৭ মিনিট আগে
TMC BJP Kunal Ghosh Sashi Panja
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy