Advertisement

নবান্ন অভিযান

৫৭ লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটারের তথ্যের নিষ্পত্তি শেষ, বাকি আর তিন লক্ষ! দশম অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ কমিশনের

কমিশন আগেই জানিয়েছে, মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনের আগে সেগুলি নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। রাজ্যে প্রথম দফার ভোটের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৬ এপ্রিল।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:৪১
Election Commission has published 57 lakhs voters data disposed in SIR process

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় ‘অ্যাডজুডিকেশন’ (বিবেচনাধীন) তালিকায় থাকা ৬০ লক্ষেরও বেশি ভোটারের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ৫৭ লক্ষের তথ্য যাচাই করে নিষ্পত্তির কাজ সম্পন্ন। শনিবার এসআইআরের দশম অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করে এমনই জানাল নির্বাচন কমিশন।

২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল কমিশন। তখন বিবেচনাধীন ভোটার ছিলেন ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সেই ভোটারদের তথ্য যাচাই করে নিষ্পত্তির কাজ শুরু করেন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা। ৭০৫ জন বিচারক সেই কাজ করছেন। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মতো ধাপে ধাপে নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়া ভোটারদের তালিকা প্রকাশ করছে রাজ্যের নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) অফিস। সেই অনুযায়ী গত ২৩ মার্চ রাত থেকে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ শুরু হয়েছে। শনিবার দশম অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ হল।

শনিবার এসআইআরের অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করে কমিশন জানিয়েছে, বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা ৫৭ লক্ষ ভোটারের তথ্য নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। বাকি আর মাত্র তিন লক্ষ ভোটারের তথ্য নিষ্পত্তির কাজ। কমিশন আগেই জানিয়েছে, মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনের আগে সেগুলি নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। রাজ্যে প্রথম দফার ভোটের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৬ এপ্রিল।

এখনও পর্যন্ত বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা কত জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, তা স্পষ্ট নয়। তবে যাঁদের নাম বাদ পড়ছে, তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত ট্রাইবুনালে আবেদন করতে পারবেন। নাম বাদ পড়লে অনলাইন এবং অফলাইন— দুই মাধ্যমেই পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করা যাবে। অনলাইনে কমিশনের ওয়েবসাইটে (voter.eci.gov.in) গিয়ে ‘সাবমিট অ্যাপিল্‌স ফর ইন্ডিভিজ়ুয়াল্‌স’ নামের ট্যাবে ক্লিক করতে হবে। সেখানে আবেদন জানাতে পারবেন ভোটারেরা। তবে যাঁরা বিবেচনাধীন তালিকায় ছিলেন তাঁরাই কেবল এখানে আবেদন করতে পারবেন। আর অফলাইনে আবেদন জানাতে হবে জেলাশাসক কিংবা মহকুমাশাসকের দফতরে। সংশ্লিষ্ট আধিকারিক ভোটারের ওই আবেদন অনলাইনে তুলে দেবেন।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
SIR Election Commission
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy