অমিত শাহের উপস্থিতিতে শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে রোড শো ঘিরে অশান্তির ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল ভবানীপুর। এ বার সেই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার কারণে চার পুলিশ আধিকারিককে নিলম্বিত (সাসপেন্ড) করল নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে ওই চার জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়ছে। অবিলম্বে পদক্ষেপ করতে বলেছে কমিশন।
রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালাকে চিঠি দিয়ে ভবানীপুরের ঘটনায় পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। যে চার পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাঁরা হলেন— কলকাতা পুলিশের ডিসি (২) সিদ্ধার্থ দত্ত, আলিপুর থানার ওসি প্রিয়ঙ্কর চক্রবর্তী, অতিরিক্ত ওসি চণ্ডীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সার্জেন্ট সৌরভ চট্টোপাধ্যায়।
কমিশন জানিয়েছে, ভবানীপুরের ঘটনায় ওই চার পুলিশ আধিকারিককে অবিলম্বে সাসপেন্ড করে বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে। কমিশনের নির্দেশ মানা হচ্ছে কি না, তা জানিয়ে রবিবার সকাল ১১টার মধ্যে মুখ্যসচিবকে রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, শীঘ্রই ওই চার জায়গায় অন্য কাউকে দায়িত্ব দিতে হবে। এই চিঠির একটি কপি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল, কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ এবং স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষকে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশমতো পদক্ষেপ করার কথা উল্লেখ করেছে কমিশন।
ভবানীপুরে অশান্তির পরেই রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে করেছিলেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। সূত্রের খবর, কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দকে ভর্ৎসনা করেন তিনি। ওই গোলমালের ঘটনায় কালীঘাট এবং আলিপুর থানায় পৃথক ভাবে তিনটি অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। তার ভিত্তিতে পুলিশ এফআইআর করে। দু’টি এফআইআর করা হয়েছে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে। কমিশনের আধিকারিকদের অভিযোগের ভিত্তিতেও পদক্ষেপ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে মূলত বেআইনি জমায়েত, স্লোগান, পাল্টা স্লোগানে উত্তপ্ত পরিস্থিতি এবং সরকারি নির্দেশিকা লঙ্ঘনের।
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে হাজরা মোড় থেকে শুরু হয়েছিল রোড শো। ছিলেন ভাবীনপুরের প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী-সহ একাধিক বিজেপি নেতা। সার্ভে বিল্ডিং পর্যন্ত রোড শো করেই মনোনয়ন জমা দিতে গিয়েছিলেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে দিয়ে মিছিল যাওয়ার সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেখানে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা মাথায় কালো কাপড় বেঁধে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে বিজেপি কর্মীরা তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়েন। ক্রমে তা ধস্তাধস্তির পর্যায়ে পৌঁছোয়। সেই ঘটনায় এ বার চার পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড করল কমিশন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত