Advertisement

নবান্ন অভিযান

দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকায় জুড়ল আরও ১৪৬৮ নাম! ট্রাইবুনালে ‘পাশ’ হওয়াদের তালিকা দিল কমিশন

বুধবার রাজ্যে দ্বিতীয় দফার নির্বাচন রয়েছে। সাত জেলার মোট ১৪২টি আসনে হবে ভোটগ্রহণ। নতুন প্রকাশিত অতিরিক্ত তালিকায় দ্বিতীয় দফার ভোটকেন্দ্রগুলির যে ভোটারদের নাম জুড়ল, তাঁরাও ভোট দিতে পারবেন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:০৯
টাঙিয়ে রাখা ভোটার তালিকার তথ্য দেখছেন এক ভোটার।

টাঙিয়ে রাখা ভোটার তালিকার তথ্য দেখছেন এক ভোটার। — ফাইল চিত্র।

সুপ্রিম কোর্ট আগেই নির্দেশ দিয়ে রেখেছিল। সেই মতো দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে ফের অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। ট্রাইবুনালে আবেদনের নিষ্পত্তি হওয়ার পরে দ্বিতীয় দফার ভোটে ‘পাশ’ হওয়া ১৪৬৮ জনের নাম জুড়ছে ভোটার তালিকায়। বাদও গিয়েছে ৬ জনের নাম।

মঙ্গলবার প্রকাশিত অতিরিক্ত তালিকায় কলকাতা দক্ষিণে ৬৭৭ জনের নাম জুড়েছে। কলকাতা উত্তরে জুড়েছে ৫৯৬ জনের নাম। হাওড়ায় জুড়েছে ৭৭ জনের নাম। পাশাপাশি নদিয়ায় ৩৯ জন, উত্তর ২৪ পরগনায় ৩৪ জন, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৩০ জন, পূর্ব বর্ধমানে আট জন এবং হুগলিতে সাত জনের নাম যুক্ত হয়েছে ভোটার তালিকায়।

বুধবার রাজ্যে দ্বিতীয় দফার নির্বাচন রয়েছে। সাত জেলার মোট ১৪২টি আসনে হবে ভোটগ্রহণ। নতুন প্রকাশিত অতিরিক্ত তালিকায় দ্বিতীয় দফার ভোটকেন্দ্রগুলির যে ভোটারদের নাম জুড়ল, তাঁরাও ভোট দিতে পারবেন। নিয়ম অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা আগেই ‘ফ্রিজ়’ হয়ে গিয়েছিল। তবে সুপ্রিম কোর্টে নির্দেশ ছিল, ভোটের দু’দিন আগেও ট্রাইবুনাল যে সমস্ত নামের নিষ্পত্তি করবে এবং যাঁদের ভোটার হিসাবে ছাড়পত্র দেবে, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন। শীর্ষ আদালতের সেই নির্দেশ মোতাবেক এ বার পদক্ষেপ করল কমিশন। জানা যাচ্ছে, সোমবার পর্যন্ত যে আবেদনগুলির নিষ্পত্তি হয়েছে ট্রাইবুনালে, তার ভিত্তিতে এই অতিরিক্ত তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

এর আগে প্রথম দফার ভোটের আগেও আদালতের নির্দেশ মতো একটি অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করেছিল কমিশন। তখন প্রথম দফার ১৩৯ জন ভোটারের নাম তালিকায় যুক্ত করা হয়। তবে আগের তালিকা থেকে মুছেও দেওয়া হল আট জনের নাম। বস্তুত, পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের পর বিবেচনাধীন তালিকায় ছিল ৬০ লক্ষাধিক নাম। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা সেই বিবেচনাধীন তালিকার নামগুলির নিষ্পত্তি করেন। তাতেও অনেক ভোটার ‘অযোগ্য’ হিসাবে বিবেচিত হয়েছিলেন। এ অবস্থায় আদালত জানিয়েছিল, চাইলে ওই ভোটারেরা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত ট্রাইবুনালে আবেদন জানাতে পারবেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের প্রথম চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছিল কমিশন। তার পর থেকে ধাপে ধাপে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এ বার ট্রাইবুনালে সোমবার পর্যন্ত যে আবেদনগুলির নিষ্পত্তি হয়েছে, তার ভিত্তিতে একটি তালিকা প্রকাশ করল কমিশন। বুধবার কলকাতার পাশাপাশি দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, নদিয়া এবং পূর্ব বর্ধমানে ভোট রয়েছে।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Election Commission ECI
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy