Advertisement

নবান্ন অভিযান

ভোটদানের হার আরও বেড়ে ৯৩.১৯%! ২০২১-এর তুলনায় মোট ভোটার ১৭ লক্ষ কমলেও ভোটদাতা বৃদ্ধি ২১ লক্ষের বেশি

কমিশনের চূড়ান্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রথম দফায় ভোটদানের হার সবচেয়ে বেশি কোচবিহারে। সেখানে ৯৬.২০ শতাংশ ভোট পড়েছে। দার্জিলিং এবং কালিম্পং বাদে বাকি ১৪টি জেলাতেই ভোট পড়েছে ৯০ শতাংশের বেশি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:১৫

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটদানের চূড়ান্ত হার জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। ১৬ জেলার ১৫২ আসনে মোট ৩ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটার ভোটদান করেছেন। অর্থাৎ, ৯৩.১৯ শতাংশ ভোট পড়েছে। ভোটার তালিকা অনুযায়ী গত বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় এই আসনগুলিতে ১৭ লক্ষ ভোটার কমলেও এ বার ভোটদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ২১ লক্ষেরও বেশি। এই তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, সাধারণত ভোট দেন না (নানা কারণে), বা দিতে পারেন না (নানা কারণে), এমন বহু মানুষ এ বার প্রথম দফায় ভোট দিয়েছেন। নতুন ভোটারেরা (প্রায় ৭ লক্ষ) প্রচুর ভোট দিয়েছেন ধরে নিলেও এই ইঙ্গিত স্পষ্ট।

২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের সময়ে এই ১৫২টি আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৩ কোটি ৭৮ লক্ষ ১৫ হাজার ২৮৮ জন। তাঁদের মধ্যে ভোট দিয়েছিলেন ৩ কোটি ১৪ লক্ষ ৫৮ হাজার ১৪২ জন। ওই বছরে মোট ৮২.২০ শতাংশ ভোট পড়েছিল এই ১৫২টি আসনে। পাঁচ বছর পেরিয়ে, এসআইআর-এর পরে প্রথম দফার এই আসনগুলিতে ভোটার হয়েছেন ৩ কোটি ৬০ লক্ষ ৭৭ হাজার ২৭৪ জন। তাঁদের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার ভোট দিয়েছেন ৩ কোটি ৩৬ লক্ষ ২২ হাজার ১৬৮ জন।

গত বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় এ বছরে এই ১৫২টি আসনে মোট ১৭ লক্ষ ৩৮ হাজার ০১৪ জন ভোটার কমেছে। তবে ২০২১ সালের ভোটের তুলনায় এ বারের নির্বাচনে ভোটদাতা বৃদ্ধি পেয়েছে ২১ লক্ষ ৬৪ হাজার ২৬ জন।

Advertisement

কমিশনের চূড়ান্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রথম দফায় ভোটদানের হার সবচেয়ে বেশি কোচবিহারে। সেখানে ৯৬.২০ শতাংশ ভোট পড়েছে। দার্জিলিং এবং কালিম্পং বাদে বাকি ১৪টি জেলাতেই ৯০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। ভোটদাতার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বাঁকুড়ায়। সেখানে ২৭ লক্ষেরও বেশি ভোটার ভোট দিয়েছেন।

প্রথম দফায় যে পরিমাণ ভোট পড়েছে, তা পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে সর্বকালীন রেকর্ড। অনেকেই মনে করছেন, ভোটদানের হার বৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে এসআইআর। কারণ, প্রথম দফার এই ১৫২টি আসনে মোট ৪০ লক্ষ ৪৬ হাজার ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। মোট ভোটারের সংখ্যা কমে গেলে এবং ভোটদানের সংখ্যা মোটামুটি একই থাকলে সহজ অঙ্কেই ভোটের হার বেড়ে যাওয়ার কথা।

তবে ভোটদানের হারের পাশাপাশি ভোটদাতার সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে এ বারের নির্বাচনে। গত বিধানসভা ভোট এবং গত লোকসভা ভোট উভয়ের তুলনাতেই ভোটদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বুথে বুথে ভোটারস্রোত দেখা গিয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, এর নেপথ্যে রয়েছে মানুষের মনে জমে থাকা আতঙ্ক। ভোট না-দিলে পরবর্তী সময়ে ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা যাবে, এমন একটি আতঙ্ক দানা বেঁধেছে অনেকের মনে। এই আতঙ্ক থেকে বহু মানুষ বুথমুখী হয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। এমনকি ভিন্‌রাজ্যে কর্মরতদেরও একটি বড় অংশ নিজেদের কাজকর্ম ফেলে ভোট দিতে এসেছেন। এ সবের ফলেই ভোটদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সংক্ষেপে
  • রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
  • পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
Election Commission Voter Turnout
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy