Advertisement

নবান্ন অভিযান

তিন জেলায় পুনর্নির্বাচন হচ্ছে না! বাকিগুলিতে স্ক্রুটিনির পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন, আলোচনা পুনরায় ভোট নিয়ে

গত ২৩ এপ্রিল রাজ্যের ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছিল। প্রথম দফার সেই ভোট ছিল মোটের উপর শান্তিপূর্ণ। তবে বুধবার দ্বিতীয় দফায় বিভিন্ন জায়গা থেকে বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর এসেছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ২২:০৬
পুনর্নির্বাচনের আগে জেলায় জেলায় চলছে নির্বাচন কমিশনের স্ক্রুটিনি।

পুনর্নির্বাচনের আগে জেলায় জেলায় চলছে নির্বাচন কমিশনের স্ক্রুটিনি। —প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

দ্বিতীয় দফায় পশ্চিমবঙ্গের সাত জেলার ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছে। তবে তিনটি জেলায় কোনও পুনর্নির্বাচন হবে না বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে। বাকি চার জেলা নিয়ে আলোচনা চলছে। কমিশন সূত্রে দাবি, ওই সমস্ত জেলায় স্ক্রুটিনির পর পুনর্নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গত ২৩ এপ্রিল রাজ্যের ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছিল। প্রথম দফার সেই ভোট ছিল মোটের উপর শান্তিপূর্ণ। তবে বুধবার দ্বিতীয় দফায় বিভিন্ন জায়গা থেকে বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর এসেছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় একটি বুথে ইভিএম-এর উপর বিজেপি এবং সিপিএম-এর বোতামে ‘টেপ’ লাগানো ছিল বলে অভিযোগ। সেখানে গোলমাল হয়। উদয়নারায়ণপুরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানের বিরুদ্ধে বৃদ্ধকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ তোলে পরিবার। ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে ভোট দিতে গিয়ে। ভোটের পর মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ অগ্রবাল জানিয়েছিলেন, ভোটগ্রহণের পর অভিযোগগুলি বিবেচনা করে পুনর্নির্বাচন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কমিশন সূত্রে খবর, আপাতত নদিয়া, কলকাতা এবং পূর্ব বর্ধমানে পুনর্নির্বাচন হচ্ছে না। কলকাতা উত্তর বা কলকাতা দক্ষিণেও পুনরায় ভোটের মতো কোনও পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবে বাকি জেলাগুলিতে স্ক্রুটিনি চলছে। পুনর্নির্বাচন নিয়ে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার রাজ্যের ভোটের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তকে ফোন করেছিলেন। সূত্রের খবর, ফলতা, মগরাহাট ও সোনারপুরে স্ক্রুটিনিতে সুব্রতকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। জ্ঞানেশের নির্দেশ পেয়েই ডায়মন্ড হারবার পৌঁছে গিয়েছেন তিনি। এই সমস্ত জায়গায় পুনর্নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা খতিয়ে দেখছে কমিশন।

আগামী ৪ মে ভোটগণনা হবে। শেষ মুহূর্তে গণনাকেন্দ্রের সংখ্যাও কমিয়ে দিয়েছে কমিশন। ২৯৪টি আসনের ভোট গোনা হবে ৭৭টি কেন্দ্রে। তার আগে স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ইভিএম সংরক্ষণের ওই কেন্দ্রগুলিতে সিসি ক্যামেরার কঠোর নজরদারি রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ফলাফল নিয়ে ইতিমধ্যে একাধিক বুথফেরত সমীক্ষা প্রকাশ্যে এসেছে। অধিকাংশতেই দাবি, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসছে বিজেপি। নতুন সরকার গঠিত হতে চলেছে। তবে কোনও কোনও সমীক্ষায় তৃণমূলকে এগিয়ে রাখা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করে দাবি করেছেন, বিজেপি টাকা দিয়ে জোর করে বুথফেরত সমীক্ষার ওই ফল সম্প্রচার করতে বাধ্য করেছে সংবাদমাধ্যমগুলিকে। অবশ্য এই দাবিকে তেমন গুরুত্ব দিতে নারাজ কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দল। রাজ্যের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারিত হতে চলেছে আগামী সোমবার।

সংক্ষেপে
  • রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
  • পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
সর্বশেষ
১২ মিনিট আগে
Election Commission Re-Poll
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy