বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন হুমায়ুন কবীরের দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টির টিকিটে। রাজ্যে প্রথম দফার ভোটের দু’দিন আগে সেই দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন চার প্রার্থী। পশ্চিম বর্ধমানের তৃণমূল জেলা সভাপতি তথা পাণ্ডবেশ্বরের তৃণমূল প্রার্থী নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর হাত ধরে যোগ দেন তাঁরা। পাণ্ডবেশ্বরে যাঁকে প্রার্থী করেছিলেন হুমায়ুন, তিনি যোগদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন। অন্য দিকে, আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নানুর ও দুবরাজপুর বিধানসভার দুই প্রার্থী তৃণমূলে যোগদান করলেন। বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখের হাত ধরে তাঁরা শাসক দলে যোগ দেন।
মঙ্গলবার রানিগঞ্জে হুমায়ুনের দলের প্রার্থী রাহুল ঘোষ, দুর্গাপুর পূর্বের প্রার্থী রুবিয়া বেগম, বারাবনির প্রার্থী অদ্বৈত্য দাস এবং পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী জুবেদ শেখ তৃণমূলে যোগদান করেছেন। তৃণমূলে যোগ দিয়ে তাঁরা বলেন, ‘‘সংখ্যালঘু ভোট কাটতে হুমায়ুন দল তৈরি করলেও কিছু কাজ হবে না। কারণ, সংখ্যালঘুদের উন্নয়ন করেন একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই জন্যই আমরা তৃণমূলে যোগ দিলাম।’’
পাণ্ডবেশ্বরের তৃণমূল প্রার্থী নরেন্দ্রনাথ বলেন, ‘‘মহিলা ভোট কাটতে আম জনতা উন্নয়ন পার্টি বিভিন্ন জায়গায় প্রার্থী দিয়েছিল। কিন্তু তাতে কোনও লাভ হল না। সকলে বুঝতে পারছেন তৃণমূলের উন্নয়ন। সেই জন্যই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত শক্ত করতে তাঁরা তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন। যাঁরা যোগ দিয়েছেন, তাঁরা সকলেই তৃণমূলের হয়ে প্রচারে নামবেন।’’
এর আগে এপ্রিলের শুরুতে পূর্বস্থলী-২ ব্লকের পঙ্কজ-সহ বেশ কয়েক জন আবার তৃণমূলে ফিরে আসেন। তাঁরা মাস তিনেক আগে তৃণমূল ছেড়ে হুমায়ুনের দলে গিয়েছিলেন। পদত্যাগের পাশাপাশি ভোটের কাজ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেন হুমায়ুনের দলের মানিকচকের প্রার্থী তহিদুল ইসলাম। তিনি সংগঠনের রাজ্যের সহ-সভাপতি ছিলেন। মুর্শিদাবাদের খড়গ্রামের আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী যাদব দাসও হুমায়ুনের দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। যাদবের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামে।
আরও পড়ুন:
ভোটের মুখে দিনকয়েক আগে একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করেছিল তৃণমূল। সেই ভিডিয়ো (যার সত্যতা আনন্দবাজার ডট কমি যাচাই করেনি) প্রকাশ করে হুমায়ুনের সঙ্গে বিজেপির ‘গোপন আঁতাঁতে’র অভিযোগ তোলে রাজ্যের শাসকদল। সেই ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে যায়। সেই সময়েই আদালতে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ভরতপুরের বিদায়ী বিধায়ক। তাঁর দাবি ছিল, এই ভিডিয়ো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কারসাজি। সেই নিয়ে তিনি হাই কোর্টের দ্বারস্থও হন।
ওই ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই হুমায়ুনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে ‘মিম’। প্রথমে ঠিক ছিল এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে হুমায়ুনের দলের সঙ্গে জোট বেঁধে লড়বে আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল। কিন্তু তৃণমূলের ‘স্টিং অপারেশন’ প্রকাশ হওয়ার পর জোট ভেঙে দেন ওয়েইসি। ঘোষণা করেন, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে একাই লড়বে তাঁর দল। হুমায়ুনকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির রাজ্য সভাপতি খোবায়েব আমিন। তিনি হুমায়ুনের বাবরি মসজিদ নির্মাণে গঠিত ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষও ছিলেন। সেই পদও তিনি ছেড়ে দেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত