রাত পোহালেই ভোট জঙ্গলমহলে। প্রথম দফায় ভোটগ্রহণ হবে ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরেও। তবে ভোটের আগের রাতে সেই তৃণমূলের গড় গোপীবল্লভপুরে ভাঙন। সেখানকার বিদায়ী বিধায়ক খগেন্দ্রনাথ মাহাতো তৃণমূল ছেড়ে যোগ দিলেন বিজেপিতে। সল্টলেকের বিজেপির কার্যালয়ে তাঁর যোগদানপর্বে উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য সাধারণ সম্পাদক শশী অগ্নিহোত্রী।
খগেন্দ্রের এই যোগদান আকস্মিক বলে জানান শুভেন্দু। তাঁর কথায়, ‘‘আজ (বুধবার) বিকেলেই আমাদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন খগেন্দ্রনাথ। কোনও শর্ত ছাড়াই বিজেপিতে যোগ দিতে চেয়েছিলেন। পেশায় তিনি চিকিৎসক। গোপীবল্লভপুর-সহ জঙ্গলমহলে প্রচুর মানুষকে সেবা করেন।’’ রাজ্যের বিরোধী দলনেতার মতে, তৃণমূলের ‘অপশাসনের’ বিরুদ্ধে বিজেপির লড়াইকে শক্ত করতেই খগেন্দ্রের দলবদল। শুভেন্দু বলেন, ‘‘দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার সরাতে তিনি এসেছেন। অপশাসনের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে চলমান প্রচারকে ত্বরাণ্বিত করতে চান। চান বাংলায় পরিবর্তন।’’
শুভেন্দু আরও বলেন, ‘‘গোপীবল্লভপুর সংলগ্ন ওড়িশায় দেড় বছরে বিজেপি সরকার যা কাজ করেছে, তা দেখে মুগ্ধ খগেন্দ্র। তিনি চান পশ্চিমবঙ্গেও এই কাজ হোক। বিজেপির সংকল্পপত্রে কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করার যে কথা রয়েছে, তাতে খুশি তিনি।’’ বিজেপিতে যোগ দিয়ে শুভেন্দুর কথাতেই সায় দেন গোপীবল্লভপুরের বিদায়ী বিধায়ক। তিনি বলেন, ‘‘আমি বিশ্বাসঘাতকতার শিকার। যেমন এক কথায় রাজনীতিতে এসেছিলাম। সেই ভাবেই বিজেপিতে এলাম। আমিও চাই পরিবর্তন হোক।’’
আরও পড়ুন:
২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী করেছিল খগেন্দ্রকে। ওই আসনে ২০১১ ও ২০১৬ সালে জিতেছিলেন চূড়ামণি মাহাতো। ২০২১ সালে তাঁর জায়গায় প্রার্থী করা হয়েছিল খগেন্দ্রকে। পাঁচ বছর ওই কেন্দ্রে বিধায়ক ছিলেন তিনি। তবে এ বারের নির্বাচনে তাঁকে আর টিকিট দেয়নি রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল। এ বার ওই কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী ঝাড়গ্রাম পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অজিত মাহাতো। তার পর থেকেই তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছিলেন খগেন্দ্র। দলীয় কোনও নেতার ফোনও ধরছিলেন না। যোগাযোগ রাখেননি। অনেকেরই ধারণা হয়েছিল, দলবদল করবেন খগেন্দ্র।
সেই জল্পনা সত্যিই করে বুধবার রাতে কলকাতায় এসে বিজেপিতে যোগ দিলেন খগেন্দ্র। বিজেপির একাংশের কথায়, বৃহস্পতিবার প্রথম দফার ভোটের কথা মাথায় রেখেই বুধবার রাতে এই যোগদান।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
- পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
-
২২:৪২
বিজেপির বি-টিম আইএসএফ! কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা নওশাদকে ছাড়তে বললেন অভিষেক, দেগঙ্গায় বার্তা এক ‘গদ্দার’কেও -
২২:২৯
শুভেন্দু, অধীর, দিলীপ, মানস থেকে মৌসম, গৌতম, শঙ্কর, অগ্নিমিত্রা, স্বপ্না, হুমায়ুন! আর কারা প্রথম দফায় নজরকাড়া? -
২২:০৩
তিন জনেরই বয়স ১১২, ভোটবাক্সে মত জানিয়েছেন আগেই! সবচেয়ে বয়স্ক তিন ভোটারকে নিয়ে মশগুল পশ্চিম মেদিনীপুর -
২১:২৯
অর্ধেকের বেশি আসনে মানুষের রায় যন্ত্রবন্দি হবে বৃহস্পতিবার! প্রথম দফার নির্বাচনে কত বুথ, কত ভোটার, বাহিনীই বা কত? -
২০:৩০
প্রথম দফায় দুই ফুলের টক্করের জমিতে ভোট, বিধানসভার হিসাব বদলেছে লোকসভায়, ১৫২ আসনে বহুমুখী সমীকরণ