Advertisement

নবান্ন অভিযান

ভোটের আগের রাতে তৃণমূল ছাড়লেন গোপীবল্লভপুরের বিদায়ী বিধায়ক! শুভেন্দুর হাত ধরে বিজেপিতে খগেন্দ্র

২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী করেছিল খগেন্দ্রকে। ওই আসনে ২০১১ ও ২০১৬ সালে জিতেছিলেন চূড়ামণি মাহাতো। ২০২১ সালে তাঁর জায়গায় প্রার্থী করা হয়েছিল খগেন্দ্রকে। পাঁচ বছর ওই কেন্দ্রে বিধায়ক ছিলেন তিনি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:১৯
Gopiballabhpur MLA Khagendranath Mahato leaves TMC and joins BJP

(বাঁ দিক থেকে) বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক শশী অগ্নিহোত্রী, শুভেন্দু অধিকারী এবং খগেন্দ্রনাথ মাহাতো। ছবি: সংগৃহীত।

রাত পোহালেই ভোট জঙ্গলমহলে। প্রথম দফায় ভোটগ্রহণ হবে ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরেও। তবে ভোটের আগের রাতে সেই তৃণমূলের গড় গোপীবল্লভপুরে ভাঙন। সেখানকার বিদায়ী বিধায়ক খগেন্দ্রনাথ মাহাতো তৃণমূল ছেড়ে যোগ দিলেন বিজেপিতে। সল্টলেকের বিজেপির কার্যালয়ে তাঁর যোগদানপর্বে উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য সাধারণ সম্পাদক শশী অগ্নিহোত্রী।

খগেন্দ্রের এই যোগদান আকস্মিক বলে জানান শুভেন্দু। তাঁর কথায়, ‘‘আজ (বুধবার) বিকেলেই আমাদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন খগেন্দ্রনাথ। কোনও শর্ত ছাড়াই বিজেপিতে যোগ দিতে চেয়েছিলেন। পেশায় তিনি চিকিৎসক। গোপীবল্লভপুর-সহ জঙ্গলমহলে প্রচুর মানুষকে সেবা করেন।’’ রাজ্যের বিরোধী দলনেতার মতে, তৃণমূলের ‘অপশাসনের’ বিরুদ্ধে বিজেপির লড়াইকে শক্ত করতেই খগেন্দ্রের দলবদল। শুভেন্দু বলেন, ‘‘দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার সরাতে তিনি এসেছেন। অপশাসনের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে চলমান প্রচারকে ত্বরাণ্বিত করতে চান। চান বাংলায় পরিবর্তন।’’

শুভেন্দু আরও বলেন, ‘‘গোপীবল্লভপুর সংলগ্ন ওড়িশায় দেড় বছরে বিজেপি সরকার যা কাজ করেছে, তা দেখে মুগ্ধ খগেন্দ্র। তিনি চান পশ্চিমবঙ্গেও এই কাজ হোক। বিজেপির সংকল্পপত্রে কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করার যে কথা রয়েছে, তাতে খুশি তিনি।’’ বিজেপিতে যোগ দিয়ে শুভেন্দুর কথাতেই সায় দেন গোপীবল্লভপুরের বিদায়ী বিধায়ক। তিনি বলেন, ‘‘আমি বিশ্বাসঘাতকতার শিকার। যেমন এক কথায় রাজনীতিতে এসেছিলাম। সেই ভাবেই বিজেপিতে এলাম। আমিও চাই পরিবর্তন হোক।’’

২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী করেছিল খগেন্দ্রকে। ওই আসনে ২০১১ ও ২০১৬ সালে জিতেছিলেন চূড়ামণি মাহাতো। ২০২১ সালে তাঁর জায়গায় প্রার্থী করা হয়েছিল খগেন্দ্রকে। পাঁচ বছর ওই কেন্দ্রে বিধায়ক ছিলেন তিনি। তবে এ বারের নির্বাচনে তাঁকে আর টিকিট দেয়নি রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল। এ বার ওই কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী ঝাড়গ্রাম পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অজিত মাহাতো। তার পর থেকেই তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছিলেন খগেন্দ্র। দলীয় কোনও নেতার ফোনও ধরছিলেন না। যোগাযোগ রাখেননি। অনেকেরই ধারণা হয়েছিল, দলবদল করবেন খগেন্দ্র।

সেই জল্পনা সত্যিই করে বুধবার রাতে কলকাতায় এসে বিজেপিতে যোগ দিলেন খগেন্দ্র। বিজেপির একাংশের কথায়, বৃহস্পতিবার প্রথম দফার ভোটের কথা মাথায় রেখেই বুধবার রাতে এই যোগদান।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
BJP TMC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy