Advertisement

নবান্ন অভিযান

‘অবাধ ভয়মুক্ত বিধানসভা ভোট নিশ্চিত করতে’ হেল্পলাইন চালু করলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, দরকারে কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত

নাগরিকদের সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দিতে একটি ২৪x৭ হেল্পলাইন পরিষেবা চালু করার কথা জানানো হয়েছে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে। নির্বাচন-পূর্ব ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সম্ভাব্য হিংসা, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত গ্রহণ ও তার প্রতিকারের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:৩০
Governor R.N. Ravi launched a 24x7 citizen helpline to ensure free and fear-free Assembly elections

রাজ্যপাল আরএন রবি। ছবি: সংগৃহীত।

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্যে অবাধ, সুষ্ঠু ও ভয়মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ করল পশ্চিমবঙ্গের লোক ভবন। নাগরিকদের সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দিতে একটি ২৪x৭ হেল্পলাইন পরিষেবা চালু করার কথা জানানো হয়েছে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে। নির্বাচন-পূর্ব ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সম্ভাব্য হিংসা, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত গ্রহণ ও তার প্রতিকারের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। রাজ্যপাল আরএন রবির নির্দেশে এই প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি জারি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত পঞ্চায়েত ভোটে হিংসা রুখতে এমনই একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তৎকালীন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তাঁর নির্দেশে রাজভবনে চালু হয়েছিল শান্তিকক্ষ (পিস রুম)। ২০২৪-এর লোকসভা ভোটের সময়েও এই শান্তিকক্ষ চালু ছিল।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি ও নাগরিকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত প্রতিক্রিয়ায় উঠে এসেছে নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ। অতীতে একাধিক নির্বাচনে হিংসা, ভয় দেখানো এবং ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা দেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। অনেক ক্ষেত্রেই অভিযোগ উঠেছে, ভোটারদের বুথে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে কিংবা প্রতিবাদ জানালে শারীরিক হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই বিভিন্ন নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশবাহিনীও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তৎপর। তবে নাগরিকদের সরাসরি অভিযোগ জানানোর এবং দ্রুত সহায়তা পাওয়ার জন্য একটি নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করা হয়। সেই চাহিদা থেকেই লোক ভবনের এই ২৪x৭ হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে।

এই হেল্পলাইনের মাধ্যমে যে কোনও ভোটার বা নাগরিক তাদের অভিযোগ, আশঙ্কা বা সমস্যার কথা জানাতে পারবেন। কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রতিটি অভিযোগ সর্বোচ্চ সংবেদনশীলতা ও গোপনীয়তা বজায় রেখে খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। শুধু অভিযোগ গ্রহণ নয়, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সমাধানের দিকেও নজর দেওয়া হবে।

Advertisement

উদ্যোগটির মূল লক্ষ্য হল, কোনও ধরনের ভয়ভীতি ছাড়াই প্রত্যেক নাগরিক যেন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যোগ দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করা। হেল্পলাইনটি নাগরিকদের আস্থা বাড়াতে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে সহায়ক হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

লোকভবনের তরফে জানানো হয়েছে, নাগরিকেরা নির্দিষ্ট একাধিক ফোন নম্বরে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন। পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট ই-মেল আইডিতেও অভিযোগ বা তথ্য পাঠানো যাবে। সমস্ত অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে এবং দ্রুততার সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

শেষে নাগরিকদের উদ্দেশে আবেদন জানানো হয়েছে, গণতন্ত্রের এই গুরুত্বপূর্ণ উৎসবে সক্রিয় ভাবে যোগ দিন এবং নির্ভয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন।

হেল্পলাইন নম্বরগুলি হল: ০৩৩-২২০০ ১০২২, ০৩৩-২২০০ ১০২৩, ০৩৩-২২০০ ১০২৫, ০৩৩-২২০০ ১০২৬, ০৩৩-২২০০ ১০২৭, ০৩৩-২২০০ ১০২৮, ০৩৩-২২০০ ১০২৯, ০৩৩-২২০০ ১০৩২, ০৩৩-২২০০ ১০৩৬

ই-মেল: lokbhavanbengalhelpline@gmail.com

সংক্ষেপে
  • রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
  • পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
RN Ravi West Bengal Governor West Bengal Politics
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy