রাজ্যে পালাবদলের পরে কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ শহরে তিন হাজারেরও বেশি বেআইনি বাড়ির হদিস পেয়েছে। ওই সমস্ত বেআইনি বাড়ি রয়েছে শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণ জুড়ে। পূর্ব কলকাতার বাইপাস লাগোয়া একাধিক এলাকাতেও পুরসভার বিল্ডিং আইনের তোয়াক্কা না করে নির্মাণ হয়েছে। বেআইনি বাড়ি রয়েছে কসবা, তিলজলা, তপসিয়া, বেলেঘাটা, যোধপুর পার্ক, টালিগঞ্জ, বেহালা, যাদবপুরেও। বেলেঘাটা, কাশীপুর, একবালপুরেও চিহ্নিত হয়েছে বেআইনি নির্মাণ।
বিজেপি ক্ষমতায় এসেই তিলজলা, বেলেঘাটার বিভিন্ন বেআইনি নির্মাণ ভাঙার কাজ শুরু করেছে। শহরের কোথায়, কত বেআইনি নির্মাণ হয়েছে, পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ সপ্তাহখানেক আগেই তার তালিকা তৈরি করেছে। সেই কাজ হয়েছে পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডের নির্দেশে। বিল্ডিং বিভাগের আধিকারিকেরা জানাচ্ছেন, পুর বিল্ডিং আইনের তোয়াক্কা না করে বহুতলগুলি তৈরি হয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী যেখানে তেতলা বাড়ি তৈরির কথা, সেখানে মাথা তুলেছে পাঁচতলা বহুতল! কোথাও রাস্তা সরু থাকলেও বহুতল উঠে গিয়েছে। পুরসভার বিল্ডিংবিভাগ সূত্রের খবর, ওই বাড়িগুলি পুরসভা আদৌ ভাঙবে, না কি নোটিস পাঠিয়ে মোটা টাকার বিনিময়ে ‘রেগুলারাইজ়’ (আইনি) করবে, তা চূড়ান্ত হয়নি। কারণ ওই সব বাড়িতে মানুষ থাকছেন। সম্প্রতি তপসিয়ায় বাড়ি ভাঙতে গিয়ে ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল পুরকর্মীদের। অবশেষে আদালতের নির্দেশে সেখানে স্থগিতাদেশ জারি হয়। তাই সব দিক ভেবে পুর কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে পদক্ষেপ করতে চান।
অতীতে শহরের বেআইনি বাড়িগুলি মোটা টাকা জরিমানার বিনিময়ে আইনি করা হয়েছিল। কলকাতা পুর এলাকায় এমন কত বাড়ি জরিমানা দিয়ে আইনি হয়েছে, তা জানতে অডিটের নির্দেশ দিয়েছেন পুর কমিশনার। বিল্ডিং বিভাগের আধিকারিকদের মতে, শহরের হাজার হাজার এমন বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে গেলে প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। ওই বিভাগ সূত্রের খবর, চিহ্নিত বাড়িগুলিতে প্রথমে নোটিস দেওয়া হবে। তার পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)