E-Paper

‘পুশ ব্যাক’-ই মুখ্য বিষয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বৈঠকে

বাংলাদেশে যেমন তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির নতুন সরকার গঠন হয়েছে, তেমন পশ্চিমবঙ্গেও ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। শুধু তাই নয়, এমন সময়ে ওই বৈঠক হতে চলেছে, যখন বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি আরও বৃদ্ধি করেছে ভারত।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬ ০৯:২০

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

পশ্চিমবঙ্গের আটক কেন্দ্রগুলি থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ঘটনা ঘিরে ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর চাপানউতোর শুরু হয়েছে। এই আবহে আগামী ৮-১১ জুন দিল্লিতে বার্ষিক বৈঠকে বসতে চলেছেন বিজিবি-বিএসএফ শীর্ষ নেতৃত্ব। সূত্রের মতে, রুটিন বিষয় ছাড়াও বৈঠকের অন্যতম আলোচনার বিষয়— এ দেশে ধৃত অবৈধ ভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের ‘পুশ ব্যাক’ বা তাঁদের যাতে বিজিবি ফিরিয়ে নেয়, তা নিশ্চিত করা। সীমান্ত দিয়ে মাদক-মানব পাচার রোধ, জাল টাকা ও অস্ত্র-গরু পাচার নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা।

বাংলাদেশে যেমন তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির নতুন সরকার গঠন হয়েছে, তেমন পশ্চিমবঙ্গেও ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। শুধু তাই নয়, এমন সময়ে ওই বৈঠক হতে চলেছে, যখন বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি আরও বৃদ্ধি করেছে ভারত। শুভেন্দু অধিকারীর সরকার বিএসএফের হাতে জমি তুলে দেওয়ার পরে সীমান্তে কাঁটাতার লাগানোর কাজে গতি এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লে তাঁদের প্রথমে বিএসএফ ও পরে বিএসএফের মাধ্যমে বিজিবি-র হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনুপ্রবেশকারীদের রাখার জন্য আটক কেন্দ্র তৈরি হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশ ও মায়ানমারের অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর হুমকি দিয়েছিলেন অমিত শাহ। তার পরে গত এক মাসে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরেছেন বেশ কিছু বাংলাদেশি। তেমনই অনেককেই অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বিএসএফ সূত্রের অভিযোগ, অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশিদের ফেরত নিতে অস্বীকার করছে বিজিবি। যার ফলে সীমান্তে এবং আটক কেন্দ্রে বাংলাদেশিদের ভিড় বাড়ছে। বিএসএফ সূত্র বলছে, প্রমাণের ভিত্তিতে যাঁদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে (পুশ ব্যাক), তাঁদের যাতে বিজিবি ফিরিয়ে নেয়, তা নিশ্চিত করাই তাদের উদ্দেশ্য। এই দর কষাকষি যে সহজ হবে না, তা বিলক্ষণ জানেন বিএসএফ কর্তারা। বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ার প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও বিজিবি কী ভাবে তাঁদের ফিরিয়ে নিতে অস্বীকার করছে, তা বৈঠকে তুলে ধরবে বিএসএফ।

অনুপ্রবেশকারীদের নিজেদের দেশে না পাঠাতে পারলে ‘ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট’ নীতির সুফল পাওয়া যাবে না বলে মনে করছে শাসক শিবির। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জায়সওয়াল বলেন, ‘‘বাংলাদেশ নিজেদের লোকেদের নিতে আপত্তি জানাচ্ছে। যদি কোনও বিদেশি নাগরিক এ দেশে অবৈধ ভাবে থাকেন, প্রতিটি ক্ষেত্রে আলাদা করে নাগরিকত্ব যাচাই করা হয়। বাংলাদেশের কাছে পাঁচ হাজারের থেকে কিছু কম সংখ্যকের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। কিছু আবেদন তো পাঁচ বছর ধরে পড়ে রয়েছে। আমরা চাই বাংলাদেশ সরকার এই কাজে সহযোগিতা করুক।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Border Security Force BSF Bangladesh

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy