যুদ্ধ শুরুর পরে তিন মাস অতিক্রান্ত। কিন্তু পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে ধোঁয়াশায় আমেরিকা এবং তার মিত্র দেশগুলি। এখনও পর্যন্ত তেহরান নতি স্বীকার না করায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান নীতি নিয়ে সংশয় বাড়ছে আমেরিকায়। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার নতুন দাবি শোনা গিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের মুখে। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের অস্ত্রভান্ডার ক্রমশ নিঃশেষ হয়ে আসায় তাদের সামনে যুদ্ধবিরতি ছাড়া আর কোনও পথ খোলা নেই।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ়ে শুক্রবার রাতের সাক্ষাৎকার-পর্বে ট্রাম্প বলেন, “ইরানের বেশিরভাগ ড্রোন কারখানা ধ্বংস করা হয়েছে। বেশিরভাগ উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ধ্বংস করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণ কেন্দ্রগুলির বড় অংশও ধ্বংস করা হয়েছে। কিন্তু তাদের এখনও যুদ্ধ সক্ষমতা রয়েছে। তাদের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র আছে, কিছু ড্রোনও আছে।” এর পরেই তাঁর মন্তব্য, “শতকরা হিসাবে বললে, হয়তো তাদের হাতে ক্ষেপণাস্ত্রের ২১-২২ শতাংশ এখনও রয়েছে। সংখ্যার হিসাবে অনেক ক্ষেপণাস্ত্র। কিন্তু আমরা যখন প্রথম আক্রমণ করেছিলাম তখন যত ছিল, এখন তত নয়।”
এর আগে মে মাসে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন ইরানের হাতে ১৮ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট রয়েছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবার দাবি করে আসছেন যে আমেরিকার সামরিক অভিযান ইরানের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতাকে গুরুতর ভাবে দুর্বল করে দিয়েছে। তবে শুক্রবারও ওমান উপসাগরে অবস্থানরত দু’টি মার্কিন ডেস্ট্রয়ারের দিকে ‘সতর্কতামূলক ক্ষেপণাস্ত্র’ নিক্ষেপ করে। ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর দাবি এর ফলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলি এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন সেনার সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টিকম)-ও ইরানের তরফে ‘প্রত্যাঘাতের’ কথা স্বীকার করেছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করেছিল পেন্টাগন। একই দিনে ইরানে হামলা চালিয়েছিল ইজ়রায়েলি বিমানবহরও। সেই অভিযানের পোশাকি নাম ছিল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ বা ‘লায়নস রোর’। পাল্টা ইরানি সেনা পশ্চিম এশিয়ায় ইজ়রায়েল এবং আমেরিকা ও তার মিত্র দেশগুলির বিরুদ্ধে শুরু করে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’। ইরানের শীর্ষনেতা আয়াতোল্লা খামেনেই-সহ একাধিক প্রথম সারির সামরিক ও অসামরিক নেতার মৃত্যু হলেও নতিস্বীকার করেনি তারা। শেষপর্যন্ত সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দু’পক্ষ। এর পর দু’পক্ষের আলোচনার ভিত্তিতে তৈরি অন্তর্বর্তিকালীন চুক্তির খসড়ায় বলা হয়, তেহরান আবার হরমুজ় প্রণালী খুলে দেবে এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শুরু হবে। কিন্তু ট্রাম্প এখনও চুক্তিটিতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি। এর ফলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
০৮:৫৫
ট্রাম্প-খামেনেই সাক্ষাৎ সম্ভাবনা ওড়াল তেহরান! শান্তিচুক্তির জন্য ‘পরীক্ষা’ দিতে হবে আমেরিকাকে, পাশের শর্ত কী -
০৮:০১
হরমুজ় প্রণালীর কাছে ইরানের ড্রোন দেখেই হামলা মার্কিন বাহিনীর! পর পর গোলাবর্ষণ, ফের উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া -
মার্কিন আইনসভায় জোর ধাক্কা ট্রাম্পের! ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ক্ষমতা ‘খর্ব’ করতে প্রস্তাব পাশ, দ্রুত বাহিনী সরানোর নির্দেশ
-
মোজতবা জীবিতই, শান্তিচুক্তির আলোচনাতে যোগও দিচ্ছেন! দাবি রুবিয়োর, ইরানের উপর বিধিনিষেধ কি তুলবেন ট্রাম্প?
-
সংঘর্ষবিরতি, ৩০ হাজার কোটির বিনিয়োগ পরিকল্পনা! আমেরিকা এবং ইরানের সংঘাতের অবসানে খসড়া চুক্তিতে আর কী রয়েছে?