Advertisement
E-Paper

ট্রাম্প-খামেনেই সাক্ষাৎ জল্পনা ওড়াল ইরান! দাবি, পরীক্ষা দিতে হবে আমেরিকাকে, পাশের শর্ত কী

শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত করতে হলে আমেরিকাকে একটি ‘পরীক্ষা’ দিতে হবে বলে দাবি করেছে ইরান। সেই পরীক্ষায় পাশের শর্ত কী, তা-ও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬ ০৮:৫৫
(বাঁ দিকে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইয়ের সঙ্গে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাক্ষাৎ নিয়ে যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, তা উড়িয়ে দিল তেহরান। মোজতবার সামরিক পরামর্শদাতা মহসেন রেজ়ায়েই জানিয়ে দিলেন, তেমন কোনও সম্ভাবনা অদূর ভবিষ্যতে নেই। বরং, শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত করতে হলে আমেরিকাকে একটি ‘পরীক্ষা’ দিতে হবে বলে দাবি করেছেন তিনি। সেই পরীক্ষা পাশের শর্ত কী, তা-ও জানিয়ে দিয়েছেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে মহসেন দাবি করেছেন, আমেরিকা ও ইরানের সমঝোতার আলোচনায় একটি অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। একমাত্র ট্রাম্পই সেই অচলাবস্থা ভাঙতে পারেন। বল রয়েছে তাঁর কোর্টেই। কী চাইছে ইরান? মহসেনের দাবি, ইরানের যে ২৪০০ কোটি ডলারের (২.২৮ লক্ষ কোটি টাকা) সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে রেখেছে আমেরিকা, তা অবিলম্বে ছাড়তে হবে। সম্পদ মুক্ত না হলে সমঝোতাও হবে না। তাঁর কথায়, ‘‘ট্রাম্প যদি ইরানের সঙ্গে সমঝোতা করতে চান, এই ২৪০০ কোটি ডলারই হল সেই বিশ্বাসের পরীক্ষা, যাতে আমেরিকাকে পাশ করতে হবে। তবেই আমরা ওদের বিশ্বাস করতে পারব। এই পরীক্ষায় পাশ করলে অচলাবস্থা কাটবে। পথ খুলবে। ওটা আমাদের নিজস্ব অর্থ, আমেরিকার নয়।’’

ইরানের সম্পদ মুক্ত করা যে সমঝোতার অন্যতম শর্ত, তা আগেই জানা গিয়েছিল। সূত্রের খবর, প্রাথমিক ভাবে সমঝোতার চুক্তি সম্পন্ন করার জন্য ১২০০ কোটি ডলারের সম্পদ মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে ইরান। চুক্তি হয়ে গেলে পরে ধাপে ধাপে বাকি সম্পদও মুক্ত করতে হবে, দাবি তেহরানের। আমেরিকা এখনও সেই শর্তে রাজি হয়নি। ফলে সমঝোতাও চূড়ান্ত করা যাচ্ছে না।

সম্প্রতি ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তিনি ইরানের নেতা মোজতবার সঙ্গে দেখা করতে পারেন। যদি চুক্তি সম্পন্ন হয়ে যায়, দেখা করতে তাঁর কোনও আপত্তি নেই। ট্রাম্পের এই মন্তব্য প্রসঙ্গে মহসেন বলেন, ‘‘ওটা কখনও হবে না। আমরা এখন সমঝোতার প্রথম পর্যায়ে আছি এবং ট্রাম্প তাতে অচলাবস্থা তৈরি করেছেন। তাই ওটা হবে না।’’ উল্লেখ্য, আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের যে যৌথ হামলায় ইরানের পূর্বতন সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যু হয়েছিল, তাতেই গুরুতর জখম হন তাঁর পুত্র মোজতবা। তাঁকে ইরান সর্বোচ্চ নেতা হিসাবে নির্বাচিত করলেও প্রকাশ্যে দেখা যায়নি মোজতবাকে। তিনি জীবিত কি না, তা নিয়ে জল্পনা রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে দাবি, তিনি চিকিৎসাধীন। তবে আমেরিকার সঙ্গে সমঝোতার আলোচনায় তিনি সক্রিয় বলেও দাবি করেন কেউ কেউ।

সংক্ষেপে
  • ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
  • আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
  • শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
সর্বশেষ
২৭ মিনিট আগে
Mojtaba Khamenei Donald Trump US Israel vs Iran US Iran
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy