হরমুজ় প্রণালীর কাছে ইরানের ড্রোন দেখেই হামলা চালাল আমেরিকা। ড্রোন লক্ষ্য করে পর পর গোলাবর্ষণ করা হয়েছে। নিশানা করা হয়েছে ইরানের উপকূলবর্তী নজরদারির রেডার সাইটগুলিকেও। মার্কিন হামলায় ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিম এশিয়া।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ বাহিনী ইরান আক্রমণ করেছিল। তেহরানও পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। সেই থেকে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের পরিস্থিতি চলছে। সাময়িক যুদ্ধবিরতি হলেও দু’পক্ষ স্থায়ী শান্তি স্থাপনের জন্য কোনও সমঝোতায় পৌঁছোতে পারেনি। আলোচনা চলছে। তার মধ্যেই হরমুজ়কে কেন্দ্র করে মার্কিন এবং ইরানি সেনার এই আগ্রাসন শান্তির সেই আলোচনাতেও প্রভাব ফেলতে পারে। সংঘর্ষবিরতি এর ফলে আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে।
আরও পড়ুন:
পশ্চিম এশিয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন সেনার সেন্ট্রাল কমান্ড সমাজমাধ্যমে ইরানের ড্রোন লক্ষ্য করে হামলার কথা জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, হরমুজ় প্রণালী লক্ষ্য করে ইরান ড্রোন ছুড়েছিল। তেমন চারটি ড্রোন গুলি করে নামানো হয়েছে। এর পর ইরান থেকে পাল্টা কোনও হামলা যাতে না-হয়, তা নিশ্চিত করতে রেডার সাইটগুলিকে নিশানা করা হয়। হরমুজ়ে অবস্থিত একটি ইরানীয় দ্বীপ-সহ উপকূলের বেশ কিছু রেডার সাইট লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ করেছে মার্কিন বাহিনী। ইরানের তরফে এ বিষয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
আমেরিকা-ইরানের সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই হরমুজ় প্রণালীতে নিজেদের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে তেহরান। সেখান থেকে যাতায়াতকারী পণ্যবাহী জাহাজগুলিকে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে সারা বিশ্বের অর্থনীতিতে। কারণ, পশ্চিম এশিয়া সংলগ্ন ওই সঙ্কীর্ণ জলপথ দিয়ে সারা বিশ্বের জ্বালানিবাহী বাণিজ্যতরীর একটা বড় অংশ যাতায়াত করে। হরমুজ়ে ইরানের প্রভাব ঠেকাতে পাল্টা ‘অবরোধ’ শুরু করেছে আমেরিকাও। ইরানগামী বা ইরান থেকে আসা যে কোনও জাহাজকে তারা বাধা দিচ্ছে। নতুন করে হামলায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠল।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন, শীঘ্রই ইারানের সঙ্গে সমঝোতার আলোচনা সম্পন্ন হয়ে যাবে এবং চুক্তি চূড়ান্ত হবে। তবে ইরানের দিক থেকে তেমন কোনও নিশ্চয়তা মেলেনি। কূটনৈতিক পর্যায়ে দুই দেশই আলোচনা চালাচ্ছে। এখনও একে অপরের শর্তগুলি সম্পর্কে সম্পূর্ণ একমত হতে পারেনি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
মার্কিন আইনসভায় জোর ধাক্কা ট্রাম্পের! ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ক্ষমতা ‘খর্ব’ করতে প্রস্তাব পাশ, দ্রুত বাহিনী সরানোর নির্দেশ
-
মোজতবা জীবিতই, শান্তিচুক্তির আলোচনাতে যোগও দিচ্ছেন! দাবি রুবিয়োর, ইরানের উপর বিধিনিষেধ কি তুলবেন ট্রাম্প?
-
সংঘর্ষবিরতি, ৩০ হাজার কোটির বিনিয়োগ পরিকল্পনা! আমেরিকা এবং ইরানের সংঘাতের অবসানে খসড়া চুক্তিতে আর কী রয়েছে?
-
‘চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত, ঘোষণার অপেক্ষা’! সমঝোতা প্রসঙ্গে দাবি ট্রাম্পের, জানান, খুলবে হরমুজ়! কী মত ইরানের
-
সুযোগ পেলেই চোরাগোপ্তা হামলা! সাবেক পারস্যের হাতে মার খাওয়ার প্রতিশোধ নিচ্ছে ‘নিরীহ’ আরব রাষ্ট্র