আগামী দেড় দশকে উল্লেখযোগ্য ভাবে বদলে যেতে চলেছে ভারতের পূর্ব এবং পশ্চিম উপকূলের জলবায়ু। এক প্রান্তে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়লেও, অন্য প্রান্তে তা কমবেও লক্ষ্যণীয় ভাবে। আর সেটাই চিন্তা বাড়াচ্ছে বঙ্গবাসীর। সম্প্রতি বেঙ্গালুরুর আজ়িম প্রেমজি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্কুল অব ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড সাসটেনেবিলিটি’-র তরফে একটি রিপোর্টে যে তথ্য সামনে এসেছে, তা বঙ্গের পাশাপাশি উদ্বেগে রাখছে ওড়িশাকেও। জানানো হয়েছে, ২০৪০ সালের মধ্যে ভারতের পূর্ব উপকূলের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে যাবে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ। তালিকায় রয়েছে ওড়িশাও। অন্য দিকে, পশ্চিম উপকূলের গুজরাত এবং মহারাষ্ট্রে বাড়তে পারে বৃষ্টিপাত। রিপোর্টে জানানো হয়েছে, বিশ্ব-উষ্ণায়ন এবং তার জেরে দক্ষিণ-পশ্চিম এবং উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর খামখেয়ালিপনার জেরেই এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে চলেছে দেশের উভয় উপকূল।
সম্প্রতি ‘ইন্ডিয়ান কোস্টাল রিজিয়ন: ক্লাইমেট প্রজেকশন ২০২১-২০৪০’ নামে বেঙ্গালুরুর আজ়িম প্রেমজি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের একটি রিপোর্ট সামনে এসেছে। সেখানে দেশের পূর্ব এবং পশ্চিম উপকূলের সৈকত সংলগ্ন প্রতি ৬২৫ বর্গকিলোমিটার অংশকে পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, দেশের পূর্ব উপকূলে, অর্থাৎ সুন্দরবন-সহ পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশার সৈকত সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা তথা গোটা রাজ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর সময়ে গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ হ্রাস পাবে। যার প্রভাব সরাসরি ভাবে এই দুই রাজ্যের কৃষি ব্যবস্থার উপর পড়বে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।
মৌসুমি বায়ুর খামখেয়ালিপনার জেরে বৃষ্টিপাতের তারতম্য ছাড়াও, গবেষণায় উঠে এসেছে দেশের পশ্চিম ও পূর্ব উপকূল সংলগ্ন প্রায় ৪০ জেলায় গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রসঙ্গও। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দেড় দশকে দেশের উভয় উপকূলের জেলাগুলিতে গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে অন্তত এক ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)