Advertisement

নবান্ন অভিযান

দিনহাটায় বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্দল প্রার্থী দিল বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী! প্রতীক ঘোষণা করতেই নড়েচড়ে বসলেন জেলা নেতৃত্ব

দিনহাটা শহরের শহিদ কর্নার এলাকায় বিজেপি জেলা কমিটির স্থায়ী সদস্য তথা ছিটমহল আন্দোলনের অন্যতম মুখ দীপ্তিমান সেনগুপ্তের বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজন করেন পদ্মশিবিরের একাংশ।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১০ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:৩৫
Dinhata BJP Candidate

সাংবাদিক বৈঠক করে নির্দল হিসাবে লড়াইয়ের ঘোষণা করল বিজেপির বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী। —নিজস্ব ছবি।

রাজ্যের অন্যান্য বেশ কিছু আসনের মতো দিনহাটা বিধানসভাতেও প্রার্থী নিয়ে বিজেপির অন্দরে দ্বন্দ্ব চলছিল। শুক্রবার সেই কোন্দল চলে এল প্রকাশ্যে। দলীয় প্রার্থী অজয় রায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন দিনহাটার বিজেপির নেতৃত্বের একাংশ। এমনকি, নির্দল হিসাবে তাঁদের ঠিক করা প্রার্থীর নামও ঘোষণা করে দিলেন। দ্বন্দ্ব থামাতে আলোচনায় বসতে আহ্বান জানালেন জেলা বিজেপি নেতৃত্ব।

শুক্রবার দিনহাটা শহরের শহিদ কর্নার এলাকায় বিজেপি জেলা কমিটির স্থায়ী সদস্য তথা ছিটমহল আন্দোলনের অন্যতম মুখ দীপ্তিমান সেনগুপ্তের বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজন করেন পদ্মশিবিরের একাংশ। সেখান থেকে জানানো হয়, নির্দল প্রার্থী হয়ে দূরবিন চিহ্নে লড়বেন বিজেপির প্রাক্তন মণ্ডল সহ-সভাপতি অনিমেষ বর্মণ। বিজেপির বিক্ষুব্ধ নেতা দীপ্তিমানের মন্তব্য, ‘‘বিজেপি যে প্রার্থীকে দাঁড় করিয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই। লোকসভা নির্বাচনে কিংবা বিধানসভা নির্বাচনে যারা প্রার্থী হয়েছেন, তাঁদের কেউ হামলায় অভিযুক্ত, কারও ডাকাতিতে নাম জড়িয়েছে। তাঁদেরই প্রার্থী ররা হয়েছে।’’ তিনি আরও জানান, এ নিয়ে একাধিক বার নেতৃত্বকে জানিয়েও কোনও ফল হয়নি। দিনহাটা থেকে অজয় রায়কে প্রার্থী করা হয়েছে। তার পর থেকে তাঁরা রীতিমতো ক্ষুব্ধ। তাই এই সিদ্ধান্ত নিলেন।

ভোটের মুখে এ হেন কাণ্ডে স্বাভাবিক ভাবে অস্বস্তিতে কোচবিহার জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপির জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মণ বলেন, ‘‘ প্রার্থীদের সকলের পছন্দ হবে এমন কোনও কথা নেই। দু’-একজনের অপছন্দ হতেও পারে। দীপ্তিমান যে অভিযোগ করেছেন, তা গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়। তাতে তিনি হাজিরও ছিলেন। যাই হোক, যেটা হয়েছে, তার পর আমি ওঁকে বলব, তিনি যেন ‘মূল স্রোতে’ ফিরে আসেন। তৃণমূলকে বিদায় করতে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থীকে সহযোগিতা করেন।’’ এ নিয়ে দিনহাটার প্রার্থীর কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Dinhata BJP
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy