ভাঙড়ের মতো ‘স্পর্শকাতর’ বিধানসভা কেন্দ্রে বিধানসভা ভোট। অথচ কোনও বোমা বা গুলির শব্দ শোনা গেল না দিনভর! শেষ কবে এমন ভোট ভাঙড় দেখেছে, তা মনে করতে পারছেন না অনেকেই। শান্তিপূর্ণ ভোট হওয়ায় স্বস্তিতে নির্বাচন কমিশনও।
বুধবার ভোটের দিন গোটা বিধানসভা কেন্দ্র ঘুরে পরিস্থিতির খোঁজ নেন আইএসএফ-এর (ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট) চেয়ারম্যান তথা ভাঙড়ের বিদায়ী বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। নির্বাচনের আগে অনেকেরই আশঙ্কা ছিল, ভাঙড়ে ভোটের দিন এবং তার আগে আইএসএফ এবং শাসক তৃণমূলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষত, ক্যানিং পূর্বের বিদায়ী বিধায়ক শওকত মোল্লাকে নিয়ে এসে ভাঙড়ে প্রার্থী করার পরে সেই আশঙ্কা আরও বেড়েছিল। তবে ভোটের দিন বড় ধরনের কোনও অশান্তির খবর মেলেনি। সেই শান্তিপূর্ণ’ নির্বাচনের কারণেই আগের ব্যবধান ছাপিয়ে এ বার ৫০ হাজারের বেশি ভোটে তিনি জয়ী হবেন বলে ঘোষণা করেছেন নওশাদ।
আরও পড়ুন:
দিনভর বিভিন্ন বুথে ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেছেন নওশাদ। ভাঙড়-১ নম্বর ব্লকের কিছু এলাকায় তৃণমূলকর্মীরা তাঁকে দেখে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিলেও তিনি তা মৃদু হাসিতে এড়িয়ে যান। আবার কয়েক পা এগিয়ে গিয়ে কাউকে কাউকে বলেন, ‘‘মারবে নাকি? তা হলে মারো দেখি দু’ঘা।’’ পরিস্থিতি অবশ্য মারপিটের পর্যায়ে যায়নি। নওশাদের নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে সরিয়ে নিয়ে যান। পরে শান্তিপূর্ণ ভোটের প্রসঙ্গ তুলেই শাসকদলের একাংশকে কটাক্ষ করেন নওশাদ। আবার শাসকদলের একাংশের প্রশংসাও করেন।
দুপুরে হাতিশালা হাই মাদ্রাসার কাছে একটি বুথে যান আইএসএফ নেতা। স্থানীয় বাসিন্দারা আগে অভিযোগ করেছিলেন, দীর্ঘ ১০ থেকে ১৫ বছর তাঁরা ভোট দিতে পারেননি। সেই প্রেক্ষিতে তাঁদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছিলেন নওশাদ। বুধবার সেখানে গিয়ে তিনি ভোটারদের কাছে জানতে চান, তাঁরা ভোট দিতে পেরেছেন কি না। উত্তরে ভোটারেরা জানান, বহু বছর পরে নিজেদের ভোট নিজেরা দিতে পেরে তাঁরা খুশি। কেউ কেউ তাঁকে ধন্যবাদও জানান।
পরে নওশাদ বলেন, “ভাঙড়ের সাধারণ মানুষ উৎসবের মেজাজে ভোট দিচ্ছেন। কেউ বলছেন ১০ বছর, কেউ ১৫ বছর ভোট দিতে পারেননি। এবারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। এটাই আসল ভাঙড়।” তিনি নির্বাচন কমিশন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও ধন্যবাদ জানান। তাঁর কথায়, ‘‘কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফলেই শান্তিপূর্ণ ভোট সম্ভব হয়েছে।’’ একইসঙ্গে তিনি তৃণমূলের কর্মীদের একাংশের ‘ইতিবাচক’ ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন। নওশাদ বলেন, “আমি ভাঙড়ের তৃণমূলের একটা অংশকেও ধন্যবাদ জানাব। যাঁরা সত্যিই শান্তিপূর্ণ ভোটের জন্য সহযোগিতা করেছেন।” যদিও পরক্ষণেই নাম না করে শাসকদলকে খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, “ভাঙড়ের মানুষ হিংসা চান না। কিছু রাজনীতির কারবারি নিজেদের স্বার্থে এই এলাকাকে কলুষিত করার চেষ্টা করেন।”
বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকেই ভাঙড়ে কড়া নিরাপত্তার দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন নওশাদ। সেইমতোই অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয় ভাঙড়ে। আইএসএফ নেতৃত্বের মতে, সেই সিদ্ধান্তই বড় সংঘর্ষ এড়াতে সাহায্য করেছে। ভাঙড়ের ভোটকর্মীদের সঙ্গেও কথা বলেন নওশাদ। তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, অনেকেই বলেছেন, ভাঙড় সম্পর্কে যে আশঙ্কা ছিল, বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত