Advertisement
E-Paper

১৫ প্রার্থীর তৃতীয় তালিকা ঘোষণা করে দিল বামফ্রন্ট, গড়বেতায় লড়বেন ছোট আঙারিয়া, নন্দীগ্রাম-কাণ্ডের তপন ঘোষ

তপন ঘোষের বিরুদ্ধে বহুচর্চিত ছোট আঙারিয়া হত্যাকাণ্ড এবং নন্দীগ্রামে খুন-অপহরণে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। গড়বেতার এক কালের দোর্দণ্ডপ্রতাপ সেই নেতাকে এ বার প্রার্থী করল সিপিএম।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৩ মার্চ ২০২৬ ২০:৫৭
Left Front announced candidates for 15 seats in the third list, Tapan Ghosh, accused of Choto Angaria case and Nandigram case to contest from Garbeta

সিপিএম নেতা তপন ঘোষ। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

নব্বইয়ের দশকের শেষপর্বে কেশপুর-গড়বেতায় রাজনৈতিক হানাহানি-পর্বে সিপিএমের মন্ত্রী সুশান্ত ঘোষের সহকারী হিসেবে সুকুর আলির সঙ্গে এক নিশ্বাসে উচ্চারিত হত তাঁর নাম। এ বার তাঁর উপরে ভর করেই গড়বেতার হারানো জমি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা শুরু করল সিপিএম। তিনি গড়বেতার এক কালের দোর্দণ্ডপ্রতাপ সিপিএম নেতা, প্রাক্তন স্কুলশিক্ষক তপন ঘোষ।

সোমবার বামফ্রন্টের তরফে বিধানসভা ভোটের তৃতীয় প্রার্থিতালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ১৫ প্রার্থীর সেই তালিকায় উল্লেখযোগ্য নাম তপনের। গড়বেতায় সিপিএম প্রার্থী হিসাবে লড়বেন তিনি। এর আগে গত ১৬ মার্চ রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ১৯২টিতে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছিল বামফ্রন্ট। ১৯ মার্চ প্রকাশিত দ্বিতীয় তালিকায় ঘোষণা করা হয়েছিল ৩২ প্রার্থীর নাম।

তপন এবং সুকুরের বিরুদ্ধে বহুচর্চিত ছোট আঙারিয়া হত্যাকাণ্ড এবং নন্দীগ্রামে খুন-অপহরণে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ২০০১ সালের বছরের ৪ জানুয়ারি অন্তত গড়বেতার ছোট আঙারিয়ায় তৃণমূল সমর্থক বক্তার মণ্ডলের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ১২ জনকে পুড়িয়ে, কুপিয়ে। গুলি করে মারার অভিযোগ ওঠে। পরে নিহতের সংখ্যা পাঁচজন বলে দাবি করা হয়। স্থাপিত হয় ‘পাঁচ শহিদের স্মৃতি’ স্তম্ভ। তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছোট আঙারিয়া নিয়ে আন্দোলন শুরু করেছিল। ঘটনার তদন্ত ভার নিয়েছিস সিবিআই। তপন এবং সুকুর-সহ বেশ কয়েক জন সিপিএম নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে এফআরআর রুজু হয়েছিল। তবে এখনও কোনও দেহের হদিসই মেলেনি। মামলা চলাকালীন ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মামলার প্রধান সাক্ষী বক্তারের মৃত্যু হয়।

সিপিএমের নন্দীগ্রাম ‘পুনর্দখল’ পর্বে ২০০৭-এর ১০ নভেম্বর গোকুলনগরে ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির সমর্থকদের মিছিলে হামলার পরে, আহতদের গাড়িতে চাপিয়ে অপহরণের অভিযোগ রয়েছে তপন-সুকুরদের বিরুদ্ধে। সোনাচূড়ার কল্পনা মুনিয়ান, যাদব পাল, ভিকেন গায়েনকে গুরুতর জখম অবস্থায় পশ্চিম মেদিনীপুরের দিকে নিয়ে যাওয়ার পথে, এগরা শহরের কাছে স্থানীয় লোকজন গাড়ি আটকায়। আহতদের উদ্ধার করে এবং সিপিএম নেতা-কর্মীদের পুলিশের হাতে তুলে দেয়। তপন-সুকুর-সহ ১৪ জনকে গ্রেফতার করে এগরা থানার পুলিশ। খুনের জন্য অপহরণ-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়। পরে তদন্ত-ভার নেয় সিআইডি।

২০০৮ সালে সিআইডি যে চার্জশিট দেয়, তাতে অবশ্য নাম ছিল না তপন ঘোষ, সুকুর আলি, মেঘনাদ ভুঁইয়া, সনাতন মাজি, অভিরাম মাহাতো-সহ ন’জনের। বাকি পাঁচ জনও পরে জামিন পান। কিন্তু ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি সরকার পক্ষ চার্জশিট থেকে বাদ যাওয়া ন’জনের নাম ফের মামলায় জোড়ার জন্য তমলুক জেলা আদালতে আবেদন জানায়। সেই আবেদন মঞ্জুর হয়। সরকারের সেই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন তপন-সুকুররা। তবে হাইকোর্ট তাঁদের আবেদন নাকচ করে দেয়। ২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পরে সুকুর প্রত্যক্ষ রাজনীতি থেকে দূরে সরে গেলেও তপন সক্রিয় ভাবে সিপিএমের সাংগঠনিক কার্যকলাপে জড়িত রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রের খবর।

Tapan Ghosh CPM Leader Garbeta Left Front candidate list CPM Assembly Polls
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy