কোচবিহারের দিনহাটায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল চিত্র।
আমার সঙ্গে পেরে উঠছে না। তাই এ সব করছে। সিপিএম কত খুন করার চেষ্টা করেছে তা-ই পারেনি। এরা কী করবে বড়জোড় প্রাণে মেরে ফেলবে, আইন ডোন্ট কেয়ার। মানুষের সঙ্গে ছিলাম, আছি থাকব। তাই বলি কোনও ভয় পাবেন না। এটা শুধু ইলেকশন পর্যন্ত চমকানো। তার পরে এরা কোথায় হারিয়ে যাবে, আর দেখা পাবেন না।
যাঁদের হাতে রক্ত মিশে, তাঁরা বাংলার মানুষকে অনুপ্রবেশকারী বলে অসম্মান করেন। বলেছিল প্রতি বছরে ২ কোটি চাকরি দেবে। দিয়েছে কী? একটা গ্যাংম্যানকেও চাকরি দিয়েছে রেলে? বলেছিল ১৫ লক্ষ টাকা দেবে, এক পয়সাও দিয়েছে? নোটবন্দির সময় মায়েদের জমানো পয়সা কেড়ে নিল। তার পর সবাইকে রাস্তায় ফেলে দিল। সে জন্য আমি লক্ষ্মীর ভান্ডার করেছিলাম।
তৃণমূল এ বার আগের থেকে বেশি ভোটে জিতে আসবে। আমাকে সব বিরোধী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ফোন করছেন, জিজ্ঞাসা করছেন আসব? আমি ঠিক টুগেদার করে দেব। তৃণমূল কংগ্রেস সবার সঙ্গে থাকবে। আমরা চেয়ার চাই না।
যাঁদের ভোট আছে তাঁরা ভোট দিতে যাবেন। আর যাঁদের নাম ওঠেনি, তাঁরা নৈতিক সমর্থন দেবেন। আমরা চেষ্টা করেছিলাম নাম তোলার। আগামী দিনেও চেষ্টা করে যাব। আমাদের সরকার থাকতে কোনও এনআরসি, ডিটেনশন ক্যাম্প করতে দেব না। বিজেপিকে এনআরসি করে পাঠিয়ে দেব।
মমতা বলেন, ‘‘জানেন, মতুয়াদের দিয়ে লিখিয়ে নিচ্ছিল, আমি ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে এসেছি। আমি গিয়ে বললাম এই ভুলটা করবেন না। আপনাকে দিয়ে লিখিয়ে নিচ্ছে, আপনি বাংলাদেশ থেকে এসেছে ’২৫ সালে। ভোটে কারও নাম ওঠেনি। হাজার হাজার ভোট বাদ মতুয়াদের। রাজবংশীদের কত ভোট বাদ। এনআরসির নোটিস পাঠিয়েছে। অমিত শাহ কাল বলেছেন, এর পর যাঁর ভোট থাকবে না তাঁকে বাংলা থেকে তাড়িয়ে দেব। যেন জমিদারি, দাঙ্গা করার জমিদারি। কেউ বাংলা থেকে যাবে না। বাংলার যাঁরা নাগরিক সবাই বাংলাতেই থাকবেন। যাঁদের ভোট কেটেছে ট্রাইবুনালে আবেদন করে রেখে দেবেন। যেন রেকর্ড থেকে যায়। আজ না-হয় কাল উঠবেই।’’
বাংলার উপর হিংসা, বাংলাকে দেখলেই মনে জ্বালা! যে লিস্টে আপনি প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছেন, বাইরে থেকে লোক নিয়ে এসে বাংলা দখল করার চেষ্টা করছেন। কখনও ধর্মের নামে, কখনও ভোটের নাম বিক্রি করছেন, কখনও লুটের নামে বিক্রি করছেন।
বাইরে থেকে এনআইএ নিয়ে এসে নিজেরাই বোমা মারবে। তার পর তোমাদের নামে দোষ দেবে। বাইরে থেকে লোক নিয়ে এসে বোমা মারবে, তার পর তোমাদের গ্রেফতার করবে। এই ক’টা দিন ধৈর্য ধরে নামগুলো রেকর্ড করে রাখো। কিন্তু কেউ কোনও গন্ডগোলে যাবে না। ভোট লুট যাতে করে না পারে, সেটা নজর রাখবে।
ভোটের সময় মডেল কোড অব কনডাক্ট ভেঙে যা খুশি করছ। এদের মতো মীরজাফর পাবেন না কোথাও। তৃণমূল এ বার আরও অনেক বেশি আসনে জিতে বাংলা দখল করবে। কোচবিহার থেকে হোক শুরু। সারা বাংলায় জয়ের গর্জনে তৃণমূল ডাকবে গুরু গুরু।
অমিত শাহ কাল বলেছেন, যাঁর নাম থাকবে না, তাঁকে তাড়িয়ে দেব। বর্ডারগুলি লক্ষ রাখবেন। বাইরে থেকে লোক ঢুকবে ভোট দিতে। অসম থেকে লোক আসবে। বাংলায় তো ডানা ওদের ছাঁটবই। জিতবে, ঘেঁচু করবে। বিজেপির রাজ্যে কোচবিহারের কত শ্রমিককে মেরেছে। লজ্জা করে না, সেই বাংলায় দাঁড়িয়ে ভোট চাও।
এখন বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ফর্ম ফিলাপ করছে। ওটা চিটিং ফাঁক। আপনার নাম, ঠিকানা ফোন নম্বর, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিচ্ছে। তোমার এখানে কালো টাকা ঢোকাল। তার পর ইডি, সিবিআই পাঠাবে। রাজবংশীদের এনআরসির নোটিস পাঠাচ্ছে অসম থেকে।
বলছে মহিলা বিল নিয়ে আসব। এত দিন লাগল আনতে? মহিলা বিলের সঙ্গে কী জুড়েছে? বলছে ডিলিমিটেশন করব। বাংলাকে চার ভাগে ভাগ করবে। আমরা থাকতে এগুলি অ্যালাও করব না। মনে নেই শীতলকুচিতে গুলি চালিয়েছিলে? বিএসএফের গুলিতে কত লোককে বর্ডারে প্রাণ দিতে হয়েছে। কেউ ভোলেনি, কোনও দিনও ভুলবে না।
বাইরে থেকে লক্ষ লক্ষ বহিরাগতদের নিয়ে এসে ভোট করাচ্ছেন। দিল্লির সরকারকে বেচে খাচ্ছ। কখনও ধর্মের নামে, কখনও ভোটের নাম বিক্রি করছ। এই কোচবিহার জেলার জন্য তোমরা কী করেছ? আমরা করেছি। একটি পরিবার আমাদের সরকারের ৪-৫টি প্রকল্পের সুবিধা পায়। আমাদের সম্প্রীতি আমাদের ঐক্যবদ্ধ করেছে।
দিনহাটায় কি বিজেপির ডানা ছাঁটা হবে? ১৮ হাজার কেটেছে দিনহাটায়। বাকি যাঁদের নাম ওঠেনি, তাঁদের নাম তুলে ছাড়ব। কালকেই বলেছেন যাঁর নাম থাকবে না, তাঁকে তাড়াব। তুমি তাড়াবার কে? রাজবংশীদের এনআরসির নোটিস পাঠায়। মা-বোনেদের সম্মান হরণ করে।
বিজেপি সরকারকে ভাঙো। বিজেপির দুরাচারকে ভাঙো। দিনহাটায় আমি জানি ৩০-৩২ হাজার নাম কেটেছে। ভীরু-কাপুরুষের দল। মেঘের আড়াল থেকে লড়াই করে। সামনাসামনি লড়াইতে পারে না এরা। আমার মুখোমুখি দাঁড়াবার ক্ষমতা নেই। বসুন সাহস থাকলে, তার পর বাংলা দিকে তাকাবেন।
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy
We will send you a One Time Password on this mobile number or email id
Or
By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy