এক জন মানচিত্র করে নিয়েছিলেন নির্দিষ্ট এলাকার। অন্য জন তেমন পথে যাননি। বরং তাঁর কৌশল ছিল, যেমন পরিস্থিতি, তেমন পদক্ষেপ। গঙ্গার দু’পারের দুই তরুণ বামপ্রার্থী এই কৌশলেই ভোট করলেন বুধবার। প্রথম জন উত্তরপাড়ার সিপিএম প্রার্থী মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। দ্বিতীয় জন উত্তর দমদমের দীপ্সিতা ধর।
পঞ্চায়েত, পুরসভা তো বটেই, গত দেড় দশকে লোকসভা এবং বিধানসভা নির্বাচনেও তৃণমূলের বিরুদ্ধে ভোট লুটের অভিযোগ তুলত বামেরা। দ্বিতীয় দফার ভোটে বামেদের দুই তরুণ প্রার্থী মিনাক্ষী এবং দীপ্সিতা কেউই সেই চেনা অভিযোগ করলেন না। দু’জনেরই দাবি, অনেক কিছুর চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে। অন্য ভোটে যে ধরনের অশান্তি, হিংসার ঘটনা ঘটে, এ বার তার এক আনাও দেখা যায়নি। ভোটের পরে মিনাক্ষী, দীপ্সিতার কথায় স্পষ্ট, মানুষ নিজের ভোট নিজে দিয়েছেন।
হুগলির উত্তরপাড়া বিধানসভা এলাকায় গত বেশ কয়েকটি ভোটেই বামেদের অভিযোগ ছিল, কোন্নগর পুরসভার ১০টি ওয়ার্ড, নবগ্রাম এবং কানাইপুর পঞ্চায়েত এলাকায় বুথের মধ্যে ‘ভূতের নাচন’ হয়। বুধবার সকাল থেকে প্রায় বিকেল পর্যন্ত অধিকাংশ সময়টাই মিনাক্ষী ব্যয় করলেন কোন্নগর, নবগ্রাম এবং কানাইপুরে। কোতরং এলাকায় সিপিএমের সংগঠন মোটের উপর মজবুত। সেখানে গিয়ে সময় নষ্ট করেননি মিনাক্ষী। বিকেলের পর ভোটের শেষবেলায় উত্তরপাড়া শহর এবং মাখলায় যান সিপিএমের প্রার্থী।
হুগলির এই বিধানসভায় মিনাক্ষী একমাত্র প্রার্থী, যিনি গত তিন মাস ধরে প্রচার করছেন। ভোট ঘোষণার অনেক আগেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল মিনাক্ষীকে সেখানে প্রার্থী করছে সিপিএম। মিনাক্ষীর লড়াই তৃণমূল প্রার্থী তথা শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুত্র শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপি প্রার্থী দীপাঞ্জন চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে। বুথে বুথে ঘোরার সময়ে একটি ভোটকেন্দ্রে শীর্ষণ্য এবং মিনাক্ষীর দেখাও হয়েছিল বুধবার। রাজনৈতিক বৈরিতা থাকলেও পারস্পরিক সৌজন্য বিনিময়ে তা কোনও অন্তরায় হয়নি।
দীপ্সিতা উত্তর দমদমের কোনও নির্দিষ্ট এলাকায় নিজেকে আবদ্ধ রাখেননি। নিমতা থেকে নিউ ব্যারাকপুর, বিরাটি— সর্বত্র গিয়েছেন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। তবে সকালের দিকে স্থানীয় আলিপুরের কয়েকটি জায়গায় বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর পেয়ে বার কয়েক ছুটতে হয়েছিল তাঁকে।
মিনাক্ষীর পরনে ছিল লাল সালোয়ার-কুর্তা এবং সাদা ওড়না। দীপ্সিতা অবশ্য সেজেছিলেন কালো শাড়িতে। ডান হাতের কব্জিতে ঘড়ি আর মাথার উপর তুলে রাখা রোদ চশমা ভোটের দিনও বজায় রেখেছিলেন।
গত লোকসভা ভোটে শ্রীরামপুরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন দীপ্সিতা। উত্তরপাড়া বিধানসভা সেই লোকসভারই অন্তর্গত। দু’বছর আগে লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপাড়া বিধানসভায় সিপিএমের ভোট ছিল ৫০ হাজার। দীপ্সিতার তৈরি করা ভোটের ভিতেই সেখানে লড়ছেন মিনাক্ষী। আবার দীপ্সিতাকে দল পাঠিয়েছে উত্তর দমদমে। যেখানে তৃণমূলের প্রার্থী রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। ২০১৬ সালে উত্তর দমদমেই চন্দ্রিমাকে হারিয়ে জিতেছিলেন সিপিএমের তন্ময় ভট্টাচার্য। ২০২১ সালে সেই তন্ময়কেই হারান চন্দ্রিমা। এ বার মহিলা মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মহিলা প্রার্থী করেছিল সিপিএম।
মোটের উপর ভোটে খুশি সিপিএমের দুই তরুণ প্রার্থীই। ভোটের খুশি কি জয়ের হাসিতে পরিণত হবে? জবাব মিলবে আগামী সোমবার।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
- পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
-
১৮:৪৮
বুথফেরত সমীক্ষায় নানা ‘ফল’ পশ্চিমবাংলায়! অধিকাংশতেই ‘জিতছে বিজেপি’, তবে সর্বত্রই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত -
১৮:০৬
ভাঙড়ের ভোটে বোমা-গুলির শব্দ নেই! শান্তির ভোটে ধন্যবাদ জানিয়ে তৃণমূলকে নওশাদের কটাক্ষ, জয়ের ব্যবধান ঘোষণা -
১৬:৪৪
‘অত্যাচার চলছে, এজেন্টদের বার করে দেওয়া হয়েছে’! ভোট দিতে গিয়ে অভিযোগ মমতার, তবু জয় নিশ্চিত বলে ‘ভি’ চিহ্ন -
১৬:২৭
‘পরিবর্তনের’ ভোটকে তিন ঘণ্টা আগেই ছাপিয়ে গেল ২০২৬! ২০১১ সালের রেকর্ড ভেঙে এ বারই সর্বোচ্চ ভোটদানের হার -
১৬:০০
বিজেপির দাবি করা দু’টি বুথেই হতে পারে পুনর্নির্বাচন! ইঙ্গিত দিয়ে সিইও মনোজ বললেন, ‘পরিস্থিতি দাবি করলে আরও হবে’