Advertisement

নবান্ন অভিযান

মোথাবাড়ি কাণ্ডে ১০ জনকে এনআইএ হেফাজতে পাঠাল আদালত! একটি মামলায় জামিন মোফাক্কেরুলের

বৃহস্পতিবার কলকাতার নগরদায়রা আদালতে মোথাবাড়ি মামলার শুনানি ছিল। এই ঘটনায় মোট ৫২ জনকে এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ২০:০৭
মোথাবাড়ি কাণ্ডে এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

মোথাবাড়ি কাণ্ডে এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ছবি: পিটিআই।

মালদহের মোথাবাড়িতে এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত বিচারকদের ঘেরাও এবং হেনস্থার ঘটনায় অভিযুক্ত ৪৯ জনের মধ্যে ১২ জনকে নিজেদের হেফাজতে চাইল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। বাকি ৩৭ জনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের আবেদন করা হয়েছে। আদালত ১০ জনের এনআইএ হেফাজত এবং ৩৯ জনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন ধৃত মোফাক্কেরুল ইসলামের আইনজীবী। তাঁকে এই ঘটনার ‘মূলচক্রী’ বলে উল্লেখ করেছিল রাজ্য পুলিশ। একটি মামলায় আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছে। তবে অন্য একটি মামলায় ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত তাঁকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছেন বিচারক।

বৃহস্পতিবার কলকাতার নগরদায়রা আদালতে মোথাবাড়ি মামলার শুনানি ছিল। এই ঘটনায় মোট ৫২ জনকে এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৪৯ জনের মামলা ছিল বৃহস্পতিবার। মোফাক্কেরুলের আইনজীবীর অভিযোগ, তাঁর মক্কেলকে ‘বলির পাঁঠা’ করা হচ্ছে। নেপথ্যে বড় ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। যদিও এনআইএ জানিয়েছে, তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে। তাই তদন্তের স্বার্থেই সব তথ্য তারা সর্বসমক্ষে আনতে চাইছে না।

মোফাক্কেরুলের আইনজীবী বলেন, ‘‘স্বচ্ছ তদন্তের জন্য এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আমি যত দূর জানি, সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করে মোফাক্কেরুল জমায়েত সরানোর চেষ্টা করেছিলেন। ঘটনার সঙ্গে ওঁর যুক্ত থাকার কোনও সম্ভাবনা নেই। উনি সমাজমাধ্যমে জনপ্রিয়। ওঁকে চিনতে পেরে ওখানকার লোকজন জমায়েত সরানোর অনুরোধ করেছিলেন। পুলিশও ওঁর সহযোগিতা চেয়েছিল। আশা করি বিচারক জামিনের আবেদন মঞ্জুর করবেন।’’

এসআইআর নিয়ে মালদহের মোথাবাড়িতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। অভিযোগ, বিবেচনাধীন তালিকা থেকে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের একাংশ বিচারকদের ঘেরাও করেছিলেন। গভীর রাত পর্যন্ত বিচারকদের আটকে রাখা হয়। এর পর মামলা স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে শোনে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন এনআইএ-র হাতে ঘটনার তদন্তভার দিয়েছে। রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডি মোফাক্কেরুলকে গ্রেফতার করেছিল। তার পর একাধিক গ্রেফতার করেছে এনআইএ-ও।

আদালতে এনআইএর আইনজীবী জানান, অভিযুক্তেরা প্রত‍্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। তদন্ত এখনও প্রাথমিক স্তরে রয়েছে। তাই এই পর্যায়ে সব তথ্য সর্বসমক্ষে তাঁরা আনতে চাইছেন না।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Malda Mothabari NIA SIR
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy