Advertisement

নবান্ন অভিযান

আজ আমার চেয়ে খুশি কেউ নয়! বাতিল ভোটার নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে উচ্ছ্বসিত মমতা, দলের কর্মীদের বিশেষ নির্দেশ

ভোটের প্রচারের কাজে উত্তরবঙ্গে রয়েছেন মমতা। কোচবিহার থেকে তিনি সুপ্রিম কোর্টের রায়ের খবর পান। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানিয়ে দেন, এই রায়ে তাঁর চেয়ে বেশি খুশি আর কেউ হননি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:৫৯
কোচবিহার হেলিপ্যাড থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কোচবিহার হেলিপ্যাড থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —নিজস্ব চিত্র।

বাতিল ভোটারদের নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে উচ্ছ্বসিত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের মানুষকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। সঙ্গে দলের কর্মীদেরও পৃথক নির্দেশ দিয়েছেন। মমতা মনে করিয়ে দিয়েছেন, তিনিই এসআইআর নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিলেন। তাই এই রায়ের পর তাঁর চেয়ে খুশি আর কেউ নন।

ভোটের প্রচারের কর্মসূচিতে উত্তরবঙ্গে রয়েছেন মমতা। কোচবিহারে তিনি সুপ্রিম কোর্টের রায়ের খবর পান। কোচবিহারের হেলিপ্যাডে নেমেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন মমতা। বলেন, ‘‘সকলকে অভিনন্দন। দিনহাটা থেকে হেলিকপ্টারে উঠেই আমি সুখবরটা পেলাম। প্রথম থেকে বলে আসছিলাম, সকলে ধৈর্য ধরুন। আমি খুব খুশি। বিচারব্যবস্থার জন্য গর্বিত। আমিই মামলা করেছিলাম। তাই আজ আমার চেয়ে খুশি কেউ নয়।’’

দলের কর্মীদের উদ্দেশে বিশেষ নির্দেশও দিয়েছেন মমতা। জানিয়েছেন, ট্রাইবুনালের কাজের পর অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হলেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটের স্লিপ বিলি করতে হবে দলীয় কর্মীদের। মমতা বলেন, ‘‘সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশমতো, যাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন, প্রথম পর্যায়ের ভোটের অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে ২১ তারিখ। ভোটের দু’দিন আগেই। ওটা পেলে বুথের সমস্ত কর্মী এবং নেতাদের বলব, সে দিন রাতের মধ্যেই ভোটার স্লিপ তৈরি করে বাড়ি বাড়ি যেন পৌঁছে দেয় — যাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল, তাঁরা যাতে ভোট দিতে পারেন।’’ ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটের ক্ষেত্রেও দু’দিন আগে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে সুপ্রিম কোর্টের রায় উল্লেখ করে জানিয়েছেন মমতা। ভোটারদের নিশ্চিন্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর পর্বে ৬০ লক্ষাধিক নাম বিবেচনাধীন তালিকায় ছিল। এই নামগুলির নিষ্পত্তি করেছেন কলকাতা হাই কোর্ট নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা। এর পরেও যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই তাঁরা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত ট্রাইবুনালে আবেদন করেন। কিন্তু ভোটের দিন এগিয়ে এসেছে। নিয়ম মেনে ‘ফ্রিজ়’ করে দেওয়া হয়েছে ভোটার তালিকা। ফলে বাতিল ভোটারেরা ট্রাইবুনালে ছাড়পত্র পেলেও, সেখানে যোগ্য বলে বিবেচিত হলেও তাঁদের ভোট দেওয়া নিয়ে সংশয় তৈরি হয়। সুপ্রিম কোর্টে এই সংক্রান্ত মামলা চলছিল। বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, ভোটের দু’দিন আগে ট্রাইবুনাল ছাড়পত্র দিলেও ভোট দেওয়া যাবে। আদালতের এই সিদ্ধান্তেই খুশি মমতা।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Mamata Banerjee Supreme Court Tribunal SIR
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy