লিয়েন্ডার পেজ়, বিজেন্দ্র সিংহের মতো ব্যক্তিত্বের উপস্থিতিতে কলকাতায় আয়োজিত বিজেপির কর্মসূচিকে কটাক্ষ করল তৃণমূল। অভিযোগ, যুবশক্তি কার্ডের পরিবর্তে মাতৃশক্তি কার্ড যুবদের হাতে তুলে দিয়েছেন লিয়েন্ডারেরা। তার ছবিও বিজেপির পেজ থেকে পোস্ট করা হয়েছিল। তৃণমূলের দাবি, পরে সেই ছবি মুছে ফেলা হয়েছে।
২০২৬ সালের নির্বাচনী ইস্তাহারে বিজেপি মহিলা এবং যুবদের মাসে ৩০০০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এলে তারা এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত করবে। মহিলাদের মাসিক অনুদানের প্রচারে আগেই ‘মাতৃশক্তি কার্ড’ প্রকাশ করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার ‘যুবশক্তি কার্ড’ প্রকাশের কর্মসূচিতে ছিলেন টেনিস তারকা লিয়েন্ডার এবং বক্সার বিজেন্দ্র। ‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’ প্রকাশ করেন তাঁরা। যুবদের হাতে তুলে দেওয়া হয় সেই কার্ড। কিন্তু অভিযোগ, কিছু কার্ডের উপর ‘যুবশক্তি’র পরিবর্তে ‘মাতৃশক্তি’ লেখা ছিল। তৃণমূলের দাবি, যে কার্ড আগের দিন প্রকাশ করা হয়েছে, সেই কার্ডই বৃহস্পতিবার যুবদের হাতে তুলে দিয়েছে বিজেপি। পরে ‘ভুল’ বুঝতে পেরে সমাজমাধ্যম থেকে সেই ছবি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
বিজেপির ‘যুবশক্তি কার্ড’কে ‘জুমলা’ বলে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল। ফাঁপা প্রতিশ্রুতি বোঝাতে ওই শব্দ ব্যবহার করা হয়। তৃণমূলের তরফে ব্যঙ্গ করে বলা হয়েছে, ‘‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন তাঁর বক্তৃতায় বলে থাকেন, বিজেপি আসলে ঠগ্বাজ, চোর এবং প্রতারকদের দল।’’
উল্লেখ্য, ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পে মহিলাদের মাসে ১৫০০ টাকা করে দেওয়ার কথা ভোটের আগে ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তফসিলি জাতি-উপজাতিদের জন্য ওই অর্থের পরিমাণ মাসে ১৭০০ টাকা। এ ছাড়া, রাজ্যের ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি বেকার তরুণ-তরুণীর জন্য মাসে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সাহায্যের ‘যুবসাথী’ প্রকল্পও ঘোষণা করেছে তৃণমূল সরকার। বিজেপির ইস্তাহারে এই দুই প্রকল্পের ‘অনুকরণ’ করা হয়েছে বলে দাবি করে তৃণমূল। এ বার বিজেপির ‘যুবশক্তি কার্ড’ প্রকাশের কর্মসূচিকেও কটাক্ষ করল রাজ্যের শাসকদল।
তৃণমূলের অভিযোগকে তেমন গুরুত্ব দিতে রাজি নয় বিজেপি। রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘আমাদের কর্মসূচিতে আমাদের কর্মীদের মাঝে আমরা কী বিলি করব, না করব, তাতে তৃণমূলের কী? এগুলো তো আমাদের দলীয় ব্যাপার। তৃণমূল কি পুরোপুরি ফলো-অন মোডে চলে গিয়েছে নাকি? বিজেপি নিজের কর্মসূচিতে কী বিলি করছে, তা নিয়ে ওদের কী বলার থাকতে পারে? এর পর যদি আমরা ছাত্রছাত্রীদের ডেকে টেস্ট পেপার বিলি করি, সেটা নিয়েও কথা বলবে। ওরা কী বলল না বলল আমাদের কিছু যায় আসে না।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত