তাঁকে নির্বাচনী জনসভা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাই কালীঘাট থানা-সহ কয়েকজন পুলিশ আধিকারিককে বদলি করা হয়েছে। এমনটাই দাবি করলেন ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার রাতে ভবানীপুরের ৭০ নম্বর ওয়ার্ডে পদ্মশিবিরের পথসভায় বিজেপি এবং তৃণমূলের কর্মীদের মধ্যে বচসা হয়। সেই সময় প্রচারসভা চলছিল ওই কেন্দ্রেরই তৃণমূল প্রার্থী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ঘটনার জেরে মুখ্যমন্ত্রী প্রচারসভা ছেড়ে বেড়িয়ে যান। দু’দলের সমর্থকদের নিরস্ত করতে হস্তক্ষেপ করে পুলিশ। তার কিছু আগে নির্বাচন কমিশন বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই বদলের কথা জানায়। শুধু কালীঘাট নয়, কলকাতার আরও দুই থানার ওসি-কেও বদলে দেয় কমিশন।
আর সেই প্রসঙ্গ টেনে পুলিশ প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “পুলিশকে বলব ভদ্র হয়ে যান। একদম ভদ্র হয়ে যান। সময় নেই বেশি। একদম ভদ্র হতে হবে আপনাদের। আপনারা আজকে যা করেছেন তার খেসারত আপনারা পেয়েছেন। আপনাদের লজ্জা নেই। মমতা ব্যানার্জি আমাকে চেনে, আপনাদের আমাকে চিনতে সময় লাগবে। প্রথম দিন আমি এসেছিলাম। প্রেমজিৎ বিশ্বাস নামে একজন পুলিশ আমাদের কার্যকর্তা অনিলকে ফোন করেছিল। আমি ওকে নিয়ে থানায় গিয়েছিলাম, তার পর থেকে প্রেমজিৎ বিশ্বাসের বাহাদুরি থেমে গিয়েছে।” এর পরই তিনি বলেন, “ওসি কালীঘাট পারমিশন দেননি তো আমাকে? চেয়ারটা থাকল? কী করে ছোটাতে হয়, ভবানীপুরের ওসিকে আমি বলে গেলাম।”
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, গত ২৯ মার্চ কালীঘাট থানার ওসি বদল করেছিল কমিশন। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উৎপল ঘোষকে কালীঘাট থানার ওসি করে আনা হয়। সেই নিয়োগের এক মাসের মধ্যেই উৎপলকে সরিয়ে দিল কমিশন। তাঁর জায়গায় কালীঘাট থানার নতুন ওসি করা হল গৌতম দাসকে। তিনি কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চে ছিলেন।
শুধু ওসি নয়, কালীঘাট থানার অতিরিক্ত ওসি-কেও বদলে দিয়েছে কমিশন। কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চের উত্তম পাইককে ওই দায়িত্বে আনা হয়েছে। এ ছাড়াও আলিপুর এবং উল্টোডাঙা মহিলা থানার ওসি-কেও বদলের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। আলিপুর থানার নতুন ওসি করা হয়েছে সুব্রত পাণ্ডেকে। আর উল্টোডাঙা মহিলা থানার ওসি-কেও বদল করল কমিশন। ওই থানার দায়িত্বে আনা হয়েছে চামেলি মুখোপাধ্যায়কে। তিনি আলিপুর থানার অতিরিক্ত ওসি ছিলেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত