Advertisement

নবান্ন অভিযান

জেলায় জেলায় গণনাকেন্দ্র এবং স্ট্রংরুমগুলিতে কড়া নিরাপত্তা, ‘ভোট আগলাতে’ পালা করে পাহারায় রাজনৈতিক দলগুলি

স্ট্রংরুমের পাহারা নিয়ে তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে চাপানউতর তুঙ্গে। এই আবহে বিভিন্ন জেলায় থাকা স্ট্রংরুম এবং গণনাকেন্দ্রগুলির নিরাপত্তা আরও আঁটোসাঁটো করেছে নির্বাচন কমিশন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ মে ২০২৬ ১৭:৪০
সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে স্ট্রংরুমের ভিতরে নজর রাখছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী এবং সমর্থকেরা।

সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে স্ট্রংরুমের ভিতরে নজর রাখছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী এবং সমর্থকেরা। ছবি: সংগৃহীত।

স্ট্রংরুমের পাহারা নিয়ে তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে চাপানউতোর তুঙ্গে। এই আবহে বিভিন্ন জেলায় থাকা স্ট্রংরুম এবং গণনাকেন্দ্রগুলির নিরাপত্তা আরও আঁটোসাঁটো করেছে নির্বাচন কমিশন। ইভিএমবন্দি ‘ভোট আগলাতে’ পালা করে স্ট্রংরুমের সামনে পাহারা দিচ্ছেন রাজনৈতিক দলগুলির কর্মী-সমর্থকেরা।

গত ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় রাজ্যের ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট হয়েছিল। ভোটের পর ইভিএম পৌঁছোয় নির্দিষ্ট স্ট্রংরুমে। সেই সময় থেকেই স্ট্রংরুমের বাইরে নজরদারি শুরু করেছিল রাজনৈতিক দলগুলি। তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রংরুমের ভিতরে ‘সন্দেহজনক গতিবিধির’ অভিযোগ তোলে তৃণমূল। স্ট্রংরুমের বাইরে অবস্থানে বসেন বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ এবং শ্যামপুকুরের শশী পাঁজা। তারই মধ্যে মমতা পৌঁছে যান দক্ষিণ কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের ভোটগণনা কেন্দ্রের স্ট্রংরুমে। ওই ঘটনার পর বৃহস্পতিবার রাত থেকেই জেলায় জেলায় রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে তৎপরতা দেখা যায়। বহু জায়গায় ঝড়বৃষ্টির মধ্যেই স্ট্রংরুমের সামনে হাজির হন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। পাল্টা জমায়েত করেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরাও।

কোচবিহারে মোট পাঁচটি গণনাকেন্দ্র ন’টি বিধানসভার ভোটগণনা হবে। জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, আপাতত প্রতিটি গণনাকেন্দ্রে দ্বিস্তরীয় নিরাপত্তা রয়েছে। গণনার দিন ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে। বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা যে সমস্ত কর্মীকে পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছেন, তাঁদের বিশেষ অনুমতিপত্র দেওয়া হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী তথা দিনহাটার তৃণমূল প্রার্থী উদয়ন গুহ বলেন, “আধ ঘণ্টা করে তিনটি শিফ্‌টে আমাদের লোক সর্বক্ষণ নজরদারি করছে।” অপর দিকে বিজেপির জেলার সহ-সভাপতি বিরাজ বসু বলেন, “আমাদের দলের পক্ষ থেকে প্রতিটি গণনাকেন্দ্রে দু’জন করে লোক তিনটি শিফ্‌টে ২৪ ঘণ্টা নজর রাখছে।”

বাঁকুড়া জেলার ১২টি বিধানসভা কেন্দ্রের ইভিএম রাখা হয়েছে জেলার তিনটি স্ট্রংরুমে। স্ট্রংরুমে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা রয়েছে। স্ট্রংরুমের একেবারে সামনের দু’টি স্তরে নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। স্ট্রংরুম চত্বরের বাইরে নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে রাজ্য পুলিশ। ২৪ ঘণ্টা সিসি ক্যমেরার মাধ্যমে স্ট্রংরুমে নজরদারি চালাচ্ছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী এবং প্রার্থীরা। নদিয়া জেলার গণনাকেন্দ্র এবং স্ট্রংরুমগুলিও নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। প্রতিটি স্ট্রংরুমের দরজার সামনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর দু’জন সশস্ত্র জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে। সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে প্রতিটি গতিবিধির উপর ২৪ ঘণ্টা নজর রাখা হচ্ছে। সেই সঙ্গে ভিডিয়োগ্রাফির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে প্রতিটি ঘরে। নদিয়ায় প্রতিটি গণনাকেন্দ্রের বাইরে বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীরা তাঁবু খাটিয়ে বা নির্দিষ্ট অস্থায়ী আস্তানায় পালা করে পাহারা দিচ্ছেন। অনেক জায়গায় প্রশাসন অনুমোদিত সিসিটিভি ফুটেজের ডিসপ্লেতে সরাসরি নজর রাখছেন বিজেপি, তৃণমূল, বাম এবং কংগ্রেস কর্মীরা।

হুগলি জেলার ১৮টি কেন্দ্রের ভোটগণনা হবে চারটি মহকুমায়।তার জন্য কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে কমিশনের তরফে। পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকে ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। এই জেলাতেও রাজনৈতিক দলের কর্মীরা পালা করে সিসি ক্যামেরার ফুটেজের উপর সর্ব ক্ষণ নজর রাখছেন। হাওড়ার স্ট্রংরুমগুলিতেও ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা রয়েছে। বাইরে বসানো হয়েছে একাধিক সিসি ক্যামেরা। সেই সিসি ক্যামেরার ফুটেজের উপর নজর রাখার জন্য তৈরি করা হয়েছে ‘মনিটারিং রুম’। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এজেন্টরা ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালাচ্ছেন। শুক্রবার হাওড়া ময়দানের যোগেশচন্দ্র গার্লস স্কুলে স্ট্রংরুম পরিদর্শনে যান বিদায়ী সরকারের মন্ত্রী তথা মধ্য হাওড়া বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী অরূপ রায়।

শুক্রবারও স্ট্রংরুমের সুরক্ষা নিয়ে বিক্ষিপ্ত কিছু ঝামেলার খবর এসেছে। পূর্ব মেদিনীপুরের এগরায় পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখিয়েছে তৃণমূল। তৃণমূলের অভিযোগ, এগরা থানার আইসি সম্পূর্ণ বেআইনি ভাবে পটাশপুরের বিজেপি প্রার্থী তপন মাইতিকে স্ট্রংরুমের ভিতরে নিয়ে গিয়েছিলেন। তার পরেই আইসিকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখানো হয়। ওই জেলারই হলদিয়ায়, ডিসিআরসি সেন্টারে এক মহিলা ভুয়ো পরিচয়পত্র নিয়ে ভিতরে ঢোকেন বলে অভিযোগ তৃণমূলের। তৃণমূলের বক্তব্য, ওই মহিলা নিজেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি দফতরের কর্মী বলে পরিচয় দেন। পরে দেখা যায়, তার ওই পরিচয়পত্রটি ভুয়ো। এই ঘটনায় কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে তৃণমূল। সিসি ক্যামেরার একটি ফুটেজও প্রকাশ্যে এনেছে তারা। যদিও এই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম। প্রসঙ্গত, হলদিয়ার স্ট্রংরুমেই নন্দীগ্রাম-সহ পূর্ব মেদিনীপুরের একাধিক বিধানসভার ইভিএম রাখা হয়েছে।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Strong Room ECI Election Commission
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy