নির্বাচনী জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
সবকা সাথ সবকা বিকাশ, আর যারা বাংলাকে লুট করেছে তাদের সকলের হিসাব নেওয়া হবে।
পিএম শব্দটিকে তো তৃণমূল সহ্য করতেই পারে না। এই পিএম শব্দ মোদীর পরিবারের শব্দ নয়। এই শব্দ ভারতের সংবিধানের দেওয়া। আর দেশের নাগরিকদের আশীর্বাদের ফলে পাওয়া যায়। কৃষক, গরিব, আদিবাসী, শ্রমিকদেরও পছন্দ নয় তৃণমূলের। বিজেপি সরকারের যে সব প্রকল্পে পিএম শব্দ রয়েছে, ওই প্রকল্পের সুবিধাই নিতে দেয় না এই সরকার।
তৃণমূল কী ভাবে মনরেগার নামে গরিব, দলিত, আদিবাসী পরিবারকে ঠকিয়েছে আপনারা জানেন। কেন্দ্রীয় সরকার আইন নিয়ে এসেছে। গরিবদের রোজগার দেব। কৃষক, মৎস্যজীবীদের নতুন সুবিধা মিলবে। গ্রামে ১২৫ দিনের রোজগার মিলবে। কাজের পুরো টাকা আপনাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে যাবে। কোনও সিন্ডিকেট হাত লাগাতে পারবে না। কোনও কাটমানি নয়, সিন্ডিকেট নয়। এটা মোদীর গ্যারান্টি।
তৃণমূল এখানে গলি গলিতে তাজা বোমার কারাখানা তৈরি করছে। এটিকে তৃণমূল সরকার ক্ষুদ্রশিল্পে পরিণত করেছে। রাজ্যে ক্ষুদ্রশিল্প বন্ধ হয়েছে। তাজা বোমার কারখানা তৈরি হচ্ছে। এই সব বন্ধ হয়ে যাবে।
কেন্দ্রীয় সরকার রোজগার মেলার আয়োজন করে। যেখানে বিজেপি সরকার, সেখানে এই মেলার আয়োজন করা হয়। গত আড়াই বছরে ৭০ লক্ষের বেশি সরকারি চাকরি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে চাকরি লুটের খেলা চলছে।
কথা দিয়ে যাচ্ছি, বাংলাকে ভয়মুক্ত করব। এখানে এক এক করে স্কুল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যেখানে স্কুল বন্ধ, ভবিষ্যৎ বন্ধ। বাংলা চায় ভয় নয়, ভরসা। তৃণমূলের নির্মম সরকারে বিদায় দেবে বাংলার যুবশক্তি।
গত বছরের ঘটনা আপনাদের সকলের মনে আছে। বীরভূমে স্কুলে এক আদিবাসী মেয়ের সঙ্গে যা হয়েছে, তা বিচলিত করার মতো। যাঁরা নিজেদের মেয়েদের হারিয়েছেন, কোনও টাকাপয়সা তা পূরণ করতে পারবে না। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের ঘটনাও নিশ্চয়ই আপনাদের মনে আছে।
মাননীয় রাষ্ট্রপতি এ রাজ্যে এসেছিলেন। সাঁওতাল সমাজের একটি অনুষ্ঠানে এসেছিলেন তিনি। যে সরকারই থাকুক না কেন, রাষ্ট্রপতিকে উচিত সম্মান দেওয়া সাংবিধানিক দায়িত্ব। কিন্তু এই অহংকারী তৃণমূল সরকার দেশের রাষ্ট্রপতিকেও সম্মান করেনি।
অনুপ্রবেশকারীদের তাড়ানো হবে। অনুপ্রবেশকারীদের মাথাদের জেলে ভরা হবে। অনুপ্রবেশকারীরা স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে কাজ ছিনিয়ে নিচ্ছে। আর স্থানীয়দের বাইরে কাজে যেতে হচ্ছে। আর এই দিন চলবে না। মালদহে কী ঘটেছে গোটা দেশ দেখেছে। বিচারকদের বন্ধক বানানো হয়েছিল। বাংলায় ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এই ভয় থেকে বাংলার মানুষকে মুক্তি দেওয়ার প্রয়োজন।
আমাদের এই বীরভূম বাউল সঙ্গীতের মাটি। এখন এখানে একটা শব্দ, গান বা আওয়াজ শোনা যাচ্ছে, ‘পাল্টানো দরকার’। তৃণমূলের জঙ্গলরাজের সাক্ষী বীরভূম। বগটুইয়ে যা হয়েছে ,তা শুধু একটি ঘটনা নয়। সেটি মানবতার কলঙ্ক। এটা জঙ্গলরাজ নয় তো কী? এই মহাজঙ্গলরাজের শেষ হওয়া দরকার।
‘জয় মা তারা’, ‘জয় নিতাই’ বলে ভাষণ শুরু করলেন মোদী। এই মাটি অনেক মণীষীদের। ওই বীরভূমেই পরিবর্তনের ঝড় আসতে চলেছে। এই যে বিশাল সমাগম, এটা দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে, ঝড় আসছে। হেলিকপ্টার থেকে দেখছিলাম, কত উৎসাহ নিয়ে এখানে আপনারা এসেছেন। আমাকে আশীর্বাদ করবেন।
সিউড়ির জনসভায় আসার আগে মোদী তাঁর এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘‘বীরভূমে জনসভা করতে যাচ্ছি।’’ জনসভায় ভিড়ের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। সেই ভিড়ের একটি ছবি পোল্ট করে তিনি লেখেন, ‘‘আমাদের আর্শীবাদ করতে অগণিত মানুষ হাজির হয়েছেন সভায়।’’
হলদিয়ার সভা থেকে মোদী ছয় গ্যারান্টির কথা বলেছেন। শুধু তা-ই নয়, যার যা অধিকার, সেটাই বিজেপি দেবে বলে দাবি করেন তিনি। অন্য দিকে, আসানসোলের সভাতেও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, তৃণমূল সরকারকে পাল্টানো দরকার। ৪ মে-র পর বাংলা উন্নয়নের এক নতুন যুগে প্রবেশ করবে বলেও দাবি করেন মোদী।
আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল ভোট পশ্চিমবঙ্গে। তার আগে রাজ্যে এসে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই ভোটের মরসুমে এই নিয়ে দ্বিতীয় বার পশ্চিমবঙ্গে এলেন মোদী। বৃহস্পতিবার তিনি প্রথম সভা করেন হলদিয়ায়। তার পর আসানসোলে। সব শেষে সিউড়িতে জনসভা করছেন প্রধানমন্ত্রী। হলদিয়ার সভা থেকে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রী একসঙ্গে কাজ করলেই বাংলার লাভ, তাই রাজ্যে চাই ডবল ইঞ্জিন সরকার।”
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy
We will send you a One Time Password on this mobile number or email id
Or
By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy