পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন ঘোষিত হওয়ার পরে প্রথম জনসভা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। কিন্তু রাজ্য বিজেপির অন্যতম ‘পোস্টারবয়’ শুভেন্দু অধিকারী সেখানে অনুপস্থিত! রবিবার কোচবিহারের রাসমেলা ময়দানে প্রধানমন্ত্রীর সভামঞ্চে শুভেন্দুর জন্য আসনও নির্দিষ্ট ছিল বলে বিজেপি সূত্রের দাবি। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা রবিবার ব্যস্ত রইলেন নিজের জেলায় তথা নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র নন্দীগ্রামে। কেন শুভেন্দু নেই কোচবিহারে? বিজেপি সূত্রের দাবি, রাজ্য বিজেপি-র সংগঠন সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তীর তরফ থেকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পৌঁছয়নি শুভেন্দুর কাছে।
দলের ঘোষিত প্রথা অনুযায়ী শুভেন্দু পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি-র দুই প্রধান মুখের অন্যতম। যে সব রাজ্যে বিজেপির সরকার রয়েছে, সেখানে মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্য সভাপতির ছবি বিজেপি-র যে কোনও পোস্টার-ব্যানারে রাখা আবশ্যিক। আর যে সব রাজ্যে দল ক্ষমতায় নেই, সেখানে রাজ্য সভাপতির পাশাপাশি আবশ্যিক বিরোধী দলনেতার ছবি। ঠিক যেমন সর্বভারতীয় স্তরে প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং সর্বভারতীয় সভাপতির ছবি থাকাও আবশ্যিক। সুতরাং পশ্চিমবঙ্গে শমীক ভট্টাচার্য এবং শুভেন্দুই এখন দলের প্রধান দুই মুখ। শমীক কোচবিহারের সভায় রবিবার ছিলেন। বস্তুত, এক দিন আগেই কোচবিহারে পৌঁছে তিনি জনসভার প্রস্তুতির দেখভালও করেছেন। রাজ্য বিজেপি-র প্রাক্তন সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারও নির্বাচনী কাজে উত্তরবঙ্গেই ছিলেন। রাজ্য বিজেপি-র রাজনৈতিক বিভাগের প্রধান এবং মোদী মন্ত্রিসভার সদস্য হিসাবে তিনিও সভায় উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু শুভেন্দুকে রবিবার মোদীর মঞ্চে দেখা যায়নি। যা নিয়ে দলের ভিতরে-বাইরে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে।
বিজেপি সূত্র বলছে, সংগঠন সম্পাদক অমিতাভের ‘গাফিলতি’র জেরে এই ঘটনা ঘটেছে। এই ধরনের বৃহৎ কর্মসূচির ক্ষেত্রে সংগঠন সম্পাদক বা তাঁর দফতরের তরফেই শীর্ষনেতাদের কাছে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ যায়। কোচবিহারে মোদীর সভায় হাজির থাকার জন্য শুভেন্দুর কাছেও তাঁর তরফেই আমন্ত্রণ যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সে আমন্ত্রণ পৌঁছয়নি বলে বিজেপি-র একটি সূত্রের দাবি।
আরও পড়ুন:
শুভেন্দু নিজে এ বিষয়ে কোথাও মুখ খোলেননি। রবিবার তিনি নন্দীগ্রামেই প্রচার ও জনসংযোগে ব্যস্ত ছিলেন। অমিতাভের তরফে আমন্ত্রণ না-পৌঁছনোর জেরেই তিনি কোচবিহারের জনসভায় গরহাজির কি না, তা নিয়ে শুভেন্দুর ‘ঘনিষ্ঠ’ বৃত্তও মুখ খুলতে চায়নি। তবে ভোটের পশ্চিমবঙ্গে দলের যে ‘মুখ’কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন নেতৃত্ব, নির্বাচন ঘোষণার পরে মোদীর প্রথম জনসভায় সেই শুভেন্দুর গরহাজিরা অনেকের চোখে লেগেছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
গত মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে দু’দিনের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসেছিলেন বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। দু’দিন ধরে রাজ্য বিজেপি-র শীর্ষ নেতৃত্বকে সঙ্গে নিয়ে দলের নানা স্তরের প্রতিনিধির সঙ্গে নিতিন দফায় দফায় বৈঠক করেন। কিন্তু সে বৈঠকগুলির জন্য সুকান্ত আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পাননি। এ রাজ্যের আর এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরও আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পাননি। ফলে নিতিনের বৈঠকগুলিতে দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলেন না। তখনও অভিযোগ উঠেছিল অমিতাভের বিরুদ্ধেই।
এমনই আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অমিতাভের কাছ থেকে ‘সময় মতো’ আমন্ত্রণ না-পাওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ মনোজ টিগ্গা। প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে দিল্লিতে বিজেপি-র জাতীয় নির্বাচন কমিটির যে বৈঠকগুলি গত মাসে হয়েছে, সেগুলির সবক’টিতেই মনোজের হাজির থাকার কথা ছিল। কিন্তু একটি বৈঠকের খবর মনোজকে এতটাই দেরিতে জানানো হয় যে, ডুয়ার্সের মাদারিহাটে নিজের গ্রামের বাড়ি থেকে দিল্লি পৌঁছে বৈঠকে যোগ দেওয়ার কোনও উপায়ই তখন মনোজের ছিল না। এ বিষয়ে অমিতাভের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তিনি ফোন ধরেননি। হোয়াটস্অ্যাপ বার্তার জবাবও দেননি। অমিতাভের প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা এই প্রতিবেদনে যোগ করা হবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত