তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।
মমতা বলেন, “আজ কলকাতাকে বলছে ঝুপড়ি? কলকাতাকে ঝুপড়ি বানিয়েছি আমি? এটা কলকাতার অসম্মান নয়? অপমান নয়? এই কলকাতায় আলো পর্যন্ত ছিল না। লোডশেডিংয়ের সকাল, লোডশেডিংয়ের দুপুর, লোডশেডিংয়ের বিকেল, লোডশেডিংয়ের রাত। এখন আর লোডশেয়িং নেই। গর্ব করে বলুন।”
মমতা বলেন, “কাল নৌকাবিহার (করেছে)। ওটা তো আর্মির নৌকা। নেভির। ও-ও তো সাজিয়ে গুজিয়ে।” তৃণমূলনেত্রী আরও বলেন, “আলিপুর চিড়িয়াখানায় যান। আমি গত ১০ বছর আগে একটা বুলেটপ্রুফ কাচ দিয়ে একটা বাঘের খাচা করে দিয়েছি। সেখানে যে কেউ দাঁড়ালে বাঘের সঙ্গে ছবি তুলতে পারে। আমাকে এ সব দিয়ে ভুল বোঝানো যাবে না।”
মমতার সভা চলাকালীন বেহালায় অসুস্থ হয়ে পড়েন এক তৃণমূল সমর্থক। তাঁকে সভাস্থল থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন তৃণমূলনেত্রী।
মমতা বলেন, “২০২৫ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে আমাদের সাংসদেরা প্রশ্ন করেছিল। জানতে চেয়েছিল, রোহিঙ্গা, বাংলাদেশি-সহ কত অনুপ্রবেশকারী সারা ভারতে আছে? উত্তর ছিল, দু’হাজার সামথিং। প্রথমে বলল, রোহিঙ্গা। একটাও রোহিঙ্গা এখানে আসেনি। যদি ঢুকে থাকে, আপনি ঢুকিয়েছেন।”
মমতা বলেন, “আমি একটা টুইট করলেও দেখে নিই সেটা ফেক কি না। এআই থেকে আজকাল অনেকেই ফেক নিউজ় করে। এই তো আজকেই দেখছিলাম, আমাকে একজন পাঠিয়েছে। আমাদের একজন প্রার্থী নাকি বলছে, আমি তো জিতব না। কেউ বলতে পারে নিজে দাঁড়িয়ে আমি তো জিতব না? টোটাল আর্টিফিশিয়াল এজেন্সিকে দিয়ে ফেক করে।”
মমতা বলেন, “কলকাতাকে হেরিটেজ টাউন করে দেব বলে হোর্ডিং লাগাচ্ছে। ওরে ওটা আমরা করে দিয়েছি। জানেই না। অর্ধশিক্ষিত। কলকাতাকে ইউনেসকো হেরিটেজ করার জন্য আমাদের সঙ্গে ২০২৫ সাল থেকে আলোচনা চলছে।” এর পরে একটি নথি দেখিয়ে মমতা বলেন, “এটা ২০২৫ থেকে আলোচনা চলছে। আর অর্ধসত্যির দল, শুধু মিথ্যা কথা বলে।”
মমতা অভিযোগ তোলেন, “এক বিএলও এক বয়স্ক মহিলার পোস্টাল ব্যালট নিতে গিয়েছিল। তিনি পোস্টাল ব্যালট নিয়ে নিজের ব্যাগে ঢুকিয়েছে। ওরা তো জানে না গ্রামের লোকেরা খুব চালু হয়। ওরা জিজ্ঞেস করছে, আপনি কেন এটা ব্যাগে ঢোকালেন? বলে, ইনস্ট্রাকশন আছে। সঙ্গে সঙ্গে ঘেরাও করেছে। বিডিও-কে ফোন করেছে। তার পরে জানতে পেরেছে, এমন কোনও ইনস্ট্রাকশন নেই। কল্পনা করতে পারেন কী চলছে? এটা বিজেপির ইনস্ট্রাকশন।”
মমতা বলেন, “আপনারা জানেন আমি বেহালার মিটিংটা শেষ দিন করি। কিন্তু আমার কাছে কিছু ইনফরমেশন আছে। সেই জন্য আমি আগে করে নিলাম। সেটা আমি এখন আর বলছি না। এরা প্রধানমন্ত্রীর সভা যে শেষ হয়ে যায়, সেই সব শেষ করে দেয়। কিন্তু আমি শুনলাম ওনার নাকি ২৭ তারিখে মিটিং আছে।”
মমতা বলেন, “দু’দিন আগেও ইলেকশনে আমরা সেঞ্চুরি পার করেছি। নেক্সট ইলেকশনে আপনাদেরও সেঞ্চুরি পার করাতে হবে। নেক্সট দায়িত্বটা আপনাদের নিতে হবে।”
মমতা বলেন, “লজিস্টিক্যাল ডিসক্রিপেন্সিটা কী! কই বিহারে তো হল না, ওড়িশায় হল না, রাজস্থানে হল না। তোমার রাজ্যে হল না। পশ্চিমবঙ্গে কেন হল? কারণ পশ্চিমবঙ্গের উপর তোমাদের রাগ আছে। তোমরা বাংলাবিদ্বেষী।”
মমতা বলেন, “আজ জিনিসপত্রের দাম কত বেড়ে গিয়েছে। আজ দেখছিলাম, অফিসযাত্রী, বাইরের যাত্রীরা রাস্তায় রাস্তায় মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এটা কেন হচ্ছে? এখন তো আমাদের হাতে নেই। সব বাস তুলে নেওয়া হয়েছে। বেশির ভাগ মোটরগাড়ি তুলে নেওয়া হয়েছে। বাইকও বন্ধ করে দিয়েছিল। ওটা তো আমরা চালু করিয়েছি কোনওরকমে। তা-ও কোর্টে কেস করে। সব বন্ধ করে দেবে। যাতে মানুষ অফিসে, হাসপাতালে যেতে না পারে। বলছে পুলিশের পারমিশন নিতে হবে। যদি আপনার বাবা-মা অসুস্থ হয়ে পড়েন, তখন পারমিশন নিতে হবে? তত ক্ষণে তো হার্ট অ্যাটাকের রোগী মারা যাবে!”
মমতা বলেন, “এ বারের লড়াইটা গণতন্ত্রের লড়াই। বিজেপি নামক একটা অপদার্থ পার্টি, যারা বিধর্মী, ধর্ম মানে না। রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব, স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নজরুল ইসলাম, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে মানে না। যারা রাজা রামমোহন রায়ের স্বপ্ন জানে না। যারা গান্ধীজিকে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প থেকে বাদ দেয়। যারা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে সন্ত্রাসবাদী বলে, তাদের আমি ধিক্কার জানাই।”
মেট্রো প্রকল্পের কাজে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ভূমিকার কথা বললেন মমতা। মেট্রোর কাজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “স্টেশন করার জমি ছিল না। তখন মেয়র ছিল শোভন। আমাকে তখন অনেক হেল্প করেছিল জমি কিনতে। বিশেষ করে স্টেশনগুলি করতে, জমি পেতে এবং এই মেট্রো তৈরি করার জন্য, দু’পাশের রাস্তা আরেকটু বাড়িয়ে দিতে— সবটায় আমাকে অনেক সাহায্য শোভন করেছিল। আমি যখন কোনও কাজ করি, সকলের কথাই মনে রাখি।”
মমতা বলেন, “বেহালা আসলে আমার খুব গর্ব হয়। কেন জানেন? এই মেট্রোরেলটা আমি পুরো করে দিয়েছিলাম। উদ্বোধনটাও করেছিলাম। কাজও চালু করে গিয়েছিলাম।”
ভবানীপুরের জোড়া সভা শেষ করার পরে বেহালার চৌরাস্তায় একটি জনসভা রয়েছে মমতার। সেখানে বেহালা পশ্চিমের প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায় এবং বেহালা পূর্বের প্রার্থী শুভাশিষ চক্রবর্তীর সমর্থনে সভা করবেন তিনি।
ভোটের প্রচারে শনিবার ঠাসা কর্মসূচি রয়েছে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। প্রথমে হুগলির উত্তরপাড়ায় তৃণমূল প্রার্থী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে একটি জনসভা করেন মমতা। সেখান থেকে তিনি পৌঁছে যান উত্তর ২৪ পরগনার বিরাটিতে। সেখানে দমদম উত্তর কেন্দ্রের প্রার্থী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের সমর্থনে একটি পদযাত্রা করেন তিনি। বিকেলে নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরেও পদযাত্রা করেন এবং দু’টি জনসভা করেন। ভবানীপুরের কর্মসূচির পর বেহালায় একটি জনসভা রয়েছে মমতার।
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy
We will send you a One Time Password on this mobile number or email id
Or
By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy