বিমান চালাচ্ছিলেন তরুণী পাইলট। যান্ত্রিক গোলযোগে উড়ে গেল বিমানের ছাদ। তার পরেও সাহস হারালেন না তিনি। তীব্র বাতাসের সঙ্গে মোকাবিলা করে সাবধানে অবতরণ করালেন বিমানটিকে। ঘটনাটি ঘটেছে নেদারল্যান্ডে। ওই ডাচ পাইলটের একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
ইন্টারনেটে ভাইরাল ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, আকাশে একটি এক-আসনের (সিঙ্গেল-সিটার) ছোট বিমান চালাচ্ছিলেন এক তরুণী। কিন্তু মাঝপথে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন তিনি। হঠাৎই খুলে যায় ককপিটের ক্যানোপি বা বিমানের মাথার স্বচ্ছ ছাদ। ছাদের ঢাকনা খুলে এক দিকে চলে আসে। ক্যানোপিটি খোলার সঙ্গে সঙ্গেই তীব্র বাতাসের ঝাপটায় টালমাটাল পরিস্থিতি হয় তরুণী পাইলটের। শুরু হয় তাঁর সাহসিকতার প্রকৃত পরীক্ষা। মাথা ঠান্ডা করে বিমান চালাতে থাকেন তিনি। তীব্র বাতাসের মধ্যেও নিজেকে সামলে নেন এবং বিমানটি নিরাপদে অবতরণের দিকে মনোযোগ দেন। ক্যানোপি খুলে যাওয়ার পর পরবর্তী প্রায় দু’মিনিট ধরে তিনি বাতাসের সঙ্গে লড়াই করতে থাকেন এবং বিমানবন্দরটি খুঁজে বার করার চেষ্টা করেন। এর পর পূর্ণ দায়িত্ববোধ ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে তিনি বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করান। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে। জেটটি অবতরণের পর সামনের দিকে তাকাতে কিছুটা সমস্যা হলেও শারীরিক ভাবে সম্পূর্ণ সুস্থই ছিলেন তরুণী পাইলট। পরে জানা যায়, তীব্র বাতাসের কারণে তাঁর চোখে সমস্যা হয়েছিল এবং সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেতে ২৯ ঘণ্টা সময় লেগেছিল।
আরও পড়ুন:
ভাইরাল সেই ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে ‘শনওয়ে০০১’ নামের এক্স হ্যান্ডল থেকে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। ভিডিয়োটি দেখার পর নেটাগরিকদের অনেকে যেমন বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, তেমনই আবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে। তরুণী পাইলটের প্রশংসাতেও পঞ্চমুখ হয়েছেন নেটাগরিকদের একাংশ। তাঁর সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন। এক নেটাগরিক ভিডিয়োটি দেখার পর লিখেছেন, ‘‘চরম চাপের মুখেও এমন শান্ত ও অবিচল থাকা সত্যিই বিস্ময়কর। যেন সত্যিকারের সিংহী! তরুণী পাইলটকে কুর্নিশ জানাচ্ছি।’’